২০২৫–২৬ অর্থবছরে ব্যাংক আবগারি শুল্ক: সর্বশেষ আপডেট
বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা থাকলে বছরে একবার আবগারি শুল্ক (Excise Duty) প্রদান করতে হয়। এই শুল্ক গ্রাহককে আলাদাভাবে দিতে হয় না; বরং অ্যাকাউন্টের বছরের সর্বোচ্চ ব্যালেন্স অনুযায়ী ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে আবগারি শুল্কের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন ব্যালেন্স স্লাবে বড় ধরনের স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। এই লেখায় নতুন নিয়ম, শুল্ক কাটার সময়, এবং সর্বশেষ আবগারি শুল্ক চার্ট সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন
আবগারি শুল্ক কখন দিতে হয়?
বছরের যেকোনো সময় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মোট ব্যালেন্স (ডেবিট বা ক্রেডিট) যদি আবগারি শুল্কের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, তাহলে সেই অ্যাকাউন্টের জন্য আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
সাধারণত ব্যাংক ডিসেম্বর মাসের শেষে বা যখন অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়, তখন নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক কেটে নেয় এবং তা সরকারের কাছে জমা দেয়। গ্রাহকের পক্ষ থেকে আলাদা করে কোনো আবেদন বা পেমেন্টের প্রয়োজন হয় না।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের নতুন আবগারি শুল্কের পরিবর্তন
আবগারি শুল্ক প্রজ্ঞাপন SRO No-159-Ain/2025/287-Excise অনুযায়ী পূর্বের নিয়মে শুধুমাত্র সর্বনিম্ন আবগারি শুল্কের স্লাবটি পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা অতিক্রম করলেই আবগারি শুল্ক দিতে হতো। বর্তমান নিয়মে এই সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ আবগারি শুল্কমুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের আবগারি শুল্ক চার্ট
| সর্বোচ্চ ব্যালেন্স (BDT) | আবগারি শুল্ক (BDT) |
|---|---|
| ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ০ |
| ৩,০০,০০১ – ৫,০০,০০০ টাকা | ১৫০ টাকা |
| ৫,০০,০০১ – ১০,০০,০০০ টাকা | ৫০০ টাকা |
| ১০,০০,০০১ – ৫০,০০,০০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা |
| ৫০,০০,০০১ – ১,০০,০০,০০০ টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| ১,০০,০০,০০১ – ২,০০,০০,০০০ টাকা | ১০,০০০ টাকা |
| ২,০০,০০,০০১ – ৫,০০,০০,০০০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
| ৫,০০,০০,০০১ টাকার বেশি | ৫০,০০০ টাকা |
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)
-
ব্যাংকে কত টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক কাটবে?
বছরের যেকোনো সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মোট ব্যালেন্স ৩ লাখ টাকার বেশি হলে আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে। -
সঞ্চয়ী ও চলতি অ্যাকাউন্টে আলাদাভাবে আবগারি শুল্ক কাটবে?
হ্যাঁ, প্রতিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। কোনো অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স যদি নির্ধারিত স্লাবে পড়ে, তাহলে সেই অনুযায়ী আবগারি শুল্ক কাটা হবে। -
ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য কি আবগারি শুল্ক দিতে হয়?
হ্যাঁ, ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) অ্যাকাউন্টেও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য। -
আবগারি শুল্কের টাকা কীভাবে জমা দিতে হয়?
গ্রাহককে আলাদা করে কিছু করতে হয় না। ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে সরকারকে জমা দেয়।
শেষ কথা
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বছরের যেকোনো সময় মোট ব্যালেন্স ৩ লাখ টাকা অতিক্রম করলে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। নতুন নিয়মে ছোট আমানতকারীরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও, বড় লেনদেনকারীদের জন্য শুল্কের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
তাই ব্যাংকে লেনদেন করার সময় যদি সম্ভব হয় আবগারি শুল্কের স্লাব সম্পর্কে সচেতন থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী লেনদেন করলে কিছুটা অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।