ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক ২০২৬-২৭ | NBR-এর নতুন সিদ্ধান্ত ও করদাতাদের জন্য নির্দেশনা

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক করছে NBR। কেন এই সিদ্ধান্ত, অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন ও রিফান্ডের সুবিধা এবং করদাতাদের জন্য নির্দেশ
vat-return-online-mandatory-2026-27-nbr-decision

ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক হবে ২০২৬-২৭: NBR নতুন পদক্ষেপ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং করদাতাবান্ধব করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হবে।

এর ফলে, বর্তমানে যেভাবে আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে ভ্যাট রিটার্নও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কীভাবে পুনরুদ্ধার করবেন?

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন: কেন জরুরি?

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ভ্যাট রিটার্নের পেপারভিত্তিক পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই সময়সাপেক্ষ, জটিল এবং ভোগান্তিপূর্ণ।

করদাতাদের প্রায়ই—

  1. কর অফিসে বারবার যেতে হয়
  2. ম্যানুয়াল এন্ট্রির কারণে বিলম্ব হয়
  3. ডকুমেন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকে
  4. রিটার্ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়

এই সমস্যা দূর করতেই এনবিআর নতুন পরিপত্র জারি করেছে। এই পরিপত্র অনুযায়ী, যেসব করদাতা আগে কাগজে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তাদের তথ্যও ধাপে ধাপে অনলাইন সিস্টেমে স্থানান্তর করা হবে।

ভ্যাট রিফান্ড এখন হবে সহজ ও দ্রুত

এনবিআর ইতোমধ্যে ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল চালু করেছে। এই মডিউলের মাধ্যমে করদাতারা—

  1. অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ডের আবেদন করতে পারবেন
  2. ভ্যাট অফিসে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন হবে না
  3. আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া হবে দ্রুত
  4. রিফান্ড ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, প্রয়োজন হলে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য আইনি সংশোধন করতেও সরকার প্রস্তুত।

মূল লক্ষ্য হলো—

  1. করদাতাদের হয়রানি কমানো
  2. কর প্রদান সহজ করা
  3. স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কর ব্যবস্থা গড়ে তোলা

করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ভ্যাট রিটার্ন বা ভ্যাট রিফান্ড সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা বা সহায়তার প্রয়োজনে করদাতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

  1. নিজ নিজ মূসক কমিশনারেটের সাথে যোগাযোগ করতে
  2. ই-ভ্যাট সিস্টেমের নির্দেশিকা অনুসরণ করতে
  3. অনলাইন তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে জমা দিতে

এর ফলে করদাতারা সহজেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পাবেন।

উপসংহার

ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে হওয়ায় করদাতারা কম সময়ে, কম ঝামেলায় এবং স্বচ্ছভাবে নিজেদের কর সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ভ্যাট রিটার্ন নয়, বরং দেশের পুরো কর ব্যবস্থাকে দ্রুত, আধুনিক ও ডিজিটাল করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.