১) ভূমিকা: কেন টাইফয়েড টিকা ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন জরুরি
টাইফয়েড একটি জলবাহিত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, যা দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সরকারিভাবে বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই টিকাটি দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর সুরক্ষা দেয়—ফলে স্কুল, টিউশন, খেলাধুলা বা পারিবারিক অনুষ্ঠানসহ দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক রাখা সহজ হয়। কিন্তু জনসমাগমভিত্তিক ক্যাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো, ভুল তথ্যের কারণে ফিরে আসা বা একই শিশুর দ্বৈত নিবন্ধন—এসব ঝামেলা কমাতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এখন সবচেয়ে স্মার্ট সমাধান। অনলাইনে আগে থেকে তথ্য জমা দিলে কর্তৃপক্ষ সঠিক ডোজ বরাদ্দ করতে পারে, টিকাদান কেন্দ্রগুলো আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারে, আর অভিভাবকেরাও সময় বাঁচাতে পারেন।
অনলাইন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—স্বচ্ছতা ও ট্র্যাকিং। আপনি যখন জন্মতারিখ, ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন (Birth Registration Number) ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করেন, সিস্টেম একটি ইউনিক রেকর্ড তৈরি করে। ক্যাপচা ও OTP (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়, যা ফেক এন্ট্রি বা ডুপ্লিকেট কমায়। এরপর পোর্টাল আপনাকে টাইফয়েড/মেনিনজাইটিসের মধ্যে সঠিক অপশন বাছাই করতে দেয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভুক্ত বা বহির্ভূত ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র দেখায়, এবং ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোডের সুযোগ দেয়। টিকা নেওয়ার পর অনলাইন সার্টিফিকেটও পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যতে স্কুল-ভর্তি, পরীক্ষা, ক্যাম্প বা ভ্রমণে কাজে লাগবে। সংক্ষেপে—একটি সাজানো, কম ঝামেলাপূর্ণ, ডেটা-চালিত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
টাইফয়েডের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ
টাইফয়েড সাধারণত Salmonella Typhi নামের ব্যাকটেরিয়ায় হয় এবং উচ্চ জ্বর, পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, দুর্বলতা—এসব উপসর্গ দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়তে পারে। টিকা নেওয়া মানে শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষা নয়, কমিউনিটিতেও হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়—যত বেশি শিশু টিকাপ্রাপ্ত, তত কম সংক্রমণ। টিকাসহ পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, হাত ধোয়া—এই সবকিছু একসঙ্গে প্রয়োগ করলেই দীর্ঘমেয়াদে রোগের বোঝা কমে।
অনলাইন প্রক্রিয়ার সুবিধা—সময়, স্বচ্ছতা, ট্র্যাকিং
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ২৪/৭ খোলা থাকে, ফলে অফিস বা স্কুলের সময়ের বাইরে রাত–সকাল যেকোনো সময়ে ফর্ম পূরণ করা যায়। পোর্টাল সাধারণত ধাপে ধাপে গাইড করে—প্রথমে জন্মতারিখ, তারপর জন্ম নিবন্ধন নম্বর, ইংরেজিতে নাম/ঠিকানা, লিঙ্গ নির্বাচন, ক্যাপচা, এরপর অভিভাবকের মোবাইল/ই-মেইল—এভাবে সাবমিট করে OTP দিয়ে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন শেষ। সবকিছু ডিজিটাল হওয়ায় ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে বার্তা দেয়, ভুল ঠিক করে আবার এগোনো যায়। সবচেয়ে ভালো দিক—একবার একাউন্ট তৈরি করলে ভবিষ্যতে লগইন করে কার্ড রি-ডাউনলোড, সিডিউল দেখা, এমনকি সার্টিফিকেট নেওয়াও সহজ হয়।
