অ্যান্ড্রয়েড ফোনের এমন ৫টি গোপন ফিচার যা খুব কম মানুষই ব্যবহার করেন
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং কাজ, বিনোদন ও তথ্যের অন্যতম প্রধান সঙ্গী। কল করা, ছবি তোলা, ভিডিও দেখা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল—সবকিছুতেই আমরা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ওপর নির্ভরশীল।
তবে অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না যে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন কিছু শক্তিশালী ও স্মার্ট ফিচার রয়েছে, যেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সময় বাঁচে, কাজের দক্ষতা বাড়ে এবং ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হয়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের এমন ৫টি দরকারি ফিচার সম্পর্কে, যেগুলো জানা থাকলেও অনেকেই ব্যবহার করেন না—
বিজ্ঞাপনডিজিটাল ওয়েলবিইং ও ফোকাস মোড
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানো একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল ওয়েলবিইং ফিচারটি আপনাকে জানিয়ে দেয়, দিনে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছেন এবং কোন অ্যাপগুলো আপনার সময় সবচেয়ে বেশি নিচ্ছে।
ফোকাস মোড চালু করলে মনোযোগ নষ্ট করে এমন অ্যাপগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা যায়। এতে পড়াশোনা, অফিসের কাজ বা ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং ফোনের ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরশীলতাও কমে।
স্প্লিট স্ক্রিন মোড
একই সঙ্গে দুটি অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে স্প্লিট স্ক্রিন মোড খুবই কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, এক পাশে অনলাইন ক্লাস বা ইউটিউব ভিডিও চলতে পারে, অন্য পাশে নোটস বা ব্রাউজার খোলা রাখা যায়।
মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে এই ফিচারটি সময় বাঁচায় এবং কাজের গতি বাড়ায়। অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই এটি থাকলেও বেশিরভাগ ব্যবহারকারী জানেন না কীভাবে এটি চালু করতে হয়।
আরও পড়ুন
স্ক্রিন পিনিং
কখনো অন্য কাউকে ফোন দিতে হলে গোপনীয়তা নিয়ে চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। স্ক্রিন পিনিং ফিচার ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট একটি অ্যাপ লক করে রাখা যায়। ফলে আপনি আনলক না করা পর্যন্ত ফোনের অন্য কোনো অংশে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।
এই ফিচারটি শিশুদের হাতে ফোন দেওয়ার সময় কিংবা অফিসিয়াল প্রয়োজনে অন্যকে ফোন দেখানোর ক্ষেত্রে খুবই কাজে আসে।
ভয়েস অ্যাক্সেস / ভয়েস কন্ট্রোল
ভয়েস অ্যাক্সেস ফিচারের মাধ্যমে আপনি ফোন স্পর্শ না করেই বিভিন্ন কাজ করতে পারেন। শুধু ভয়েস কমান্ড বলেই অ্যাপ খোলা, স্ক্রল করা, কল করা বা মেসেজ পাঠানো সম্ভব।
যাদের টাচস্ক্রিন ব্যবহারে সমস্যা হয় বা যারা দ্রুত কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই ফিচারটি অত্যন্ত সহায়ক।
নিয়ারবাই শেয়ার
নিয়ারবাই শেয়ার অ্যান্ড্রয়েডের একটি শক্তিশালী ফাইল শেয়ারিং ফিচার। ইন্টারনেট ছাড়াই কাছাকাছি থাকা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের মধ্যে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট বা অ্যাপ শেয়ার করা যায়।
ব্লুটুথের তুলনায় এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও বেশ নির্ভরযোগ্য। দৈনন্দিন ফাইল শেয়ারের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে সহজ সমাধান।