পাসপোর্ট ছাড়া ডুয়েল কারেন্সি কার্ড | ঘরে বসেই সহজে পাওয়ার উপায় ২০২৬

পাসপোর্ট ছাড়াই কীভাবে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পাওয়া যায় জানুন। ঘরে বসে আবেদন পদ্ধতি, সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বিস্তারিত
Dual

পাসপোর্ট ছাড়া ডুয়েল কারেন্সি কার্ড | ঘরে বসেই সহজে পাওয়ার উপায় ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আন্তর্জাতিক লেনদেন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। অনলাইন শপিং, ফ্রিল্যান্সিং, সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস, অ্যাপ পেমেন্ট কিংবা ভবিষ্যৎ বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতির জন্য ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এখন অনেকের কাছেই অপরিহার্য।

কিন্তু আমাদের দেশের অনেক মানুষের মধ্যেই একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে— ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পেতে হলে অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে এখন পাসপোর্ট ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে ঘরে বসেই ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেওয়া সম্ভব। এই লেখায় ধাপে ধাপে জানবো কীভাবে আপনি সহজেই এই কার্ড পেতে পারেন, এর সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

আরও পড়ুন— দেশে বা বিদেশে কল করুন ফ্রি BTCL Alaap App দিয়ে


ডুয়েল কারেন্সি কার্ড কী?

ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হলো এমন একটি ব্যাংক বা ফিনটেক কার্ড, যেখানে একই কার্ডে দুটি ভিন্ন মুদ্রা সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যায়।

সাধারণত এই দুটি মুদ্রা হলো—

  • বাংলাদেশি টাকা (BDT)
  • বিদেশি মুদ্রা, যেমন ইউএস ডলার (USD)

অর্থাৎ, একটি কার্ড দিয়েই আপনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেন করতে পারবেন।


ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের প্রধান সুবিধা

  • বিদেশি ওয়েবসাইট ও অ্যাপে অনলাইন পেমেন্ট করা যায়
  • Netflix, Spotify, Canva, ChatGPT-এর মতো সাবস্ক্রিপশন সহজে নেওয়া যায়
  • বারবার টাকা কনভার্ট করার ঝামেলা কমে
  • একটি কার্ডেই BDT ও USD ব্যবস্থাপনা
  • কার্ড লিমিট ও ট্রানজেকশন অ্যাপ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়

নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য এটি একটি আধুনিক সমাধান।


পাসপোর্ট ছাড়াই কি সত্যিই ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, পাওয়া যায়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী—

  • NID ব্যবহার করে কার্ড ইস্যু করা যায়
  • কিন্তু আন্তর্জাতিক USD ব্যবহারের পূর্ণ অনুমতির জন্য পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট লাগে

অর্থাৎ—

আপনি কার্ডটি পাসপোর্ট ছাড়াই পেতে পারবেন, কিন্তু ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মুদ্রার পূর্ণ সুবিধা নিতে পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।


ঘরে বসে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেওয়ার ধাপে ধাপে পদ্ধতি

ধাপ ১: বিশ্বস্ত ব্যাংক বা ফিনটেক অ্যাপ নির্বাচন

বাংলাদেশে বেশ কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ডুয়েল কারেন্সি কার্ড অফার করছে।

নিশ্চিত করুন—

  • প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত
  • অফিসিয়াল অ্যাপ ও কাস্টমার সাপোর্ট রয়েছে

ধাপ ২: অ্যাপ ডাউনলোড ও রেজিস্ট্রেশন

অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।

রেজিস্ট্রেশনের সময় সাধারণত লাগবে—

  • মোবাইল নম্বর
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • ছবি ও বেসিক তথ্য

অনেক ক্ষেত্রেই পাসপোর্ট ছাড়াই KYC সম্পন্ন করা যায়।

👉 এখনই কার্ড এর জন্য আবেদন করুন : https://tevau.io/invite_registration/#/?inviteCode=582589

ধাপ ৩: KYC যাচাই

KYC যাচাই সাধারণত অনলাইনে হয় এবং ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

