Pressure Cooker (প্রেশার কুকার) is an upcoming Bangladeshi Bengali-language film directed by Raihan Rafi. The story has also been written by the director himself, while the screenplay and dialogue are jointly crafted by Raihan Rafi, Mehedi Hasan Moon, and Shiam Shams Tusto. Known for presenting socially relevant themes and intense storytelling, Raihan Rafi’s upcoming film has already created significant buzz among Bangladeshi cinema lovers.
The movie features a strong ensemble cast including Shobnom Bubly, Nazifa Tushi, Mariya Hossain Mehnati, Snigdha Chowdhury, Fazlur Rahman Babu, Misha Shawdagar, Shahiduzzaman Selim, Chanchal Chowdhury and many more talented performers. Produced by Kanon Films and Impress Telefilm Ltd., the film is scheduled to release during Eid-Ul-Fitr 2026. With a unique concept and a female-centric narrative, Pressure Cooker is expected to bring something different to the Bangladeshi film industry.
Movie Information
- Film: Pressure Cooker (প্রেশার কুকার)
- Story: Raihan Rafi
- Screenplay: Raihan Rafi, Mehedi Hasan Moon & Shiam Shams Tusto
- Dialogue: Raihan Rafi, Mehedi Hasan Moon & Shiam Shams Tusto
- Direction: Raihan Rafi
- Cast: Shobnom Bubly, Nazifa Tushi, Mariya Hossain Mehnati, Snigdha Chowdhury, Fazlur Rahman Babu, Misha Shawdagar, Rizvi Rizu Chowdhury, Prantar Dastider, Fariha Shams Sheuti, Shahiduzzaman Selim, Chanchal Chowdhury and many more
- DOP: Joaher Mosavvir Jyoti
- Edit: Simit Ray Antor
- Music: Adit Rahman
- Production: Kanon Films & Impress Telefilm Ltd.
- Distribution: Impress Telefilm Ltd.
- Release: Eid-Ul-Fitr, 2026
- Language: Bengali
- Country: Bangladesh
Related Posts
ফিমেল সেন্ট্রিক গল্পের বিশেষত্ব
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ফিমেল সেন্ট্রিক সিনেমা খুব বেশি দেখা যায় না। সেখানে আবার যদি একাধিক নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে মাল্টিস্টারার গল্প তৈরি করা হয়, সেটি যেন এক ধরনের ব্যতিক্রমই বলা যায়। এই প্রসঙ্গে হঠাৎ মনে পড়ে ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘পালাবি কোথায়’-এর কথা। সেই সিনেমার প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাবানা, চম্পা এবং সুবর্ণা মুস্তাফা—অর্থাৎ গল্পের কেন্দ্রে ছিল তিনজন নারী চরিত্র। ব্যক্তিগতভাবে অনেক দর্শকের কাছেই সিনেমাটি বেশ প্রিয় হলেও, সেই সময়ের দর্শক হয়তো এমন ধরনের গল্পের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না।
সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক এবং অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী নিজেও একসময় বলেছিলেন যে চলচ্চিত্রটি প্রত্যাশিত ব্যবসাসফলতা পায়নি। তবে সময় তো আর একই জায়গায় থেমে থাকে না। বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের রুচি, চিন্তাভাবনা এবং সিনেমা দেখার ধরণ বদলেছে। এখন দর্শকরা গল্পের গভীরতা, চরিত্রের শক্তি এবং বাস্তবধর্মী উপস্থাপনাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই পরিবর্তনশীল সময়ের দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত পরিচালক রায়হান রাফী নির্মাণ করেছেন ‘প্রেশার কুকার’ নামের এই ফিমেল সেন্ট্রিক মাল্টিস্টারার সিনেমা।
কাস্ট ইনফো
“প্রেশার কুকার” সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত কাস্ট। এই সিনেমায় প্রধান চারটি চরিত্রে দেখা যাবে নাজিফা তুষি, শবনম বুবলী, মারিয়া হোসাইন মেহনাতি এবং স্নিগ্ধা চৌধুরীকে। এই চারজনের চরিত্রই গল্পের মূল কেন্দ্রে অবস্থান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা ব্যক্তিত্ব, আলাদা গল্প এবং আলাদা সংগ্রাম সিনেমাটিকে আরও গভীর ও বাস্তবধর্মী করে তুলবে।
