খাবার হজম আমাদের সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক খাবার সঠিক সময়ে খেলে শরীর শক্তি পায়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করে এবং নানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অনেকেই জানেন না কোন খাবার কতক্ষণে হজম হয় এবং কখন খাওয়া ভালো। এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
পানি
পানি সবচেয়ে দ্রুত হজম হয়। ০–১০ মিনিটেই শরীরে শোষিত হয়। খালি পেটে সকালে পানি খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।
জলসমৃদ্ধ ফল
তরমুজ, বাঙ্গি, আঙুর
এই ধরনের ফল ২০–৩০ মিনিটে হজম হয়। খালি পেটে বা খাবারের মাঝে খাওয়া ভালো।
অম্লীয় ফল
কমলা, আনারস, কিউই
হজম হতে সময় লাগে ৩০–৪০ মিনিট। সকালে বা বিকেলের স্ন্যাক্স টাইমে ভালো। তবে খাবারের পরপর খেলে গ্যাস হতে পারে।
মিষ্টি ফল
আপেল, নাশপাতি, পেঁপে
৪০–৫০ মিনিটে হজম হয়। খালি পেটে বা খাবারের মাঝে খেলে উপকারি।
কাঁচা শাকসবজি
শসা, গাজর, সালাদ
কাঁচা শাকসবজি ৩০–৪০ মিনিটে হজম হয়। দুপুর বা রাতের খাবারের আগে খেলে ভালো।
রান্না করা সবজি
রান্না করা সবজি হজম হতে ৪০–৫০ মিনিট সময় নেয়। দুপুর বা রাতে খাওয়া ভালো।
ভাত, রুটি, আলু
কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, আলু ১.৫–২ ঘণ্টায় হজম হয়। দুপুর বা রাতে খাওয়া উপযুক্ত।
Related Posts
ডাল, ছোলা, সয়াবিন
ডাল ও ডালজাতীয় খাবার হজম হতে ২–৩ ঘণ্টা সময় লাগে। দুপুর বা বিকেলে খেলে হজম সহজ হয়।
দুধ ও দই
দুধ ও দই ৩–৪ ঘণ্টায় হজম হয়। সকালে বা রাতে খাওয়া উপকারী।
ডিম
সেদ্ধ ডিম হজম হতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে। ভাজা ডিমে হজম সময় কিছুটা বেশি হয়। সকাল বা দুপুরে খাওয়া ভালো।
মাছ
মাছ প্রায় ১ ঘণ্টায় হজম হয়। দুপুর বা রাতে খাওয়া উপযোগী।
মুরগি
মুরগি হজম হতে ২–৩ ঘণ্টা সময় লাগে। দুপুর বা রাতে খাওয়া ভালো।
গরু ও খাসি মাংস
এই মাংসগুলো হজম হতে ৩–৪ ঘণ্টা সময় নেয়। দুপুরে খাওয়া উত্তম, রাতে খেলে হজম ধীর হয়।
বাদাম ও বীজ
বাদাম ও বীজ ২–৩ ঘণ্টায় হজম হয়। সকালে বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া ভালো।
ফাস্টফুড ও তেলেভাজা
এই খাবারগুলো ৩–৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ে হজম হয়। তাই যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।

হজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- ফল সবসময় খালি পেটে বা খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খান।
- দুপুরে ভারী খাবার খান, রাতে হালকা খাবার রাখুন।
- পানি খাবারের ঠিক আগে বা ৩০ মিনিট পরে পান করুন।
- হজমের সমস্যা এড়াতে বেশি তেলেভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন।
- রাতে সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন।
উপসংহার: সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খাওয়া শরীরকে সুস্থ রাখে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। প্রতিটি খাবারের হজম সময় জেনে পরিকল্পনা করলে গ্যাস, অম্বল বা হজমের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।