নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়া নজরদারি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট কেনা–বেচা রোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেন যেন না হয়, সে জন্য প্রতিটি নির্বাচনী আসনে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন একজন নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে একাধিক কমিটি কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন ইসি।
মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে থাকবে বিশেষ নজরদারি
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন—
- ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে প্রতিটি আসনে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হবে
- ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোবাইল এজেন্ট পয়েন্টে নজরদারি শুরু হবে
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেনদেন যাচাই করা হবে
- অস্বাভাবিক পরিমাণ লেনদেন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- এই দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা
আইনশৃঙ্খলা ও ভিজিলেন্স টিমের সঙ্গে মতবিনিময়
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার।
সভাটি অনুষ্ঠিত হয়—
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল
- ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম
এর সঙ্গে মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে।
নির্বাচন পরিচালনায় তিনটি মূল নীতি
ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন— নির্বাচন পরিচালনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ থাকবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে তিনটি মৌলিক নীতিতে অটল থাকতে হবে—
- স্বচ্ছতা
- নিরপেক্ষতা
- দৃঢ়তা
এই নীতিগুলো বজায় রেখেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।
আরও পড়ুন
মাঠপর্যায়ে ৬টি কমিটি, আছে বিচারিক ক্ষমতা
নির্বাচন কমিশন জানায়—
- মাঠপর্যায়ে ৬টি কমিটি কাজ করছে
- এসব কমিটিকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে
- বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও রয়েছে
- অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে
গণভোটে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান
গণভোট প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন—
- ভোটারদের গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে
- “হ্যাঁ” অথবা “না” ভোটের মাধ্যমে
- ভোটাররা তাদের পছন্দ অনুযায়ী
- আগামীর বাংলাদেশ গঠনে মতামত দেবেন
সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায়—
- সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম সরকার
- উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: কেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে?
উত্তর: ভোট কেনাবেচার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের অভিযোগ ঠেকাতে।
প্রশ্ন: কবে থেকে এই নজরদারি কার্যকর হবে?
উত্তর: ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে।
প্রশ্ন: কারা এই নজরদারি করবেন?
উত্তর: সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভিজিলেন্স টিম।
উপসংহার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর নজরদারি নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
এর মাধ্যমে ভোট কেনাবেচা, অনৈতিক লেনদেন ও প্রভাব বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভোটারদের আস্থাও বাড়াবে।