ধাপ ৪: ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নির্বাচন

অ্যাপের ভিতরে Dual Currency Card অথবা International Card অপশন বেছে নিন।

আপনি চাইলে—

  • শুধু Virtual Card
  • বা Physical + Virtual Card নিতে পারেন

ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট ও অ্যাক্টিভেশন

তথ্য ঠিক থাকলে Apply করুন।

  • ভার্চুয়াল কার্ড দ্রুত অ্যাক্টিভ হয়
  • ফিজিক্যাল কার্ড ৫–৭ কর্মদিবসে বাসায় পৌঁছে যায়

👉 এখনই কার্ড এর জন্য আবেদন করুন : https://tevau.io/invite_registration/#/?inviteCode=582589

কার্ড পাওয়ার পর কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  • ভার্চুয়াল কার্ড অনলাইন শপিং ও সাবস্ক্রিপশনে ব্যবহার
  • ফিজিক্যাল কার্ড এটিএম ও POS মেশিনে ব্যবহার
  • অ্যাপ থেকে ব্যালেন্স ও লিমিট কন্ট্রোল

👉 এখনই কার্ড এর জন্য আবেদন করুন : https://tevau.io/invite_registration/#/?inviteCode=582589

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

পাসপোর্ট ছাড়া কার্ড ইস্যু হলেও—

  • আন্তর্জাতিক USD ট্রানজেকশন সীমিত থাকতে পারে
  • ব্যাংক ভবিষ্যতে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট চাইতে পারে

কেউ যদি দাবি করে— পাসপোর্ট ছাড়াই সব আন্তর্জাতিক লেনদেন আনলিমিটেড করা যাবে, তাহলে বুঝবেন সেটি বিভ্রান্তিকর।


ব্যবহারকারীদের জন্য দরকারি টিপস

  • শুধু লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান বেছে নিন
  • আন্তর্জাতিক চার্জ আগে জেনে নিন
  • কার্ডের তথ্য কারও সাথে শেয়ার করবেন না
  • অ্যাপের সিকিউরিটি ফিচার ব্যবহার করুন

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

পাসপোর্ট ছাড়া কি সত্যিই ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ইস্যু করা যায়। তবে আন্তর্জাতিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

পাসপোর্ট না থাকলে কার্ডটি কীভাবে ব্যবহার করা যাবে?

পাসপোর্ট ছাড়া কার্ডটি দেশীয় লেনদেন এবং সীমিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্টে ব্যবহার করা যায়। সম্পূর্ণ USD ব্যবহারের জন্য ভবিষ্যতে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।

ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে কোন কোন মুদ্রা থাকে?

সাধারণত ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে বাংলাদেশি টাকা (BDT) এবং একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা যেমন ইউএস ডলার (USD) যুক্ত থাকে।

ভার্চুয়াল কার্ড ও ফিজিক্যাল কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?

ভার্চুয়াল কার্ড অনলাইন পেমেন্টের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর ফিজিক্যাল কার্ড এটিএম, POS মেশিন ও ভ্রমণের সময় ব্যবহার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দুটোই একসাথে নেওয়া যায়।

ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেওয়ার সময় কী সতর্কতা মানা উচিত?

শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে কার্ড নিন, আন্তর্জাতিক চার্জ আগে জেনে নিন এবং কার্ডের পিন বা তথ্য কারও সাথে শেয়ার করবেন না।

উপসংহার

বর্তমান সময়ে পাসপোর্ট না থাকলেও ঘরে বসেই ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নেওয়া সম্ভব, যা অনেকের জন্য বড় সুযোগ।

তবে মনে রাখতে হবে— কার্ড পাওয়া আর আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণ ব্যবহার এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের ব্যাংকিং নিয়ম অবশ্যই মানতে হবে।

সঠিক তথ্য জেনে ও সচেতনভাবে আবেদন করলে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড আপনার আন্তর্জাতিক লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও ঝামেলাহীন করে তুলবে।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.