২) সরকারি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল সম্পর্কে ধারণা
রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকার নির্ধারিত অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করা আবশ্যক। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া বা অচেনা ওয়েবসাইটে ভুয়া লিংকে ক্লিক করে সমস্যায় পড়েন—এটা একদমই করবেন না। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সাধারণত .gov.bd ডোমেইনে থাকে এবং পোর্টালে নিরাপদ সংযোগ (HTTPS) সক্রিয় থাকে। ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে লক আইকন আছে কি না, বানান সঠিক কি না, অদ্ভুত পপ-আপ আসছে কি না—এসব দেখে নিশ্চিত হোন। সন্দেহ হলে সরাসরি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) ওয়েবসাইট থেকে রেফারেন্স লিংক নিন বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফোন করে জেনে নিন।
পোর্টালে ঢুকলে হোমপেজে সাধারণত কয়েকটি স্পষ্ট বোতাম থাকে—“নিবন্ধন/Registration”, “কার্ড ডাউনলোড”, “সার্টিফিকেট”, “হেল্প/FAQ” ইত্যাদি। টাইফয়েড/মেনিনজাইটিস—এমন ট্যাবও আলাদা করে থাকতে পারে। আপনার কাজ হলো—টাইফয়েডের জন্য নির্ধারিত রুট বেছে নিয়ে ধাপে ধাপে তথ্য দেওয়া। পোর্টাল অনেক সময় বাংলা–ইংরেজি দু’ভাষাতেই নির্দেশনা দেয়; তবে ফিল্ড ইনপুট, বিশেষ করে নাম/ঠিকানা/পাসপোর্ট—এসব ইংরেজিতে চাওয়া হতে পারে।
কোথায় পাবেন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সঠিক লিংক
অফিসিয়াল লিংক খুঁজতে সর্বপ্রথম সরকারি দপ্তরের বিশ্বস্ত পেইজে যান—যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) বা সিটি করপোরেশনের নোটিস বোর্ড। অভিভাবক গ্রুপগুলোতে শেয়ার করা লিংক ক্লিক করার আগে ওয়েব ঠিকানার ডোমেইন মিলিয়ে নিন। প্রয়োজনে নিজে হাতে টাইপ করে ঢোকুন। অনেকে সার্চ ইঞ্জিনে “Typhoid vaccine registration Bangladesh” লিখে খোঁজেন—সেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন (Ad) ট্যাগযুক্ত সাইট এড়িয়ে অফিশিয়াল ডোমেইন বেছে নিন। আর্টিকেলের শেষে আমরা রেফারেন্স হিসেবে সরকারি ওয়েবসাইট (যেমন DGHS) ও সংবাদমাধ্যম Jago News লিংক যুক্ত করেছি, যাতে দ্রুত যাচাই করতে পারেন।
পোর্টালের প্রধান মডিউল: রেজিস্ট্রেশন, সিডিউলিং, কার্ড ও সার্টিফিকেট
পোর্টাল সাধারণত চারটি মূল ধাপে কাজ করে—(১) রেজিস্ট্রেশন: যেখানে জন্মতারিখ, জন্ম নিবন্ধন, লিঙ্গ, ঠিকানা, অভিভাবকের কন্টাক্ট, ক্যাপচা, OTP দিয়ে একাউন্ট তৈরি; (২) ভ্যাকসিন সিলেকশন/সিডিউলিং: টাইফয়েড নির্বাচন করে স্কুল/নন-স্কুল ক্যাটাগরি বাছাই, নিকটস্থ কেন্দ্র দেখা, প্রয়োজনে স্লট কনফার্ম; (৩) ভ্যাকসিন কার্ড: সাবমিটের পর কার্ড ডাউনলোড/প্রিন্ট, QR/বারকোডসহ; (৪) সার্টিফিকেট: টিকা নেওয়ার পর অনলাইনে সার্টিফিকেট ইস্যু, যা PDF আকারে ডাউনলোডযোগ্য। এই গঠিত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে তথ্য এক জায়গায় গুছানো থাকে এবং প্রয়োজনমতো দ্রুত উদ্ধার করা যায়।
৩) প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করুন: জন্মতারিখ, ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন, যোগাযোগ
রেজিস্ট্রেশন শুরু করার আগে কয়েকটি তথ্য হাতের কাছে রাখুন—জন্মতারিখ (DD–MM–YYYY), ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর (BRN), শিশুর নাম (ইংরেজি বর্ণমালা), লিঙ্গ, বর্তমান ঠিকানা (হাউস/রোড/এরিয়া, থানা, ওয়ার্ড, জোন), অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল। পাসপোর্ট নম্বর থাকলে সেটিও যুক্ত করতে পারেন। তথ্য প্রস্তুত থাকলে ফর্ম পূরণে ভুল কম হয়, টাইম-আউট এড়ানো যায়, এবং একই সেশনে সাবমিট করা সহজ হয়।
