শিয়াল ও ছাগল
ঘটনার শুরু
বহুদিন আগের কথা। ঘন জঙ্গলের ভেতর এক শিয়াল বাস করত। একদিন প্রচণ্ড তৃষ্ণায় কাতর হয়ে সে গুহা থেকে বেরিয়ে পানি খুঁজতে লাগল। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল এবং সামনে একটি কূয়ার দেখা পেল। তৃষ্ণার্ত শিয়ালটি পানি পান করতে গিয়ে অসাবধানতায় কূয়ার ভেতরে পড়ে গেল। অনেক চেষ্টা করেও সে আর কূয়া থেকে উঠতে পারল না। নিরুপায় হয়ে সে অপেক্ষা করতে লাগল—যদি কেউ আসে আর তাকে সাহায্য করে।
ছাগলের আগমন
ঐ কূয়ার পাশেই জঙ্গলে এক ছাগলের বাস ছিল। একদিন ঘাস খেতে খেতে ছাগলেরও খুব তৃষ্ণা পেল। পানি খুঁজতে খুঁজতে সে কূয়ার ধারে এসে দাঁড়াল। কূয়ার মধ্যে শিয়ালকে দেখে ছাগল জিজ্ঞেস করল, “শিয়াল ভাই, কূয়ায় কি খাওয়ার মতো ভালো পানি আছে?” শিয়াল বলল, “হ্যাঁ, আছে।” নিজের বিপদ গোপন করে শিয়াল মুখভরা হাসি দিয়ে আরও বলল, “এই কূয়ার পানি এত মিষ্টি যে আশপাশে আর কোথাও এমন পানি পাবে না। তুমি নেমে এসে প্রাণভরে পানি খাও; কেউ কিছু বলবে না।” প্রলোভনে পড়ে ছাগলটি আর দেরি না করে কূয়ার মধ্যে লাফিয়ে পড়ল এবং পেটপুরে পানি খেল।
চতুর ফাঁদ
পানি খাওয়া শেষ হলে ছাগল কৃতজ্ঞতায় বলল, “ধন্যবাদ, শিয়াল ভাই।” তখন শিয়াল নিজের দুঃস্থতার কথা তুলে ধরে বলল, “আমি তো এই কূয়ার ভেতর ভয়ানকভাবে আটকা পড়েছি। এখান থেকে বের হতে তোমার সাহায্য দরকার।” ছাগল বলল, “কী করতে হবে বলো।” শিয়াল পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিল, “তুমি তোমার সামনের পা দুটো কূয়ার দেয়ালে ভর দিয়ে খাড়া হয়ে দাঁড়াও, মাথাটা নিচু করে রাখো। আমি তোমার পিঠ বেয়ে উঠে তোমার শিং ধরেই কূয়ার বাইরে চলে যাব।” ছাগল উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, “আমাকেও তো বের হতে হবে!” শিয়াল সঙ্গে সঙ্গে আশ্বাস দিল, “আমি একবার উঠতে পারলেই তোমাকেও তুলে দেব।”
Related Posts
শিয়ালের পালানো
কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই ছাগল শিয়ালের কথামতো দাঁড়াল। সুযোগ বুঝে শিয়াল লাফ দিয়ে তার পিঠে উঠল, শিং ধরে নিজেকে সোজা করল এবং দক্ষতায় কূয়ার মুখে পৌঁছে বাইরে বেরিয়ে গেল। নিরাপদে বাইরে এসেই সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে দৌড়ে সরে পড়ল। ছাগল তখন চিৎকার করে বলল, “তুমি তো প্রতিশ্রুতি ভেঙে দিলে!” শিয়াল থেমে পেছন ফিরে বলল, “ওরে বোকা! তোর গায়ে যত লোম, মাথায় যদি সে পরিমাণ বুদ্ধি থাকত, তবে উপরে ওঠার পথ ঠিক না করে তুই কখনও নীচে ঝাঁপ দিতি না!” এত বলেই শিয়াল চম্পট দিল।
শিক্ষা
বেচারা ছাগল তখন বুঝল—শিয়ালের মিষ্টি কথায় সে প্রতারিত হয়েছে। কূয়ার ভেতর থেকে বেরোনোর কোনো উপায় তার জানা নেই। এই গল্পের শিক্ষণীয় কথা হলো: কোনো কাজ করার আগে ভেবে-চিন্তে এবং পথ নিশ্চিত করে তবেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শুধু মধুর কথায় ভেসে গেলে চলবে না; বুদ্ধি খাটিয়ে পরিণাম যাচাই করতে হবে—তবেই বিপদ এড়ানো যায়।