ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্র দেখানোর নিয়ম: মুনাফা ও কর রেয়াত

ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ, মুনাফা ও উৎসে কর দেখানোর নিয়ম জানুন। সঞ্চয়পত্রে কর রেয়াত এবং অনলাইনে তথ্য জমার পদ্ধতি বিস্তারিত পড়ুন।
Etin

ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্র দেখানোর নিয়ম: মুনাফায় কর, উৎসে কর ও কর রেয়াত সম্পর্কে জানুন

বাংলাদেশে অনেক করদাতা বর্তমানে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। তবে রিটার্ন পূরণ করার সময় সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ, মুনাফা এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য সঠিকভাবে দেখানো নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। এসব তথ্য ভুলভাবে দেওয়া বা বাদ পড়লে পরবর্তী সময়ে কর-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সঞ্চয়পত্রে টাকা বিনিয়োগ করলে শুধু মুনাফা পাওয়ার হিসাব রাখলেই হবে না, আয়কর রিটার্নে বিনিয়োগ ও মুনাফার তথ্যও যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে মুনাফা থেকে উৎসে কর কেটে নেওয়া হলে সেই করের তথ্যও রিটার্নে সঠিকভাবে দাবি করতে হবে।

অনেকের প্রশ্ন, ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের তথ্য কোথায় দিতে হবে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আবার কর দিতে হয় কি না এবং সঞ্চয়পত্র কিনলে কর রেয়াত পাওয়া যায় কি না। এসব বিষয় বুঝতে হলে সম্পদ, আয়, উৎসে কর এবং বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের পার্থক্য জানা জরুরি।

ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের তথ্য কোথায় দেবেন?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্রের তথ্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক সম্পদ ও আয়ের বিভাগ ব্যবহার করতে হয়। ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের অনলাইন রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তথ্য Income from Financial Assets অংশে দেখানো যায়।

এনবিআরের ই-রিটার্ন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে কেনা সঞ্চয়পত্রের তথ্য আনার জন্য Import from NSD অপশন ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। তবে ৩০ জুন ২০১৯-এর আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের তথ্যের ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত অপশন ও সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

সঞ্চয়পত্রের তথ্য সাধারণত রিটার্নের একাধিক অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সঞ্চয়পত্রের মূল বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে এবং সেখান থেকে পাওয়া মুনাফা আয় হিসেবে দেখাতে হয়। মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে সেই করের তথ্যও যথাযথ অংশে উল্লেখ করতে হবে।

সঞ্চয়পত্র থাকলে কোন কোন তথ্য দেখাতে হবে?

ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের তথ্য দেওয়ার সময় মূল বিনিয়োগ, মুনাফা এবং উৎসে করের হিসাব আলাদা করে বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রতিটি তথ্যের উদ্দেশ্য আলাদা।

  • সঞ্চয়পত্রের মূল টাকা: সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত অংশে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ দেখাতে হবে।
  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা: Income from Financial Assets অংশে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার তথ্য দিতে হবে।
  • উৎসে কর্তিত কর: মুনাফা থেকে কর কেটে নেওয়া হয়ে থাকলে Tax & Payment অংশে সংশ্লিষ্ট উৎসে করের তথ্য দাবি করতে হবে।
  • বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত: আইন অনুযায়ী যোগ্য হলে বিনিয়োগের তথ্য প্রযোজ্য কর রেয়াতের অংশে দেখাতে হবে।

মনে রাখতে হবে, সঞ্চয়পত্র কেনার টাকা সম্পদ হিসেবে দেখানো এবং সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফা আয় হিসেবে দেখানো এক বিষয় নয়। তাই একটির তথ্য অন্যটির জায়গায় দেওয়া উচিত নয়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কি আয়কর দিতে হয়?

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী, সাধারণভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট শ্রেণির সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা বা ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, কোনো আয়বর্ষে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করলে সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফায় সংশ্লিষ্ট ধারায় উৎসে কর কর্তনের ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে। এ সুবিধা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের আইন ও শর্ত যাচাই করা জরুরি।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাওয়ার সময় উৎসে কর কেটে নেওয়া হলে সেই তথ্য রিটার্নে সঠিকভাবে দেখাতে হবে। তবে উৎসে কর কাটা হয়েছে বলেই সব ক্ষেত্রে করের চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হয়ে গেছে—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। করদাতার সামগ্রিক আয়, প্রযোজ্য বিধান এবং কর হিসাবের ওপর চূড়ান্ত দায় নির্ভর করতে পারে।

সঞ্চয়পত্র কিনলে কি কর রেয়াত পাওয়া যায়?

নির্দিষ্ট শর্তে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আয়কর রেয়াতের আওতায় আসতে পারে। তবে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বিনিয়োগের ধরন, পরিমাণ, প্রযোজ্য সীমা এবং সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আইন বিবেচনা করতে হয়।

এনবিআরের নির্দেশনায় যোগ্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগ কর রেয়াতযোগ্য হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের উল্লেখ থাকলেও একে সবার জন্য নিঃশর্ত কর রেয়াতের নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট করবর্ষে প্রযোজ্য বিধান ও যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর রেয়াত মানে বিনিয়োগের পুরো টাকা কর থেকে বাদ দেওয়া নয়। যোগ্য বিনিয়োগের নির্ধারিত নিয়ম ও হিসাব অনুযায়ী কর রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। করদাতার করদায় না থাকলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা বাস্তবে পাওয়া নাও যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রেয়াতের পরও ন্যূনতম করের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কীভাবে সমন্বয় করবেন?

