ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হলো কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে হাসপাতালে যাওয়ার আগে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘোরে—২০২৬ সালে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কোন দিন? OPD কখন খোলা থাকে, আর জরুরি সেবা কি সবসময় পাওয়া যায়? এই লেখায় বিষয়গুলো একদম সহজ ভাষায়, মানুষের মতো করেই তুলে ধরা হলো।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ কোন দিন?
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগ (OPD) সাধারণত শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় নিয়মিত ডাক্তার দেখানো, টিকিট বিতরণ ও বিভাগভিত্তিক কনসালটেশন বন্ধ থাকে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি—জরুরি বিভাগ (Emergency) শুক্রবারসহ সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। অর্থাৎ দুর্ঘটনা, হঠাৎ অসুস্থতা বা জীবনঝুঁকির পরিস্থিতিতে যেকোনো দিন হাসপাতালে যাওয়া যায়।
শুক্রবার কোন কোন সেবা বন্ধ থাকে?
শুক্রবার হাসপাতালে গেলে অনেক সময় সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। কারণ এদিন বেশ কিছু সেবা বন্ধ বা সীমিত থাকে। যেমন—
- OPD টিকিট বিতরণ বন্ধ থাকে
- নিয়মিত ডাক্তার দেখানো হয় না
- নন-ইমার্জেন্সি পরীক্ষা বন্ধ থাকে
- বিভাগভিত্তিক কনসালটেশন পাওয়া যায় না
এই কারণে সাধারণ সমস্যা নিয়ে শুক্রবার হাসপাতালে গেলে সময় ও ভোগান্তি বাড়তে পারে।
শুক্রবার কোন কোন সেবা চালু থাকে?
OPD বন্ধ থাকলেও শুক্রবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা পুরোপুরি চালু থাকে। এগুলো মূলত জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী সেবা।
- 🚑 জরুরি বিভাগ (Emergency)
- দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চিকিৎসা
- হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ রোগীর সেবা
- ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ও নার্সিং কেয়ার
অর্থাৎ রোগীর অবস্থা যদি গুরুতর হয়, তাহলে দিন-তারিখ চিন্তা না করে সরাসরি জরুরি বিভাগে যাওয়া উচিত।
সরকারি ছুটির দিনে হাসপাতালের সেবা কেমন থাকে?
শুধু শুক্রবার নয়, জাতীয় ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও সাধারণত OPD বন্ধ থাকে। তবে হাসপাতাল পুরোপুরি অচল হয়ে যায় না।
ছুটির দিনগুলোতে—
- জরুরি বিভাগ চালু থাকে
- ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত থাকে
- কিছু ল্যাব পরীক্ষা সীমিত আকারে চালু থাকতে পারে
ছুটির দিনে হাসপাতালে যাওয়ার আগে আগের কার্যদিবসে তথ্য জেনে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নিয়মিত OPD সময়সূচি
সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের OPD সময়সূচি মোটামুটি নিয়মিত।
- শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার OPD খোলা থাকে
- সকাল বেলায় টিকিট বিতরণ শুরু হয়
- দুপুরের মধ্যেই ডাক্তার দেখানো শেষ হয়
আরও পড়ুন
রোগীর চাপ বেশি থাকায় সকাল সকাল হাসপাতালে পৌঁছানোই সবচেয়ে ভালো কৌশল।
সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে রোগীদের করণীয়
যদি শুক্রবার বা সরকারি ছুটির দিনে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার।
- গুরুতর সমস্যা হলে সরাসরি জরুরি বিভাগে যান
- সাধারণ সমস্যার জন্য পরবর্তী কার্যদিবসে আসুন
- সম্ভব হলে আগেই অনলাইন টিকিট বুকিং করুন
এতে অযথা ভোগান্তি এড়ানো যাবে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ডাক্তার তালিকা
এই হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিক, ইএনটি, চর্মরোগ, চক্ষু ও ডেন্টালসহ বিভিন্ন বিভাগে অভিজ্ঞ সরকারি চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করেন।
ডাক্তারদের তালিকা বিভাগভেদে পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ তথ্য সাধারণত—
- OPD কাউন্টার
- বিভাগীয় নোটিশ বোর্ড
- সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সামনে
পাওয়া যায়।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল টেস্ট খরচ
সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় এখানে পরীক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন টেস্ট, এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বেশিরভাগ পরীক্ষা স্বল্প খরচে করা যায়।
নির্দিষ্ট টেস্টের সঠিক খরচ জানতে ল্যাব কাউন্টার বা তথ্য ডেস্কে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সময়সূচি ও রোগী দেখার নিয়ম
রোগী দেখার সময় সাধারণত সকাল থেকেই শুরু হয়। টিকিট নেওয়ার পর সিরিয়াল অনুযায়ী ডাক্তার দেখানো হয়। দুপুরের পর গেলে সিরিয়াল শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কি শুক্রবার পুরোপুরি বন্ধ?
না। OPD বন্ধ থাকলেও জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।
সরকারি ছুটির দিনে কি ডাক্তার দেখানো যায়?
সাধারণত না। শুধু জরুরি সেবা চালু থাকে।
শনিবার কি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল খোলা থাকে?
হ্যাঁ। শনিবার নিয়মিত কার্যদিবস হিসেবে OPD খোলা থাকে।
শুক্রবার সাধারণ রোগী কি হাসপাতালে যেতে পারবেন?
যেতে পারবেন, তবে শুধু জরুরি সেবাই পাওয়া যাবে।
কখন হাসপাতালে গেলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো যায়?
সকাল বেলায়, টিকিট বিতরণ শুরু হওয়ার সময় গেলে সুযোগ বেশি থাকে।
উপসংহার
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে শুক্রবার, তবে জরুরি বিভাগ সবসময় খোলা। তাই সাধারণ রোগী দেখাতে হলে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই হাসপাতালে আসা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সঠিক দিন ও সময় জেনে এলে সময় বাঁচবে, ভোগান্তি কমবে এবং চিকিৎসাও পাওয়া সহজ হবে।