জন্মতারিখ ইনপুটের ফরম্যাট: দিন–মাস–বছর
বেশিরভাগ পোর্টাল বাংলা ক্যালেন্ডার নয়, ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিন–মাস–বছর চায়। ক্যালেন্ডার পিকার থেকে নির্বাচন করলে ভুলের ঝুঁকি কমে। হাতে টাইপ করলে “07-09-2015” এর মতো জিরো-প্যাডেড ফরম্যাট ব্যবহার করুন। জন্মতারিখ ভুল দিলে বয়স যাচাইয়ে সমস্যা হয়—বিশেষ করে টাইফয়েডের জন্য ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সসীমার ক্যাটাগরি মেলাতে ব্যর্থ হতে পারে। তাই সাবমিটের আগে আবারও মিলিয়ে নিন।
১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ: কী, কেন, কোথায় পাবেন
বর্তমানে রেজিস্ট্রেশনে ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন (BRN) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইডেন্টিফায়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ব্যক্তিকে ইউনিকভাবে চিহ্নিত করে, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি ঠেকায় এবং সার্টিফিকেট ইস্যুতে সঠিক রেকর্ড লিংক করতে সাহায্য করে। কারও BRN না থাকলে স্থানীয় সিটি করপোরেশন/ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে দ্রুত সংগ্রহ করুন। আগের ১৬-সংখ্যার হলে হালনাগাদ করিয়ে ১৭-সংখ্যায় নিয়ে আসুন। ব্রাউজারের অটো-করেক্ট/স্পেসিং যেন নম্বরের মাঝে ঢুকে না পড়ে, এদিকে খেয়াল রাখবেন।
ইংরেজিতে তথ্য লেখার নিয়ম ও সাধারণ ভুল
যেহেতু পোর্টাল ইংরেজিতে নাম/ঠিকানা চাইতে পারে, তাই বাংলা–ইংরেজি ট্রান্সলিটারেশনে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। উদাহরণ: “মেহেদী হাসান” → “Mehedi Hasan” (Mehadi/Mehdi ইত্যাদি ভিন্ন বানান পরিহার করুন)। ঠিকানায় Road/Block/Area/Thana/Ward—এই ট্যাগগুলো স্পষ্ট রাখুন। পুরো তথ্য ক্যাপস-লকে না লিখে Title Case (“House-12, Road-3, Mirpur”) ব্যবহার করুন। পাসপোর্ট নম্বর থাকলে অক্ষর–সংখ্যা ঠিকমতো বসান; মাঝখানে স্পেস দেবেন না। সাবমিটের আগে একবার উচ্চস্বরে পড়ে দেখুন—ভুল চোখে পড়বে।
৪) প্রথম ধাপ: একাউন্ট তৈরি ও প্রাথমিক যাচাই (OTP)
পোর্টালে ঢুকে “Registration” বোতামে ক্লিক করলেই ফর্ম ওপেন হবে। প্রথম অংশে জন্মতারিখ, লিঙ্গ (নারী/পুরুষ), ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, শিশুর নাম (ইংরেজিতে), এবং ক্যাপচা দিতে হবে। ক্যাপচা বট-সাবমিশন ঠেকায়—তাই অক্ষরগুলো স্পষ্ট করে টাইপ করুন; বুঝতে না পারলে রিফ্রেশ করুন। এরপর “Next/Continue” চাপলে দ্বিতীয় অংশে চলে যাবেন, যেখানে অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, পাসপোর্ট নম্বর (যদি থাকে), এবং বর্তমান ঠিকানা পূরণ করতে হবে।
সবকিছু ঠিকমতো হলে “Submit” করার পর নিবন্ধিত মোবাইলে একটি OTP আসবে। এই OTP নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধ—অতএব ইনবক্স–স্প্যাম–ব্লকড লিস্ট চেক করুন। OTP টাইপ করে “Verify” করলে একাউন্ট তৈরি সম্পন্ন হবে এবং আপনার প্রোফাইলে টাইফয়েড/মেনিনজাইটিস অপশন দেখা যাবে। মনে রাখবেন, কিছু ব্যবহারকারী শোনাচ্ছেন যে “বাবা–মায়ের মোবাইল নম্বর দিয়েও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে”—কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক দেখায়। এই অসামঞ্জস্য থাকলে সাময়িকভাবে BRN সংগ্রহ করেই এগোনো বুদ্ধিমানের। ভবিষ্যতে পোর্টাল আপডেট হলে বিকল্প আইডি/ফ্যামিলি নম্বর গ্রহণ শুরু হতে পারে—ততদিন BRN ব্যবহারই নিরাপদ।
