মেসির পেনাল্টি মিস থেকে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কামব্যাক – রুদ্ধশ্বাস এক রাত
পুরো স্টেডিয়াম তখন নিস্তব্ধ। পেনাল্টি স্পটে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। গ্যালারিতে হাজারো দর্শক, আর টিভির পর্দার সামনে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী একটাই মুহূর্তের অপেক্ষায়।
মেসি শট নিলেন। কিন্তু বল ঠেকিয়ে দিলেন গোলকিপার। মুহূর্তের মধ্যেই যেন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হৃদস্পন্দন থেমে গেল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দহীন আর্জেন্টিনা
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের পর কোচ স্কালোনি একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। উদ্দেশ্য ছিল দলকে আরও সতেজ করা। কিন্তু মাঠে নেমে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি।
১৪তম মিনিটে মিশর প্রথম গোল করে এগিয়ে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর।
এই গোলের পর অনেক সমর্থকের মনে ফিরে আসে সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই হতাশার ম্যাচের স্মৃতি।
প্রথমার্ধ শেষে হতাশা
হাফটাইম পর্যন্ত স্কোর অপরিবর্তিত থাকে। আর্জেন্টিনা তখনও এক গোলে পিছিয়ে। মাঠের বাইরে সমর্থকদের উৎকণ্ঠা বাড়তেই থাকে।
VAR বাঁচাল, কিন্তু বেশিক্ষণ নয়
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে মিশর আবারও বল জালে পাঠায়। তবে VAR পর্যালোচনায় লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ওপর ফাউল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়।
আর্জেন্টিনা কিছুটা স্বস্তি পেলেও সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
৬৭তম মিনিটে মিশর আবার গোল করে। এবার আর কোনো VAR নয়, কোনো বিতর্ক নয়। স্কোরলাইন হয়ে যায় আর্জেন্টিনা ০-২ মিশর।
মেসির নেতৃত্বে শুরু হলো প্রত্যাবর্তন
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনা হাল ছাড়েনি।
৭৮তম মিনিটে রোমেরো গোল করেন। আর সেই গোলের অ্যাসিস্ট করেন লিওনেল মেসি।
পেনাল্টি মিস করার পরও মাথা নত না করে দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণ তৈরি করেন তিনি। স্কোর দাঁড়ায় ১-২।
মেসির জাদুতে সমতা
মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ৮৩তম মিনিটে বল পান মেসি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।
আর্জেন্টিনা ২-২ মিশর।
স্টেডিয়াম আনন্দে ফেটে পড়ে। সমর্থকদের মধ্যে ফিরে আসে নতুন আশা।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর ছিল ২-২। মনে হচ্ছিল ম্যাচ হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে।
কিন্তু অ্যাডেড টাইমে আসে সবচেয়ে বড় মুহূর্ত।
এঞ্জো ফার্নান্দেজ দারুণ এক হেডারে বল জালে পাঠিয়ে দেন। স্কোর হয়ে যায় আর্জেন্টিনা ৩-২ মিশর।
শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের জয়।
কেন এই ম্যাচটি বিশেষ?
এই ম্যাচে ছিল পেনাল্টি মিস, দুই গোলে পিছিয়ে পড়া, মানসিক চাপ এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও একজন ফুটবলার বারবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন।
লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করার পরও ভেঙে পড়েননি। একটি অ্যাসিস্ট, একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
উপসংহার
ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসার মানসিক শক্তিই বড় দলকে আলাদা করে। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনা যে লড়াই করেছে, তার কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি।
পেনাল্টি মিস করেও যিনি দলের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যান, সেই কারণেই কোটি কোটি সমর্থকের কাছে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং অনুপ্রেরণার আরেক নাম।
