বর্তমান সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কত? (আজকের আপডেট)
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে রান্নার জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস (এলপিজি) এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইন গ্যাস নেই, সেখানে এলপিজিই একমাত্র ভরসা।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, বাজারে ঘাটতি এবং কোম্পানি ভেদে দামের পার্থক্য সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ব্লগ পোস্টে বাংলাদেশের বর্তমান সিলিন্ডার গ্যাস সংক্রান্ত সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
বর্তমান সিলিন্ডার গ্যাসের সরকারি দাম (আজকের আপডেট)
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনায় নিয়ে এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে।
জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি দাম:
- ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার: ৳ ১,৩০৬
এই দাম ভ্যাটসহ নির্ধারিত এবং সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়।
ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন
বাজারে বাস্তব চিত্র: কেন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে?
সরকারি দাম নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে বাজারে দেখা যাচ্ছে—
- শহর এলাকায়: ৳ ১,৬৫০ – ৳ ১,৯০০
- মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে: ৳ ১,৮০০ – ৳ ২,২০০ বা তারও বেশি
এর পেছনের প্রধান কারণগুলো হলো—
- পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা
- ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণহীনতা
- পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি
- কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফা
ফলে সরকারি দাম জানার পরও বাস্তবে সেই দামে গ্যাস কেনা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।
কেন হঠাৎ করে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ে?
১. আন্তর্জাতিক বাজার নির্ভরতা
বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ এলপিজি গ্যাস আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বাড়লে সরাসরি তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে।
২. ডলার রেট বৃদ্ধি
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে গেলে আমদানির খরচ বেড়ে যায়, যার প্রভাব গ্যাসের দামে পড়ে।
৩. সরবরাহ সংকট
অনেক সময় কোম্পানি পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়, ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
৪. বাজার তদারকির দুর্বলতা
সরকারি দাম থাকলেও মাঠপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হয়।
বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহকারী কোম্পানি
বাংলাদেশে বর্তমানে ২৫টিরও বেশি প্রাইভেট এলপিজি কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে।
পরিচিত কিছু ব্র্যান্ড:
- বসুন্ধরা LPG
- ওমেরা LPG
- জেএমআই LPG
- ওয়ালটন LPG
- লাফার্জ LPG
- বিএম LPG
- বেক্সিমকো LPG
এলপিজির মূল উপাদান প্রায় একই। পার্থক্য দেখা যায় বোতলের মান, ওজন ঠিক আছে কিনা এবং ডিলার সার্ভিসে।
কোন কোম্পানির গ্যাস নেবেন?
গ্যাস কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি—
- সিলিন্ডারের ওজন সঠিক কিনা
- বোতল পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত নয় কিনা
- রেগুলেটর ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা
- সিল ও কোম্পানির লোগো আছে কিনা
বড় ও পরিচিত কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার থেকে কিনলে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
কোথা থেকে সিলিন্ডার গ্যাস কিনবেন?
নিরাপদ কেনার জন্য কিছু পরামর্শ—
- সরকারি রেট জেনে ডিলারের কাছে যান
- আগে ফোন করে দাম নিশ্চিত করুন
- একাধিক দোকানের দাম তুলনা করুন
- অতিরিক্ত দাম চাইলে রসিদ দাবি করুন
অতিরিক্ত দাম নিলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- গ্যাস শেষ হওয়ার আগেই নতুন সিলিন্ডার আনুন
- সংকটের সময় কিনলে দাম বেশি পড়ে
- একসাথে অতিরিক্ত স্টক রাখা নিরাপদ নয়
- গ্যাস লিক হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের সরকারি দাম কত?
জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (BERC) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,৩০৬ টাকা।
সরকারি দামের চেয়ে বাজারে কেন বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে?
সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন খরচ, ডিলার পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার কারণে বাজারে গ্যাস বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সব এলপিজি কোম্পানির গ্যাস কি একই মানের?
হ্যাঁ, এলপিজির মূল উপাদান প্রায় একই। পার্থক্য হয় সিলিন্ডারের মান, ওজনের সঠিকতা এবং ডিলার সার্ভিসে।
অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে কোথায় অভিযোগ করবো?
অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত বা অনলাইনে অভিযোগ করা যায়।
পুরোনো বা মরিচা ধরা সিলিন্ডার ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
না। ক্ষতিগ্রস্ত বা মরিচা ধরা সিলিন্ডার ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে গ্যাস লিক বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।
উপসংহার
বর্তমান বাংলাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের জন্য একটি সংবেদনশীল বিষয়। সরকারি দাম নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে বাজারে তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
সচেতন ভোক্তা হওয়া, সঠিক তথ্য জানা এবং বিশ্বস্ত ডিলার থেকে গ্যাস কেনার মাধ্যমেই অতিরিক্ত খরচ ও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।