খোসাসহ পেয়ারা খাবেন নাকি ছাড়িয়ে? জেনে নিন কোনটি বেশি উপকারী

পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া ভালো নাকি খোসা ছাড়িয়ে? পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও সতর্কতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানুন
eating-guava

খোসাসহ পেয়ারা খাবেন নাকি ছাড়িয়ে? জেনে নিন কোনটি বেশি উপকারী

পেয়ারা আমাদের দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। দারুণ স্বাদের কারণে এটি যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, তেমনি জুস, স্মুদি কিংবা জ্যাম হিসেবেও বেশ পরিচিত। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলকে অনেকেই ‘সুপারফ্রুট’ বলে থাকেন, কারণ এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।

তবে পেয়ারার ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে— পেয়ারা কি খোসাসহ খাওয়া ভালো, নাকি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত? এই বিষয়ে পুষ্টিবিদদের মতামত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানা জরুরি।


খোসাসহ পেয়ারা খাওয়ার আগে যা জানা দরকার

পুষ্টিবিদদের মতে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে শরীর কিছু অতিরিক্ত উপকারী উপাদান পেয়ে থাকে। পেয়ারার খোসায় পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা ত্বক ভালো রাখা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক।

তবে সবার জন্য খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং লিপিড প্রোফাইলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে এসব স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য খোসা ছাড়িয়ে পেয়ারা খাওয়াই তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি

পেয়ারা ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। অনেক ক্ষেত্রেই এটি কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি সরবরাহ করে। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে এবং সাধারণ সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা দৈনিক ভিটামিন সি-এর প্রয়োজনের চেয়েও বেশি যোগান দিতে সক্ষম, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

হজমের জন্য ফাইবারে ভরপুর

ডায়েটারি ফাইবারসমৃদ্ধ পেয়ারা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

এছাড়া ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খোসা ছাড়া পেয়ারা একটি ভালো খাদ্য বিকল্প হতে পারে।

আরও পড়ুন

ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

পেয়ারায় থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন এ-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকের কোষ সুরক্ষিত থাকে এবং বয়সের ছাপ ধীরে ধীরে কমে।

নিয়মিত পেয়ারা খেলে ত্বকের গঠন উন্নত হয়, ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখায় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?

হ্যাঁ, খোসাসহ পেয়ারা খেলে অতিরিক্ত ফাইবার, ভিটামিন সি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি খোসাসহ পেয়ারা খেতে পারবেন?

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়ার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। খোসা ছাড়া পেয়ারা খাওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পেয়ারা খেলে হজমে কী উপকার হয়?

পেয়ারা ডায়েটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

পেয়ারা কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়?

হ্যাঁ, পেয়ারা ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন কতটা পেয়ারা খাওয়া নিরাপদ?

সাধারণভাবে দিনে একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা খাওয়া নিরাপদ। তবে বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক

পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ পেয়ারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ কমতে পারে এবং রক্তের লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি ঘটে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.