ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য মোবাইল ফোন কেনায় নতুন সুবিধা | সংশোধিত নীতিমালা ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ফোন কেনায় নতুন সুবিধা চালু হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী পদভেদে কত টাকা ও কী সুবিধা মিলবে,
bank-officers-mobile-phone-facility-policy

ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য মোবাইল ফোন কেনায় নতুন সুবিধা (সংশোধিত নীতিমালা ২০২৬)

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারে এসেছে যুগোপযোগী ও আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত এক নতুন সুবিধা। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মোবাইল ফোন সেট সরবরাহ নীতিমালা হালনাগাদ করেছে, যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

এই সংশোধিত নীতিমালার মাধ্যমে কর্মকর্তা পর্যায়ভেদে মোবাইল ফোন কেনার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ অথবা সমমূল্যের ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন— বাংলাদেশে প্রথমবার রবির সাথে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা

সংশোধিত নীতিমালার অনুমোদন ও কার্যকারিতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সংশোধিত মোবাইল ফোন সেট সরবরাহ নীতিমালার অনুমোদন দেন। একই দিন থেকেই নতুন এই সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল ফোন সেট সরবরাহসংক্রান্ত নীতিমালা প্রথম চালু হয় ২০১৯ সালে (ই-এমডি-২/২০১৯)। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বাজারমূল্যের পরিবর্তনের কারণে নীতিমালাটি হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

কোন পদে কত টাকার মোবাইল ফোন সুবিধা?

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী কর্মকর্তা পর্যায়ভেদে মোবাইল ফোন কেনার জন্য সর্বোচ্চ অর্থসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • ডেপুটি গভর্নর: সর্বোচ্চ ১,৭০,০০০ টাকা
  • নির্বাহী পরিচালক: সর্বোচ্চ ১,৩০,০০০ টাকা
  • পরিচালক: সর্বোচ্চ ৭০,০০০ টাকা
  • অতিরিক্ত পরিচালক / সমপর্যায়ের কর্মকর্তা: ৫০,০০০ টাকা
  • যুগ্ম পরিচালক: ৩০,০০০ টাকা
  • উপপরিচালক: ২৫,০০০ টাকা
  • সহকারী পরিচালক (এন্ট্রি লেভেল): ২০,০০০ টাকা

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয়—
👉 সহকারী পরিচালকরা চাকরিতে যোগদানের পরপরই এই সুবিধার আওতায় আসবেন, যা নতুন কর্মকর্তাদের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

অর্থ নাকি মোবাইল সেট—দুটোরই সুযোগ

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তারা নিচের যেকোনো একটি বিকল্প বেছে নিতে পারবেন—

  • নির্ধারিত মূল্যের মোবাইল ফোন সেট
  • অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত হারে অর্থ বা ডিভাইস সুবিধা প্রদান করবে।

পছন্দের ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা

এই নীতিমালার আরেকটি বড় সুবিধা হলো—কর্মকর্তারা নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন কিনে ব্যবহার করতে পারবেন।

এখানে নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ড বা মডেলের বাধ্যবাধকতা নেই, যা ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা ও বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়।

কত বছরে একবার এই সুবিধা পাওয়া যাবে?

নীতিমালা অনুযায়ী—

  • প্রতি কর্মকর্তা ৩ বছরে একবার নির্ধারিত মূল্যের নতুন মোবাইল ফোন কেনার সুবিধা পাবেন
  • এর ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রযুক্তি আপডেট করার সুযোগ থাকছে

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম, জরুরি যোগাযোগ, ডিজিটাল অথরাইজেশন ও অফিসিয়াল সমন্বয়ের জন্য স্মার্টফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত—

  • কর্মকর্তাদের কাজের দক্ষতা বাড়াবে
  • অফিসিয়াল যোগাযোগ আরও গতিশীল করবে
  • ডিজিটাল ও আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে

উপসংহার

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত মোবাইল ফোন নীতিমালা নিঃসন্দেহে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। পদভিত্তিক স্পষ্ট অর্থসীমা, পছন্দের ব্র্যান্ড ব্যবহারের স্বাধীনতা এবং নিয়মিত আপডেটের সুযোগ—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসনিক আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.