লগইন/সাইন-আপ, ক্যাপচা, ও তথ্য যাচাই
অনেক সময় সার্ভার ব্যস্ত থাকলে ক্যাপচা বারবার রিফ্রেশ নিতে পারে—ধৈর্য্য হারাবেন না। ফর্মে লাল রঙের এরর বার্তা পড়ুন—সাধারণত কোন ফিল্ডে কী ভুল হয়েছে স্পষ্ট করে দেয়। নাম ও জন্ম নিবন্ধন নম্বর মিলছে না—এমন দেখালে BRN–এর প্রতিটি অঙ্ক নতুন করে টাইপ করুন; কপি–পেস্টে লুকানো স্পেস থাকতে পারে।
মা–বাবার মোবাইল, ই-মেইল, পাসপোর্ট (যদি থাকে), বর্তমান ঠিকানা
মোবাইল নম্বর দিন দেশের কোড বাদ দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটে (যেমন 01XXXXXXXXX)। ই-মেইলটি অ্যাকটিভ রাখুন—ভবিষ্যতে কার্ড/সার্টিফিকেট ডাউনলোড লিংক বা নোটিফিকেশন এলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে পান। পাসপোর্ট নম্বর দিলে ভবিষ্যৎ ভ্রমণ–স্কুল আদান–প্রদানে ম্যাচিং সহজ হয়। ঠিকানায় থানা, ওয়ার্ড, জোন সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি—কারণ পরের ধাপে কেন্দ্র বাছাইয়ে এগুলোই মূল ফিল্টার।
OTP কোড না এলে কী করবেন
প্রথমে ফোনে সিগন্যাল ও এসএমএস ইনবক্স ফাঁকা আছে কিনা দেখুন। স্প্যাম/ব্লকড কন্ট্যাক্টে চলে গেছে কি না চেক করুন। ১–২ মিনিট অপেক্ষার পরও না এলে “Resend OTP” বাটন ব্যবহার করুন। তবু ব্যর্থ হলে অন্য মোবাইল নম্বর যোগ করে দেখুন, অথবা পরের দিন অফিসিয়াল সময়ের মধ্যে আবার চেষ্টা করুন—কখনো কখনো অপারেটর–নির্ভর বিলম্ব হয়।
৫) দ্বিতীয় ধাপ: টিকা নির্বাচন—টাইফয়েড নাকি মেনিনজাইটিস
OTP ভেরিফিকেশনের পর আপনার ড্যাশবোর্ডে টিকা বাছাইয়ের অপশন আসবে—“Typhoid” বা “Meningitis”। এখানে টাইফয়েড নির্বাচন করলে দুটি স্পষ্ট ক্যাটাগরি ভেসে ওঠে—(ক) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নবম শ্রেণি ও সমমান পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থী; (খ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশু। আপনার সন্তানের অবস্থা অনুযায়ী যে ক্যাটাগরিটি সঠিক, সেটি সিলেক্ট করুন। ভুল ক্যাটাগরি বাছাই করলে পরের ধাপে স্কুল–তথ্য বা কেন্দ্র–তথ্য মিলবে না, স্লটও সঠিকভাবে বরাদ্দ হবে না।
টাইফয়েড অপশন বাছাইয়ের পর দুটি ক্যাটাগরি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভুক্ত ক্যাটাগরিতে গেলে স্কুল/মাদ্রাসা/সমমান বোর্ড, শ্রেণি (কোন ক্লাসে পড়ছে), থানা, ওয়ার্ড, জোন—এসব দেওয়ার পর স্ক্রিনে টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা আসে। সাধারণত নিজের স্কুল–কেন্দ্রই প্রেফার্ড—কারণ দলবদ্ধভাবে সিডিউলিং সহজ হয়, শিক্ষক–স্টাফরা সমন্বয় করেন এবং উপস্থিতি–বিবরণী ঠিক থাকে। অপরদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত ক্যাটাগরিতে নিকটস্থ সরকারি/স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ক্যাম্প বেছে নিতে হয়—ঠিকানা অনুযায়ী সবচেয়ে কাছের এবং সুবিধাজনক তারিখ–সময় বেছে নেওয়া ভালো।
বয়সসীমা, অগ্রাধিকার, ও যোগ্যতা যাচাই
টাইফয়েড টিকার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমা মেনে চলা অপরিহার্য—৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা প্রধান লক্ষ্যগোষ্ঠী। ফর্মের জন্মতারিখ অনুযায়ী সিস্টেম অটো–ভ্যালিডেশন চালায়; কাজেই জন্মতারিখ ভুল দিলে “Not eligible” দেখাতে পারে। বয়সসীমার ভেতরে একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করুন—ডুপ্লিকেট তথ্য দেবেন না। যদি বিশেষ স্বাস্থ্য–জটিলতা থাকে, টিকাদানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; প্রয়োজন হলে টিকাদানকেন্দ্রে চিকিৎসা–নথি দেখান যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনমতো নির্দেশনা দিতে পারেন।
