১) ভূমিকায়: “Here comes the Myth in motion” — ঘোষণার তাৎপর্য
ঘোষণা হলো এক নতুন অধ্যায়ের—এই এক লাইনে আছে পুরো প্রজেক্টের মুড সেটার। “Myth in motion” শুধু একটি ট্যাগলাইন নয়, বরং একটি প্রতিশ্রুতি: ঢাকার কংক্রিটের গোলকধাঁধায় এক ‘লেজেন্ড’ মিথ্যে নয়, বাস্তবেই চলতে চলতে গড়ে উঠবে। #PRINCE: Once Upon A Time In Dhaka নামেই ন্যারেটিভের ইঙ্গিত—‘Once Upon A Time’ ক্লাসিক ফেয়ারিটেল ওপেনার; কিন্তু সেটিংটি Dhaka, যা মেট্রোপলিসের রাফ-এজ, পাল্স এবং কনফ্লিক্টকে সামনে আনে। ঘোষণার ভাষ্যে “শহর চিনবে তার আসল নায়ককে”—এই লাইনটি শহরের সাথে নায়কের পারস্পরিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। শহর যেনো একটি চরিত্র; আর সেই চরিত্রের সঙ্গে মুখোমুখি ‘প্রিন্স’।
এখানে ব্র্যান্ডিংয়ের তিনটি স্তর দেখা যায়: (১) মিথোলজি–মিটস–মডার্ন—লোককথার মতো বড় ক্যানভাস, কিন্তু স্ট্রিট-রিয়্যালিটি যুক্ত; (২) সিটি অ্যাজ ক্যারেক্টার—ঢাকা শুধু লোকেশন নয়, ড্রামাটার্জির অংশ; (৩) হিরো অ্যাজ লেজেন্ড—তার আগমন শহরের ব্যালেন্স বদলে দেয়। ঘোষণার টেক্সটুয়াল রিদম, আগুনের ইমোজি (🔥), এবং ইংরেজি-বাংলার মিশ্রণ—সব মিলে হাই-ইমপ্যাক্ট সোশ্যাল লঞ্চ। এমন টোন-সেটিং ভবিষ্যৎ মার্কেটিং কন্টেন্ট (টিজার, ট্রেলার, BTS) রিসিভ করার জন্য দর্শককে প্রস্তুত করে।
২) ডুয়াল-ল্যাং টাইটেল স্ট্র্যাটেজি: Prince ও “Once Upon A Time In Dhaka”
শিরোনামের দ্বিভাষিক গঠন (EN + BN) কেবল গ্ল্যামার নয়, এটি সচেতন SEO–ব্র্যান্ডিং কৌশল। “PRINCE”—শর্ট, মেমোরেবল, মার্চেন্ডাইজ-ফ্রেন্ডলি; হ্যাশট্যাগে (#Prince) শেয়ারেবিলিটি চূড়ায় ওঠে। “Once Upon A Time In Dhaka”—একটি ইমাজিনেটিভ সাবলাইন, যা জঁরের ইঙ্গিত দেয়: আরবান মাইথ, নস্টালজিয়া, এবং শহুরে লোককাহিনি। এই টাইটেল জুটির ফলে আন্তর্জাতিক দর্শকের জন্যও discoverability বাড়ে; অন্যদিকে বাংলাদেশের হল সার্কিটে বাংলা ক্যাপশন সামাজিক শেয়ারিংয়ে হুক তৈরি করে।
টাইটেলের মধ্যে “Dhaka” রাখা হয়েছে জিও-আইডেন্টিটি হিসেবে, যা লোকালাইজেশনের সেরা টুল। শহরের নাম শুনলেই লোকে ট্রাফিক, নীল আকাশ, পুরান ঢাকার অলিগলি—এ সবকিছুর কোলাজ কল্পনা করে। সিনেমা যদি এ সিম্বলিজমকে ভিজ্যুয়াল-স্টোরিতে অনুবাদ করে, তাহলে ‘Once Upon A Time In…’ সিরিজ-ভাইব (হলিউড/বলিউড রেফারেন্স) থেকে নিজস্বত্বা বজায় রেখেই গ্লোবাল টোন অর্জন করা যায়।
৩) ফার্স্টলুক পোস্টার: শহর চিনবে তার আসল নায়ককে
থিমেটিক ফার্স্টলুক পোস্টার—এখানেই প্রচারের প্রথম ভিজ্যুয়াল স্টেটমেন্ট। পোস্টারের জয়গান “শহর চিনবে”—মানে, নায়ক শহরের চোখে নিজেকে প্রমাণ করবে; হয়তো অ্যাকশন-ইন্সিডেন্টের পর শহরের ন্যারেটিভ বদলে যাবে। গ্রিটি টেক্সচার, কন্ট্রাস্টি লাইট, স্মোকি-হিউ বা অ্যাম্বার-শেড—এসব এলিমেন্ট সাধারণত আরবান-লেজেন্ড টোন গড়ে। যদি টাইপোগ্রাফিতে কাস্টম লোগো-স্টাইল (PRINCE) ব্যবহার হয়, সেটি মার্চেন্ডাইজ এবং ট্রেলার-কার্ডে রিপিটেবল ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিফায়ার বানাবে।
