পুরান ঢাকা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী আসছে মেট্রোরেলের নেটওয়ার্কে | এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা
রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় আরেকটি বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। পুরান ঢাকা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকাকে এবার মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২ নামে প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেলটি গাবতলী থেকে পুরান ঢাকার মিডফোর্ড হয়ে যাত্রাবাড়ীর কাজলা দিয়ে ডেমরা পর্যন্ত চলাচল করবে।
এমআরটি লাইন-২: প্রকল্পের মূল তথ্য
প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো হলো—
- রুট: গাবতলী – ডেমরা
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ২৫ কিলোমিটার
- প্রাক্কলিত ব্যয়: প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা
- নেটওয়ার্ক কভারেজ: পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকা
এই মেট্রোলাইন চালু হলে পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ঋণ আগ্রহ ও প্রতিনিধি দল আসছে ঢাকায়
এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই লক্ষ্যে প্রকল্পের—
- সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
- বিস্তারিত নকশা
- অর্থায়ন কাঠামো
- দরপত্র প্রক্রিয়া
সংক্রান্ত কাজ শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল।
রুট পরিবর্তনের ইতিহাস: কেন এত সংশোধন?
প্রাথমিকভাবে এমআরটি লাইন-২ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত।
সেই সময়—
- রুটের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার
- ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা
পরবর্তীতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর হালনাগাদকৃত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রুটটি পরিবর্তন করে গাবতলী থেকে ডেমরা নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমান রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩.৫ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন
প্রস্তাবিত স্টেশনসমূহ
এমআরটি লাইন-২ গাবতলী থেকে শুরু হয়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করবে—
- ঢাকা উদ্যান
- বসিলা মোড়
- মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড
- জিগাতলা
- সায়েন্স ল্যাব
- নিউমার্কেট
- আজিমপুর
- লালবাগ
- চকবাজার
- মিটফোর্ড
- নয়াবাজার
- ধোলাইখাল
- দয়াগঞ্জ
- কাজলা
- ডেমরা
- তাড়াবো বাসস্ট্যান্ড
বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ: কেন প্রশ্ন উঠছে বাস্তবায়ন নিয়ে?
বারবার রুট পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষ করে—
- আজিমপুর–লালবাগ–চকবাজার–মিটফোর্ড এলাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ
- সরু রাস্তা ও ঘন ভবনের কারণে নির্মাণ জটিল
- বহু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে
- অনেক পুরোনো ভবন ভাঙার ঝুঁকি রয়েছে
এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন ও জনঅসন্তোষের আশঙ্কা নাকচ করা যাচ্ছে না।
অনেকে মনে করছেন, এতোবার পরিকল্পনা পরিবর্তনের পরও শেষ পর্যন্ত এই এলাকায় মেট্রোরেল আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
উপসংহার
পুরান ঢাকা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
তবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে—
- জমি অধিগ্রহণ
- অবকাঠামোগত জটিলতা
- স্থানীয় জনগণের সম্মতি
- রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ
বিশ্বব্যাংকের আগ্রহ ও অর্থায়ন নিশ্চিত হলেও, প্রকল্পটি কত দ্রুত এবং কতটা বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়িত হবে— সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।