৬) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভুক্ত শিশুদের জন্য রেজিস্ট্রেশন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভুক্ত শিশুদের জন্য টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন তুলনামূলকভাবে সরল, কারণ স্কুলভিত্তিক সিডিউলিং ও উপস্থিতি-পরিচালনা আগেই সমন্বয় করা থাকে। প্রথমে পোর্টালে লগইন করে “Typhoid” নির্বাচন করুন, এরপর “School/Institution” ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুন। এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, পুরো ঠিকানা, শ্রেণি (ক্লাস), এবং স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট (থানা, ওয়ার্ড, জোন) দিতে হয়। তথ্যগুলো ইংরেজিতে লিখুন, এবং প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল বানান অনুসরণ করুন—যেমন “Govt. Laboratory High School, Tejgaon, Dhaka”। সঠিক ক্লাস উল্লেখ করলে একই ক্লাসের জন্য নির্ধারিত সিডিউল ও কেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুলেই টিকাদান কেন্দ্র বসে, ফলে শিশুকে আলাদা দূরত্বে নিয়ে যেতে হয় না; শিক্ষক-শিক্ষিকারা সারিতে দাঁড় করানো, রেজিস্ট্রেশন ম্যাচিং, এবং পোস্ট-ভ্যাকসিন পর্যবেক্ষণ সমন্বয় করেন।
রেজিস্ট্রেশন সাবমিটের আগে একবার “Preview” দেখে নিন। নাম, জন্মতারিখ, BRN নম্বর, এবং ক্লাস—সবকিছু মিললে “Submit” করুন। তাৎক্ষণিকভাবে একটি ভ্যাকসিন কার্ড/অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ জেনারেট হবে, যেখানে স্কুলের নাম, সম্ভাব্য টিকাদান কেন্দ্র, এবং তারিখ/সময়ের উল্লেখ থাকতে পারে। কার্ডটি PDF আকারে ডাউনলোড করে প্রিন্ট রাখুন। স্কুল নোটিশ, এসএমএস, বা ক্লাস শিক্ষকের মাধ্যমে যদি তারিখে পরিবর্তন আসে, তবে পোর্টালে লগইন করে “My Appointments” বা “Card” সেকশনে আপডেট দেখুন। অনেক সময় একই জেলায় একাধিক স্কুলের কেন্দ্র একত্রে নির্ধারিত হয়—এমন হলে উপস্থিতির ভিড় কমাতে স্কুল নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যাচে যেতে বলা হয়। কোনো কারণে সেদিন ক্লাস টেস্ট বা বিশেষ অনুষ্ঠান থাকলে স্কুলের নির্দেশনা প্রাধান্য দিন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী স্লটে শিফট করুন।
স্কুল/মাদ্রাসা/সমমানের তথ্য, থানা–ওয়ার্ড–জোন
ফর্মে প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেওয়ার সময় থানা–ওয়ার্ড–জোন সঠিকভাবে নির্বাচন করুন, কারণ এই তিনটি ফিল্ডই সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অফিসের আওতাধীন কেন্দ্র ম্যাপিংয়ের ভিত্তি। উদাহরণস্বরূপ, “Dhaka North City Corporation → Mirpur Zone → Ward 06 → Pallabi Thana”—এভাবে ধাপে ধাপে বাছাই করলে পোর্টাল আপনার স্কুলকে সঠিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করে দেবে। যাদের স্কুলের নাম একাধিক শাখায় আছে (ধরা যাক, English Version, Bangla Version, Morning/Day), সেক্ষেত্রে অ্যাডমিট কার্ড/আইডি কার্ডে থাকা শাখা-নাম হুবহু লিখুন। ভুল শাখা দিলে ভুল কেন্দ্র বা ভুল দিন বরাদ্দ হতে পারে। নাম লেখার সময় “&” বা “/” চিহ্ন ব্যবহারের বদলে “and” লিখুন—এতে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্সিং ও ম্যাচিং সহজ হয়।