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কেটে নেওয়া হলে সেই করের তথ্য ই-রিটার্নে সঠিকভাবে দাবি করা জরুরি। এনবিআরের ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট করের তথ্য আপডেট করার জন্য Tax & Payment অংশ ব্যবহার করা যায়।

  1. ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন: এনবিআরের সরকারি ই-রিটার্ন পোর্টাল etaxnbr.gov.bd-এ লগইন করুন।
  2. মুনাফার তথ্য দিন: Income from Financial Assets অংশে সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার তথ্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পূরণ করুন।
  3. Tax & Payment অংশে যান: সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্নে Tax & Payment বিভাগ খুলুন।
  4. ই-রিটার্ন লেজার দেখুন: Update Tax Payment Status থেকে e-Return Ledger অপশনে প্রবেশ করুন, যদি এটি আপনার অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত হয়।
  5. উৎসে করের তথ্য দাবি করুন: Claim Source Tax অংশে Sanchaypatra নির্বাচন করে প্রযোজ্য তথ্য দিন।
  6. তথ্য যাচাই করুন: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, উৎসে কর্তিত কর এবং সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য মিলিয়ে নিন।

অনলাইন সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে Import from NSD অপশন ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট তথ্য আনার সুবিধা থাকতে পারে। আমদানির পর তথ্য ঠিকভাবে এসেছে কি না, তা যাচাই করুন। উৎসে কর্তিত করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে না এলে সংশ্লিষ্ট নথি ও এনবিআরের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় তথ্য দাবি করুন।

সঞ্চয়পত্রের তথ্য দেওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ছোটখাটো ভুলও পরে কর-সংক্রান্ত প্রশ্ন বা সংশোধনের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। তাই সঞ্চয়পত্রের তথ্য পূরণের সময় কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকুন।

  • সঞ্চয়পত্রের মূল বিনিয়োগকে মুনাফা হিসেবে দেখাবেন না।
  • মুনাফার তথ্য আয় হিসেবে দেখাতে ভুলবেন না।
  • উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে প্রমাণ ছাড়া ভুল অঙ্ক দাবি করবেন না।
  • সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট, ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং এনএসডির তথ্য মিলিয়ে নিন।
  • কর রেয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সীমা ও শর্ত যাচাই করুন।
  • একই বিনিয়োগ বা উৎসে করের তথ্য ভুল করে একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করবেন না।
  • রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করুন।

সঞ্চয়পত্রের তথ্যের জন্য কোন নথি সংরক্ষণ করবেন?

রিটার্ন প্রস্তুতের আগে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ ও মুনাফার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি সংগ্রহ করে রাখা ভালো। এতে অনলাইন ফরম পূরণ এবং প্রয়োজন হলে তথ্য যাচাই সহজ হয়।

  • সঞ্চয়পত্র কেনার রসিদ বা সার্টিফিকেটের তথ্য।
  • সঞ্চয়পত্রের মূল বিনিয়োগের পরিমাণ ও ক্রয়ের তারিখ।
  • মুনাফা পাওয়ার বিবরণ বা সংশ্লিষ্ট হিসাবের তথ্য।
  • উৎসে কর্তিত করের প্রমাণ বা বিবরণ।
  • প্রযোজ্য হলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সমর্থনকারী নথি।

সঞ্চয়পত্র ও ই-রিটার্ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

ই-রিটার্নে সঞ্চয়পত্রের তথ্য কোথায় দিতে হয়?

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সাধারণত Income from Financial Assets অংশে এবং মূল বিনিয়োগ সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত অংশে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী দেখাতে হয়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কর কেটে নিলে কি রিটার্নে দেখাতে হবে?

হ্যাঁ। মুনাফার তথ্য এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য প্রযোজ্য অংশে সঠিকভাবে দেখানো জরুরি। উৎসে করের তথ্য দাবি করার সময় সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে অঙ্ক মিলিয়ে নিন।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে কি পুরো বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াত পাওয়া যায়?

না। কর রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারিত হয় প্রযোজ্য আইন, যোগ্য বিনিয়োগের ধরন, সীমা এবং করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী। পুরো বিনিয়োগের টাকা সরাসরি কর থেকে বাদ দেওয়া হয় না।

অনলাইনে কেনা সঞ্চয়পত্রের তথ্য কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়?

কিছু অনলাইন সঞ্চয়পত্রের তথ্য Import from NSD অপশনের মাধ্যমে আনার সুবিধা থাকতে পারে। তবে তথ্য আমদানির পর তা সঠিকভাবে এসেছে কি না যাচাই করা উচিত। পুরোনো সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি তথ্য দিতে হতে পারে।

ই-রিটার্নের সরকারি ওয়েবসাইট কোনটি?

এনবিআরের সরকারি ই-রিটার্ন পোর্টাল হলো https://etaxnbr.gov.bd/। করসংক্রান্ত নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট দেখুন।

শেষ কথা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থাকলে ই-রিটার্নে মূল বিনিয়োগ, মুনাফা এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য সঠিকভাবে দেখানো জরুরি। মূল বিনিয়োগকে সম্পদ হিসেবে এবং মুনাফাকে আয় হিসেবে দেখাতে হবে। মুনাফা থেকে কর কেটে নেওয়া হয়ে থাকলে সেই করের তথ্যও প্রযোজ্য নিয়মে দাবি করতে হবে।

রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট, এনএসডির তথ্য এবং উৎসে করের হিসাব মিলিয়ে নিন। একই সঙ্গে কর রেয়াতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আইন ও এনবিআরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। এতে ভুল তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং কর-সংক্রান্ত হিসাব আরও নির্ভুল রাখা সম্ভব হবে।

তথ্য যাচাইয়ের জন্য: এনবিআর ই-রিটার্ন পোর্টাল | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত কর পরামর্শ নয়। সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর, কর রেয়াত এবং ই-রিটার্নে তথ্য দেওয়ার নিয়ম করবর্ষ ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন।

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.