প্রবাসী কার্ড ২০২৬: যেসব সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা, জানুন বিস্তারিত

আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড। এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ, বিশেষ ইমিগ্রেশন, ডেবিট কার্ড, রেমিট্যান্স, স্বাস্থ্যসেবা, ঋণ ও সরকারি বিভিন্ন সুবিধ
Probashi

বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হবে। প্রথম ধাপে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে, যা প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং, ভ্রমণ, স্বাস্থ্যসেবা, রেমিট্যান্স ও সরকারি বিভিন্ন সেবায় বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের পর এবার প্রবাসী কার্ড চালু করা হচ্ছে।

প্রবাসী কার্ড কী?

প্রবাসী কার্ড হলো বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি পরিচয় ও সেবা কার্ড। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক সুবিধা এবং বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।

প্রবাসী কার্ডের উদ্দেশ্য

  1. প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি।
  2. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
  3. ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা।
  4. ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সেবা আরও আধুনিক করা।
  5. সরকারি বিভিন্ন সেবায় অগ্রাধিকার প্রদান।

প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে

  1. দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার।
  2. বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা।
  3. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে Meet & Greet সুবিধা।
  4. বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
  5. দেশে ও বিদেশে গাড়ি বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট।
  6. সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য Airport Pick & Drop সুবিধা।
  7. সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ।
  8. বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়ে ছাড়।
  9. কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।
  10. প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বিমা সুবিধা।
  11. জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও ইউটিলিটি সেবায় অগ্রাধিকার।
  12. লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা।
  13. রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট।
  14. ক্রেডিট স্কোরিং ও সহজ ঋণ সুবিধা।
  15. কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানো ও সহজ লেনদেন।
  16. এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার।
  17. সরকার ও ব্যাংকের অন্যান্য বিশেষ সুবিধা।

প্রথম পর্যায়ে কীভাবে চালু হবে?

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংক প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী কার্ডের সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

সময় লক্ষ্যমাত্রা
আগস্ট ২০২৬ পরীক্ষামূলক উদ্বোধন
ডিসেম্বর ২০২৬ ৫০,০০০ প্রবাসী কার্ড বিতরণ
জুন ২০২৭ ২,০০,০০০ প্রবাসী কার্ড বিতরণ

কেন প্রবাসী কার্ড গুরুত্বপূর্ণ?

প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। তাই প্রবাসীদের জন্য উন্নত ব্যাংকিং সুবিধা, দ্রুত সরকারি সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই কার্ড চালু করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার চায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী ধাপে ধাপে এই কার্ডের আওতায় আসুক। পাশাপাশি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক করে দক্ষ জনশক্তি তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপসংহার

প্রবাসী কার্ড চালু হলে বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে আরও সহজে ব্যাংকিং, ভ্রমণ, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সেবা এবং আর্থিক সুবিধা পাবেন। এটি শুধু একটি ডেবিট কার্ড নয়, বরং প্রবাসীদের জন্য বহুমুখী সেবা ও সম্মান নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Posts
প্রশ্ন: প্রবাসী কার্ড কবে চালু হবে?

উত্তর: সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্ট ২০২৬ মাসে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড চালু হবে।

প্রশ্ন: প্রথম পর্যায়ে কোন ব্যাংক প্রবাসী কার্ড ইস্যু করবে?

উত্তর: প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে।

প্রশ্ন: প্রবাসী কার্ডে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

উত্তর: এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ, বিশেষ ইমিগ্রেশন, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, ঋণ, টিকিট ও হোটেল ডিসকাউন্টসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: কতটি প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?

উত্তর: ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং জুন ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.