ঠিকানায় হাউস/রোড/ব্লক, এলাকা, পোস্ট কোড (যদি থাকে) এবং সিটি/উপজেলা উল্লেখ করুন। অনেকেই শুধু “Dhaka” লিখে দেন—এতে ফিল্টারিং যথাযথ কাজ নাও করতে পারে। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজে স্কুলের ঠিকানা যেমন আছে, সেই বানান অনুসরণ করুন। যদি কোনো ফিল্ডে বিকল্প/অটো-সাজেস্ট আসে, তালিকা থেকে সঠিক অপশনটি ট্যাপ করুন। সাবমিটের পর কনফার্মেশন স্ক্রিনে থানা–ওয়ার্ড–জোনের সারাংশ আবার পড়ে নিন; কোথাও অসামঞ্জস্য থাকলে “Edit” ক্লিক করে ঠিক করুন।
পছন্দের টিকাদান কেন্দ্র নির্বাচন ও সিডিউল দেখার কৌশল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে সাধারণত স্কুল-কেন্দ্র প্রি-সেট থাকে, তবে প্রয়োজন হলে নিকটস্থ বিকল্প কেন্দ্রও দেখাতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার সন্তানের যাতায়াত, নিরাপত্তা, এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বিবেচনায় কেন্দ্র বাছাই করুন। সিডিউল দেখার সময় পিক-আওয়ার (সকাল ৯টা–১১টা) এড়াতে পারেন; মাঝামাঝি স্লটে ভিড় কম থাকে। যদি ভাই-বোন একই স্কুলে পড়ে, দু’জনের স্লট একই সময়ের কাছাকাছি নিন—একবারেই কাজ সেরে ফেলা যাবে।
সিডিউল রিফ্রেশে “Currently Unavailable” দেখালে আতঙ্কিত হবেন না—সার্ভার লোড বা ব্যাচ আপডেটের সময় এমন হতে পারে। কয়েক মিনিট পর আবার চেষ্টা করুন, কিংবা ভিন্ন ব্রাউজার (Chrome/Firefox/Edge) ব্যবহার করে দেখুন। স্লট কনফার্ম হলে “Appointment Confirmed” বা অনুরূপ বার্তা দেখাবে, এবং আপনার ভ্যাকসিন কার্ডে তারিখ/সময় যুক্ত হবে। পরিবর্তন দরকার হলে “Reschedule” অপশন খুঁজুন; না থাকলে স্কুলের হেল্পডেস্ক বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নিন।
৭) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত ৯ মাস–১৫ বছর বয়সী শিশুদের রেজিস্ট্রেশন
যেসব শিশু স্কুলে যায় না বা হোমস্কুলিং/মাদ্রাসাবহির্ভূত বা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আছে, তাদের জন্য “Non-institution” ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। লগইন করে “Typhoid → Non-institution” সিলেক্ট করলেই বাসস্থানভিত্তিক টিকাদান কেন্দ্রগুলোর তালিকা আসে। এখানে প্রথমে বর্তমান ঠিকানা (ইংরেজিতে) দিন, এরপর থানা–ওয়ার্ড–জোন বাছাই করুন। সিস্টেম কাছাকাছি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ইউনিয়ন সাবসেন্টার/ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্প দেখাবে। আপনি যে কেন্দ্রটি শিশুর জন্য সবচেয়ে সহজ—সেটি সিলেক্ট করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম হলে ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করে রাখুন, প্রয়োজনে গার্ডিয়ানের জাতীয় পরিচয়পত্র/ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি সঙ্গে রাখুন যাতে অন-সাইট ভেরিফিকেশন দ্রুত হয়।
নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বাছাই
কেন্দ্র বাছাইয়ের সময় লোকেশন, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও সময় বিবেচনা করুন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দুপুরের গরম বা ঘুমের সময় এড়িয়ে সকালবেলা স্লট নেওয়া সুবিধাজনক। পোর্টালে কেন্দ্রের ম্যাপ বা ঠিকানা কপি করে Google Maps-এ দেখে নিন, কত সময় লাগবে; যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ধরতে হয়, বিকল্প রুটও মাথায় রাখুন। অনেক কেন্দ্র সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে শিশুদের টিকাদান করে—এমন নোট থাকলে সেটি অগ্রাধিকার দিন। যদি আপনার এলাকায় সাময়িকভাবে স্লট না থাকে, পাশের ওয়ার্ড/জোনের কেন্দ্রগুলো চেক করুন; পরে আবার নিজের ওয়ার্ডে রিসিডিউল করতে পারবেন (নীতিনির্ভর)।

