Omimangshito (Bengali: অমীমাংসিত) is an upcoming Bangladeshi mystery-thriller web film directed by Raihan Rafi and produced under the banner of Kanon Films for the i-Screen platform. From the very first glimpse of its trailer, Omimangshito has sparked intense discussion among viewers due to its dark narrative, psychological depth, and crime-driven storytelling. The film revolves around an unsolved murder that challenges logic, morality, and perception — forcing the audience to question what is truth and what is manipulation.
With the haunting line — “It was a pre-planned murder and those were professional killers.” — the trailer sets the tone for a gripping experience. Is the crime really that simple, or is someone deliberately hiding the real story? That uncertainty lies at the heart of Omimangshito, making it one of the most anticipated Bengali web films of 2025.
Web Film Information
- Name: Omimangshito (অমীমাংসিত)
- Genre: Crime, Mystery, Psychological Thriller
- Story: Raihan Rafi
- Screenplay: Raihan Rafi, Mehedi Hasan Moon & Saiduzzaman Ahad
- Dialogue: Raihan Rafi, Mehedi Hasan Moon & Saiduzzaman Ahad
- Directed by: Raihan Rafi
- Produced by: Kanon Films
- Platform: i-Screen (Original)
- Language: Bengali
- Country: Bangladesh
- Release Date: 15 December 2025
- IMDb Rating: 0/10
আরও পড়ুন
Bangla Review:
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। মর্মান্তিক সেই রাতে তাদের একমাত্র সন্তান মেঘ একই বাসায় উপস্থিত ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য—ঘটনার পর থেকে প্রায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড আজও অমীমাংসিত। একের পর এক সংস্থার হাতে তদন্ত ঘুরলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বারবার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা।
এই বাস্তব ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে উপজীব্য করেই পরিচালক রায়হান রাফী নির্মাণ করেছেন ওয়েবফিল্ম ‘অমীমাংসিত’। এখানে অর্ণব (সাগর) চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ এবং নিতু (রুনি) চরিত্রে তানজিকা আমিন। ওয়েবফিল্মটি দেখা যাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিন-এ।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বিচার চেয়ে যখন দেশজুড়ে জনরোষ, তখনই তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নানা চেষ্টা চোখে পড়ে। ওয়েবফিল্ম ‘অমীমাংসিত’-এ এই বিষয়টিই বেশ যুক্তিসঙ্গত ও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ডকে কখনো চুরি, কখনো ডাকাতি কিংবা কখনো পরকীয়াজনিত অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা বারবার করা হয়েছে।
যদিও শেষ পর্যন্ত মূল সত্য উদ্ঘাটিত হয় না, তবু ইঙ্গিত স্পষ্ট— এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশের প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাস্তব ঘটনার মতোই ওয়েবফিল্মটিও যেন ঠিক এই কারণেই উপর মহলের অদৃশ্য চাপের মুখে বারবার বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। ২০২৪ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে ওয়েবফিল্মটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর ‘অমীমাংসিত’ মুক্তি পেলেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই ওয়েবফিল্মটিও যেন শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
উপস্থাপনার দিক থেকে ‘অমীমাংসিত’ নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী নির্মাণ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টেনশন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার আবহ অনুযায়ী কালারফুল ও ব্ল্যাক-হোয়াইট স্ক্রিনের ব্যবহার ছিল বুদ্ধিদীপ্ত ও অর্থবহ।
অভিনয়ে ইমতিয়াজ বর্ষণ ও তানজিকা আমিন দুজনেই চরিত্রে ছিলেন যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ও প্রভাবশালী। পাশাপাশি সিনেমাটোগ্রাফি, কালার গ্রেডিং এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরো অভিজ্ঞতাকে করেছে আরও ইমার্সিভ ও আবেগঘন।
সবমিলিয়ে, আমার দৃষ্টিতে ‘অমীমাংসিত’ একটি সাহসী ও প্রয়োজনীয় নির্মাণ। খুব করে চাই—শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হোক, বেরিয়ে আসুক প্রকৃত সত্য।
Bangla Review 2:
