পুরাতন দলিল বের করুন মোবাইল দিয়ে ২০২৬: নতুন নিয়ম ও সহজ পদ্ধতি

পুরাতন দলিল মোবাইল দিয়ে কিভাবে বের করবেন? নতুন নিয়মে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে পুরোনো জমির দলিল খোঁজার সহজ উপায় ও করণীয় জানুন।
puraton-dolil পুরাতন দলিল বের করুন খুব সহজে নিজের মোবাইল দিয়ে নতুন নিয়মে

পুরাতন দলিল বের করুন খুব সহজে নিজের মোবাইল দিয়ে—এই কথাটি এখন আর শুধু কথা নয়, বাস্তবেও অনেকটাই সম্ভব। জমি কেনাবেচা, নামজারি, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি বণ্টন বা আইনি প্রয়োজনে পুরোনো দলিল বের করা আজ না হোক কাল প্রায় সবারই দরকার পড়ে।

আগে পুরাতন দলিল খুঁজতে মানেই দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও রেকর্ডরুমে ঘোরাঘুরি। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল উদ্যোগের কারণে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই অনেক তথ্য অনলাইনে যাচাই করা যাচ্ছে।

যদিও এখনো পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ অনলাইন হয়নি, তবুও সঠিক তথ্য জানা থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। এই গাইডে ধাপে ধাপে জানবেন কীভাবে মোবাইল ব্যবহার করে পুরাতন দলিল বের করবেন এবং অনলাইনে না পেলে কী করবেন।

পুরাতন দলিল বের করতে কী কী লাগে?

পুরাতন দলিল বের করার আগে কিছু মৌলিক তথ্য জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই তথ্যগুলো থাকলে অনলাইন ও অফলাইন দুই ক্ষেত্রেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।

  • জেলার নাম
  • উপজেলা বা থানা
  • মৌজার নাম
  • দাগ নম্বর
  • খতিয়ান নম্বর

যদি দলিল নম্বর ও দলিলের তারিখ জানা থাকে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো দলিলের ফটোকপি থাকলেও তা বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

দলিল হারিয়ে গেলে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা প্রয়োজন হয়। এই জিডির কপি দিয়েই পরবর্তী ধাপে নকল বা সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করা যায়।

পুরাতন দলিল বের করুন খুব সহজে নিজের মোবাইল দিয়ে

পুরাতন দলিল মোবাইল দিয়ে বের করতে প্রথমেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।

স্মার্টফোনে যেকোনো ব্রাউজার খুলে সরকারি ভূমি তথ্যের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন—

https://land.gov.bd/

ওয়েবসাইটে ঢুকে “খতিয়ান দেখুন” অথবা “ভূমি তথ্য” সংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করুন।

এরপর ধাপে ধাপে জেলা, উপজেলা, মৌজা, দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর দিয়ে সার্চ করতে হবে।

যদি সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অনলাইনে যুক্ত থাকে, তাহলে সেখান থেকেই প্রাথমিক দলিল সংক্রান্ত তথ্য দেখা সম্ভব।

তবে মনে রাখতে হবে, সব পুরাতন দলিল এখনো অনলাইনে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের আগের অনেক দলিলের তথ্য এখনো ডিজিটাল হয়নি।

পুরাতন দলিল বের করার সরকারি ওয়েবসাইট

পুরাতন দলিল যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো সরকারি ভূমি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত Land Information System (LIS) প্ল্যাটফর্মে ধাপে ধাপে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল করা হচ্ছে।

আপনি নিচের সরকারি ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করতে পারেন—

  • https://land.gov.bd/
  • ই-পর্চা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে মূলত খতিয়ান, দাগ ও মৌজা ভিত্তিক ভূমি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

এগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং মোবাইল ও কম্পিউটার উভয় ডিভাইস থেকেই প্রবেশ করা সম্ভব।

সরকার ১৯০৮ সাল থেকে সব দলিলকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সিস্টেমে যুক্ত করার কাজ করছে।

ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই বেশিরভাগ পুরাতন দলিল যাচাই ও সংগ্রহ করা আরও সহজ হবে।

সরকারি ওয়েবসাইটে দলিল পাওয়া না গেলে করণীয়

অনলাইনে দলিল না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ এখনো অধিকাংশ পুরাতন দলিল অফলাইন পদ্ধতিতেই সংগ্রহ করতে হয়।

যদি দলিলটি তুলনামূলক নতুন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

আর অনেক পুরাতন দলিলের ক্ষেত্রে জেলা রেকর্ডরুমে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হয়।

দলিল নম্বর বা তারিখ জানা থাকলে সরাসরি নকল বা সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করা যায়।

দলিল হারিয়ে গেলে—

  • প্রথমে থানায় জিডি করতে হবে
  • জিডির কপি সংগ্রহ করতে হবে
  • জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিতে হবে
  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করতে হবে

যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী নকল দলিল সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুন

প্রশ্নোত্তর (FAQs)

মোবাইল দিয়ে কি পুরাতন দলিল বের করা সম্ভব?

হ্যাঁ, প্রাথমিক তথ্য ও খতিয়ান অনলাইনে দেখা যায়, তবে সব দলিল নয়।

সব পুরাতন দলিল কি অনলাইনে পাওয়া যায়?

না, বিশেষ করে ১৯৯০ সালের আগের অনেক দলিল এখনো অফলাইনে আছে।

দলিল হারিয়ে গেলে কী করতে হবে?

থানায় জিডি করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলের জন্য আবেদন করতে হবে।

উপসংহার

পুরাতন দলিল বের করুন খুব সহজে নিজের মোবাইল দিয়ে— এই সুবিধা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

যদিও এখনো পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ অনলাইন হয়নি, তবুও সঠিক তথ্য থাকলে অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমে যায়।

অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে পুরাতন দলিল সংগ্রহ করা আর আগের মতো কঠিন থাকবে না।

ভবিষ্যতে সরকারি ডিজিটাল সেবা আরও বিস্তৃত হলে পুরাতন দলিল বের করা আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.