অভিভাবকের সম্মতি, ঠিকানা ও যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত শিশুদের ক্ষেত্রে অন-সাইটে অভিভাবকের উপস্থিতি ও মৌখিক/লিখিত সম্মতি চাইতে পারে। তাই রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি সচল রাখুন, এবং SMS/কল পেলে রিসিভ করুন। ঠিকানা এমনভাবে লিখুন যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন—House/Road/Area, Landmark (উদাহরণ: “near Community Clinic”) উল্লেখ করলে খোঁজ পাওয়া সহজ হয়।
যদি শিশুর বিশেষ স্বাস্থ্য-অবস্থা থাকে (অ্যালার্জি/ক্রনিক অসুখ/ওষুধ সেবন), রেজিস্ট্রেশনের “Remarks/Notes” ঘরে সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন এবং টিকাদানের দিন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সঙ্গে নিন। টিকা-পূর্ব স্ক্রিনিংয়ে এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ—স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনে পর্যবেক্ষণের সময় বাড়াতে পারেন।
৮) ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড, প্রিন্ট ও সঙ্গে নেওয়ার নিয়ম
রেজিস্ট্রেশনের পরই যে ডকুমেন্টটি সবচেয়ে দরকার হয়, সেটি হলো ভ্যাকসিন কার্ড বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ। ড্যাশবোর্ডে “Vaccine Card” বা “Download Card” বাটনে ক্লিক করে PDF ডাউনলোড করুন। ফাইলে শিশুর নাম (ইংরেজিতে), BRN, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, নির্ধারিত কেন্দ্র, সম্ভাব্য তারিখ/সময়, এবং QR/বারকোড থাকতে পারে। এই QR/বারকোড স্ক্যান করে অন-সাইট স্টাফরা দ্রুত রেজিস্ট্রি খুঁজে পান—লাইনে সময় কম লাগে।
প্রিন্ট দেওয়ার সময় 100% scale, A4 পেপার, এবং হাই-কনট্রাস্ট সেটিংস ব্যবহার করুন যাতে QR/বারকোড পরিষ্কার আসে। কালার প্রিন্ট বাধ্যতামূলক নয়, তবে লোগো/সিল দৃশ্যমান থাকলে যাচাই সহজ হয়। নিরাপত্তার খাতিরে এক কপি ফাইলটি ক্লাউডে (Google Drive/OneDrive) রেখে দিন এবং ই-মেইলে নিজেকে ফরওয়ার্ড করুন। ফোন হারালেও বা কাগজ ভিজে গেলেও লিংক থেকে আবার ডাউনলোড করতে পারবেন।
QR/বারকোড, সিরিয়াল ও যাচাই
কার্ডে থাকা QR/বারকোডে সাধারণত ইউনিক আইডি/সিরিয়াল থাকে, যা স্ক্যান করলে সার্ভারের রেকর্ড ওপেন হয়। টিকাদান দিনে কাউন্টার-স্টাফ আপনার কার্ড স্ক্যান করে নাম, বয়স, কেন্দ্র, স্লট সত্যতা যাচাই করবেন। স্ক্যান না হলে (প্রিন্ট ফিক্সড নয়/কাগজ বাঁকানো) হাতে টাইপ করে ম্যাচ করা হবে—তবে এতে সময় বেশি লাগে। তাই কার্ডটি ফাইল/ক্লিয়ার ব্যাগে রাখুন, ভাঁজ করবেন না। সিরিয়াল নাম্বার বা রেফারেন্স কোডটি আলাদা লিখে রাখুন; প্রয়োজনে ফোনে স্ক্রিনশট রাখুন।
হারিয়ে গেলে পুনরায় ডাউনলোড
কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে পোর্টালে লগইন করে “My Card” থেকে আবার ডাউনলোড করুন। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে “Forgot Password” দিয়ে রিসেট করুন; OTP ইস্যু হলে এসএমএস/ই-মেইল থেকে কোড নিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন। যদি একাধিক সন্তানের কার্ড লাগে, প্রত্যেকের জন্য আলাদা প্রোফাইল/রেজিস্ট্রেশন বজায় রাখুন এবং ফোল্ডার নামকরণ করুন—যেমন “Typhoid_Musa_2014”, “Typhoid_Raisa_2017”—এতে খোঁজ সহজ হবে।
৯) টিকাদানের দিন—কী কী সঙ্গে নিবেন ও কী প্রত্যাশা করবেন
টিকাদান দিনে প্রিন্টেড ভ্যাকসিন কার্ড, শিশুর জন্ম নিবন্ধন/প্রিন্ট কপি, এবং অভিভাবকের বৈধ আইডি (NID/Driving License/Passport কপি) সঙ্গে নিন। শিশুদের জন্য হালকা খাবার (বিস্কুট/কলা) ও পানি রাখুন—খালি পেটে এলে অস্বস্তি হতে পারে। ঢিলেঢালা পোশাক পরান যাতে ইনজেকশনের জন্য উপরের বাহু সহজে উন্মুক্ত করা যায়। সময়ের ১০–১৫ মিনিট আগে উপস্থিত হলে লাইন ছোট পাওয়া যায় এবং প্রি-স্ক্রিনিং আরামসে শেষ করা যায়।