পোস্টারের কপি লাইনে ইংরেজি–বাংলা দ্বৈততা—এটি শেয়ারেবিলিটি ও রিচ বাড়ায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কমিউনিটি পোস্টে এই ডুয়াল-টেক্সট ভিজ্যুয়াল সহজে ভাইরাল হতে পারে। মুভি পেজে ‘পিনড পোস্ট’ হিসেবে ফার্স্টলুক রেখে নিয়মিত drip marketing চালালে হাইপ ধরে রাখা যায়: পরের ধাপে মোশন পোস্টার, তার পর ক্যারেক্টার টিজার, শেষে টাইটেল ট্র্যাক স্নিপেট।
৪) স্টার পাওয়ার: মেগাস্টার শাকিব খান—বক্স অফিস ম্যাগনেট
শাকিব খান নামটাই এই প্রজেক্টের জন্য প্রাথমিক বক্স অফিস ইকুইটি। তার স্টারডমের সঙ্গে আরবান-লেজেন্ড টোন মিললে mass + class—দুই সেগমেন্টেই ট্র্যাকশন তৈরি হয়। স্টার ভেহিকেল ফিল্মে দর্শক তিনটি জিনিস চায়: (১) আইকনিক ইন্ট্রো/এন্ট্রি শট; (২) হাই-ইমপ্যাক্ট ডায়ালগ যা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটেবল; (৩) স্মরণীয় সেট-পিস—অ্যাকশন বা ইমোশনাল টার্নিং পয়েন্ট। যদি “Prince” চরিত্রটিকে শহরের ‘কিংমেকার’ বা ‘প্রোটেক্টর’ আর্কে লেখা হয়, তাহলে হিরোইক ইমেজ ফ্যানবেসকে সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শককেও আকর্ষণ করবে।
স্টার-পাওয়ারকে কন্টেন্ট-ড্রাইভেন মোমেন্টের সঙ্গে ব্যালেন্স করা জরুরি। সলো-শট, slow-mo, সিগনেচার থিম মিউজিক—এসব অবশ্যই থাকা দরকার; তবু গল্প যেনো শহরের ‘হৃদস্পন্দন’ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। কারণ পোস্টারের দাবিই বলছে: শহর নায়ককে চিনবে। অর্থাৎ, শহর যদি স্টেকহোল্ডার—তবে নাগরিকদের ছোট-বড় কনফ্লিক্ট, স্বপ্ন এবং ব্যর্থতার থ্রেডগুলো প্রোটাগনিস্টের আর্কে বোনা প্রয়োজন।
৫) ডিরেক্টর–প্রোডিউসার ভিশন: Abu Hayat Mahmud × Creative Land
পরিচালক Abu Hayat Mahmud—ঘোষণায় তার নামের উপস্থিতি সাম্প্রতিক ঢালিউডে একটি কারিগরি স্টেটমেন্ট হিসেবেও ধরা যায়: আরবান ভিজ্যুয়াল সেন্স, টাইট স্টোরিটেলিং, এবং গ্রাউন্ডেড ইমোশন—এই ত্রিভুজে ‘Prince’ কে দাঁড় করানোর সম্ভাবনা আছে। Creative Land প্রযোজনা মানে স্কেলিং, ব্র্যান্ডিং এবং ডেলিভারির জায়গায় পেশাদার কাঠামো প্রত্যাশিত। ফার্স্টলুকেই যদি ‘ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং’-এর ক্লু পাওয়া যায়—তাহলে পূর্ণ ট্রেলার পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রাখা সহজ হয়।
ডিরেক্টর–প্রোডিউসার জুটি যখন মিথ–মিটস–মেট্রো টোন সেট করে, তখন location scouting, production design, sound design—সবই শহরের ডিএনএ ধারণ করতে হবে। রুফটপ–অ্যালি–ওল্ড টাউন–রিভারফ্রন্ট—ঢাকার যত স্তর, তত ভিজ্যুয়াল লেয়ার। এই লেয়ারিং সফল হলে ‘Prince’ কেবল একটি হিরো ফিল্ম নয়; বরং “Dhaka-verse” টাইপের সিনেম্যাটিক মাইথোলজি হয়ে উঠতে পারে—যা সিক্যুয়েল/স্পিন-অফের দরজা খুলে দেয়।
নোট: ছবিটি ঘোষণা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর ২০২৬ এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্যে। অফিশিয়াল আপডেট, টিজার–ট্রেলার রিলিজ, এবং চূড়ান্ত কাস্ট/ক্রুর খবরের জন্য প্রোডাকশন হাউসের অফিসিয়াল পেইজ ফলো করুন।
>