নাজিফা তুষি ইতোমধ্যেই নিজেকে একজন দক্ষ এবং সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যদিকে শবনম বুবলীও প্রমাণ করেছেন যে ভালো গল্প ও শক্তিশালী স্ক্রিপ্ট পেলে তিনি দারুণ অভিনয় করতে পারেন। মারিয়া শান্ত এই সিনেমার মাধ্যমে ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় অভিষেক করতে যাচ্ছেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। পাশাপাশি মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরীর জন্যও এটি প্রথম চলচ্চিত্র।
এছাড়াও সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন ফজলুর রহমান বাবু, মিশা সওদাগর, শাহিদুজ্জামান সেলিম, চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও অনেক অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান শিল্পী। এই শক্তিশালী কাস্ট সিনেমাটির গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
প্রযোজনা ও নির্মাণ
সিনেমাটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী। তার পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত বাস্তবধর্মী গল্প, শক্তিশালী চরিত্র এবং ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। “প্রেশার কুকার” সিনেমাটির ক্ষেত্রেও তিনি একটি ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় রয়েছে Kanon Films এবং Impress Telefilm Ltd.—যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একটি সুপরিচিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন Joaher Mosavvir Jyoti, যিনি আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইলের মাধ্যমে সিনেমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করছেন।
সিনেমাটির সম্পাদনা করেছেন Simit Ray Antor এবং সংগীত পরিচালনা করছেন Adit Rahman। টেকনিক্যাল টিমের এই সমন্বয় সিনেমাটিকে ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ড—দুই দিক থেকেই সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিজার প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া “প্রেশার কুকার” সিনেমার টিজার দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর উপস্থিতি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকটি সিনেমায় তিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুঃখী পিতার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অনেক দর্শকের কাছেই মনে হয়েছে—এত মেধাবী একজন অভিনেতাকে একই ধরনের চরিত্রে বারবার দেখা যেন কিছুটা টাইপ কাস্টিংয়ের মতো হয়ে যাচ্ছে।
তবে “প্রেশার কুকার” সিনেমার টিজারে ফজলুর রহমান বাবুকে একেবারে ভিন্ন এবং শক্তিশালী চরিত্রে দেখা গেছে। অনেক দর্শকের মতে, টিজারে তিনি একাই যেন পুরো দৃশ্য দখল করে নিয়েছেন। টাইপ কাস্টিংয়ের বাইরে এমন সিরিয়াস এবং গভীর চরিত্রেই তাকে দেখতে চান অনেকেই। ফলে এই সিনেমাটি তার অভিনয় জীবনের জন্যও একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুক্তি ও প্রত্যাশা
“Pressure Cooker (প্রেশার কুকার)” মুক্তি পাবে ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে। বাংলাদেশে ঈদের সময় বড় বাজেট এবং তারকাবহুল সিনেমা মুক্তির একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। ফলে এই সময়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও অনেক বেশি থাকে।
ফিমেল সেন্ট্রিক গল্প, শক্তিশালী কাস্ট এবং জনপ্রিয় নির্মাতার সমন্বয়ে “প্রেশার কুকার” সিনেমাটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বহুদিন পর ঢালিউড হয়তো একটি স্মরণীয় ফিমেল সেন্ট্রিক মাল্টিস্টারার সিনেমা পেতে চলেছে। এখন দর্শকরা অপেক্ষা করছেন সিনেমাটির ট্রেলার এবং মুক্তির দিনের জন্য।
উপসংহার
প্রেশার কুকার (২০২৬) হতে যাচ্ছে একটি ভিন্নধর্মী বাংলা চলচ্চিত্র, যেখানে নারী চরিত্রগুলোর শক্তিশালী উপস্থিতি গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শক্তিশালী কাস্ট, দক্ষ নির্মাতা এবং আধুনিক টেকনিক্যাল টিমের সমন্বয়ে সিনেমাটি দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে।
যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে এই সিনেমাটি শুধু বিনোদনই দেবে না—বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ফিমেল সেন্ট্রিক গল্প বলার ক্ষেত্রেও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এখন দেখার অপেক্ষা—মুক্তির পর দর্শকদের হৃদয়ে “প্রেশার কুকার” কতটা জায়গা করে নিতে পারে।