অন-সাইটে প্রথমে কার্ড/QR যাচাই, এরপর মৌখিক স্বাস্থ্য-পরীক্ষা (জ্বর আছে কি না, অ্যালার্জি/ঔষধ সেবন), তারপর টিকা দেওয়া হয়। ইনজেকশনের পর ১৫–৩০ মিনিট অবজারভেশন এলাকায় বসে থাকতে বলা হতে পারে। সামান্য ব্যথা/ফুলে যাওয়া/হালকা জ্বর—এসব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া; ঘাবড়াবেন না। প্রয়োজনে স্থানীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে (ডাক্তারের পরামর্শ মেনে)।
পরিচয়পত্র/জন্ম সনদ কপি, ভ্যাকসিন কার্ড, পানি ও হালকা খাবার
যাচাইয়ের সময় প্রায়ই অভিভাবকের আইডি দেখতে চাওয়া হয়—বিশেষ করে নন-ইনস্টিটিউশন ক্যাটাগরিতে। তাই আইডি কপি/ফটো সঙ্গে রাখুন। শিশুর জন্ম সনদ নম্বর (BRN) কার্ডে থাকলেও, প্রিন্ট কপি থাকলে অডিট টিমের জন্য সহায়ক। টিকা দেওয়ার পর শিশুরা দূর্বল/ঘুমঘুম অনুভব করতে পারে—তাই পানি ও হালকা খাবার রাখলে দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ম্যানেজমেন্ট
টিকা নেওয়ার ২৪–৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বাহুতে হালকা ব্যথা/লালচে ভাব থাকতে পারে—ঠাণ্ডা সেঁক দিলে স্বস্তি পাওয়া যায়। উচ্চ জ্বর/শ্বাসকষ্ট/চুলকানি ছড়িয়ে পড়া—এমন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন এবং ভ্যাকসিন কার্ড দেখান। ইনজেকশন স্থানে চুলকাবেন না, ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পানি পান ও পর্যাপ্ত ঘুম সহায়ক। স্কুলে শারীরিক শিক্ষা ক্লাস থাকলে টিকা-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ছুটি নিতে দিন।
১০) টিকা দেওয়ার পর অনলাইন সার্টিফিকেট সংগ্রহ
টিকা সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট সময় পর পোর্টালে “Certificate” বা “Download Certificate” অপশন সক্রিয় হয়। লগইন করে শিশুর প্রোফাইল সিলেক্ট করুন এবং সার্টিফিকেট PDF ডাউনলোড করুন। এতে শিশুর নাম, BRN, জন্মতারিখ, টিকার নাম/ডোজ, কেন্দ্র, এবং টিকাদানের তারিখ উল্লেখ থাকে। সার্টিফিকেটে QR/বারকোড থাকলে স্কুল/পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ অনায়াসে স্ক্যান করে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। ফাইলটি প্রিন্ট করে স্কুলে জমা দিন, অথবা ই-মেইলে পাঠিয়ে দিন—অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ই-মেইল/PDF গ্রহণ করে।
পোর্টাল থেকে সার্টিফিকেট ডাউনলোড
যদি “Certificate Not Found” দেখায়, একটু সময় দিন—ডেটা সিঙ্ক হতে দেরি হতে পারে। তবু না এলে “Help/Support” ট্যাবে গিয়ে টিকাদানের তারিখ/কেন্দ্র/সিরিয়াল দিয়ে একটি টিকেট ওপেন করুন। স্ক্রিনশট সংযুক্ত করলে দ্রুত বোঝা যায়। সার্টিফিকেট ডাউনলোডের পর ফাইলনেম-এ শিশুর নাম ও তারিখ যোগ করুন—যেমন “Typhoid_Certificate_Musa_2025-08-12.pdf”—এতে ভবিষ্যতে খুঁজতে সুবিধা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/পরীক্ষা/ভ্রমণ কাজে সার্টিফিকেট ব্যবহার
স্কুলে ভর্তি/পরীক্ষা ফর্ম/ক্যাম্প অংশগ্রহণের সময় ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট চাওয়া হলে সরাসরি PDF/প্রিন্ট জমা দিন। বিদেশ ভ্রমণ বা ট্যুর গাইডলাইন অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রুফ প্রয়োজন হলে সার্টিফিকেটের ইংরেজি কপি রাখুন এবং পাসপোর্ট নম্বর প্রোফাইলে যোগ করা থাকলে মিল সহজ হয়। প্রয়োজনে DGHS বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা দেখে নিন; সাম্প্রতিক আপডেট/ফরম্যাট পরিবর্তন হতে পারে।