সাগর রুনি মার্ডার নিয়ে ফিল্ম বানিয়ে রিলিজ দিতে গেলে যেকটা ধাপ পার করতে হতো। পরিচালক রায়হান রাফীর ‘অমীমাংসিত’ সবকটা ধাপ পার করে এসেছে। তাও হতো না যদি একটা জুলাই আন্দোলনে সরকার পতন না হতো! কালকে রাতে দেখলাম—কেমন ছিলো এই সাহসী ফিল্ম? তা নিয়েই আজকে কথা বলবো।
বাংলাদেশে টুয়েলভ অ্যাংগ্রি ম্যান ইফেক্ট-এ এই প্রথম অমীমাংসিত-এর ভালো রাইটিং দেখা গেল। এই ইফেক্টে সৃজিত মুখার্জি কিছুদিন আগেই একটা ফিল্ম বানিয়েছিলেন। এখানে পুলিশ কমিটির কয়েকজন লোক বসে নিজ নিজ পার্সপেক্টিভে এক একেকটা গল্প বলে ঘটনাটাকে ভিন্ন এঙ্গেলে ভাবার চেষ্টা করেছে। ঘটনাগুলো ফিল্ম হিসেবে দেখতে বসলে সত্যিই চমৎকার লাগে।
প্রত্যেকটা সিন ডিজাইন করা হয়েছে যত্ন নিয়ে। মেহেদী হাসান মুন ও সাইদুজ্জামান আহাদের চিত্রনাট্য সাসপেন্স আর ড্রামা তৈরিতে দারুণভাবে কাজ করেছে। এইজন্য পরপর দেখে গেলেও বিরক্তি আসে না। ডায়লগগুলোও বেশ ইমপ্যাক্টফুল। বিশেষ করে ইমতিয়াজ বর্ষণ আর তানজিকা আমিনের সম্পর্কের গল্পটায়।
তারা দুজনেই অভিনয় করেছেন খুব ভালোভাবে। ইমতিয়াজ বর্ষণ আমার মতে একজন ভীষণ পাওয়ারফুল অভিনেতা। তাদের সাংবাদিকতার কাজ, সংসার আর রোম্যান্টিক সম্পর্ক—সব মিলিয়ে দর্শকের মনে তাদের প্রতি একটা মায়া জন্মায়। তারপর হঠাৎই নেমে আসে ভয়াবহ কালো রাত। কারোর জীবনে যেন আর কোনোদিন এমন রাত নেমে না আসে।
রাফী এবার ভায়োলেন্স শুট করেছেন পরিমিতভাবে। হয়তো সাগর রুনি মার্ডার কেস হওয়ায় তিনি আরও বেশি নৃশংস পথে যাননি। নাহলে এটা দম বন্ধ করে দেওয়ার মতো কাজ হতে পারতো। জানোয়ার-এ যেটা তিনি করেছিলেন। তবে এই কাজটা দেখতে বসলে রাইটিং, মেকিং আর অ্যাক্টিংয়ের গুণে এক বসাতেই শেষ করে ওঠা যায়।
হয়তো এই ধরনের কাজে দর্শকের এক্সপেক্টেশন অনেক বেশি থাকে। কিন্তু বুঝতে হবে—এই কাজটা নামাতে গেলে আসলে কী কী বাধা পেরোতে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা, ফিল্মটি কোনো এন্ডিং দিতে পারেনি। কিন্তু সত্যি বলতে, সেটা দেওয়াও সম্ভব ছিল না।
এইটুকুতেই যা হয়েছে, এরকম ফিল্ম বানানোর জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। সাগর রুনি মার্ডার কেস এখনো অমীমাংসিত। এখন এই কেস মীমাংসিত করার জন্য জোরালো আলাপ তোলার দায়িত্ব দর্শকদের।
ফিল্মটা দেখুন। প্রতিবাদ আসুক। সাগর রুনি হত্যাকারীরা সামনে আসুক। আর কোথায় বাধা?
Story Line
অমীমাংসিত একটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা প্রথম দেখায় খুবই সাধারণ মনে হলেও ধীরে ধীরে একের পর এক প্রতারণা ও গোপন সত্যের স্তর উন্মোচিত হতে থাকে। তদন্ত যত গভীরে যায়, ততই এমন সব তথ্য সামনে আসে যেখানে প্রতিটি সন্দেহভাজন একই সঙ্গে দোষী আবার নির্দোষ বলেও মনে হয়। গল্প এগোতে থাকলে মানুষের মনস্তত্ত্ব, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং লুকিয়ে রাখা সত্যের অন্ধকার দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গল্পের বর্ণনা বারবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, ফলে দর্শক শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারে না—কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা। প্রতিটি নতুন তথ্য আগের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার বদলে আরও নতুন প্রশ্ন তৈরি করে, যা সিনেমার নাম “অমীমাংসিত”-এর অর্থকেই আরও শক্তিশালী করে তোলে। এখানে নেই অতিরিক্ত অ্যাকশন বা কৃত্রিম চমক; বরং নীরবতা, চরিত্রের অভিব্যক্তি আর সুচিন্তিত সংলাপের মাধ্যমেই টানটান উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে, যা দৃশ্য শেষ হওয়ার পরও মনে রেশ রেখে যায়।
Cast Info
এই ওয়েবফিল্মে শক্তিশালী একটি অভিনয়শিল্পীর দল কাজ করেছেন। প্রধান চরিত্রে রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও তানজিকা আমিন। তাদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন মনোজ কুমার প্রামাণিক, রাশেদ মামুন অপু, এ কে আজাদ সেতু এবং গুণী অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু। প্রত্যেকেই তাদের চরিত্রে বাস্তবতা ও গভীরতা এনে গল্পের আবেগকে আরও শক্তিশালী করেছেন।
শুধু তারকাখ্যাতির ওপর নির্ভর না করে পরিচালক রায়হান রাফী এমন শিল্পীদেরই বেছে নিয়েছেন, যারা নৈতিকভাবে জটিল চরিত্রগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক রসায়ন এবং সংযত অভিনয় গল্পটিকে আরও বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে, যা রহস্যকে দর্শকের কাছে আরও ভীতিকর ও সত্যনিষ্ঠ মনে করায়।
Technical Aspects
ভিজ্যুয়ালের দিক থেকে অমীমাংসিত একটি গাঢ় ও বিষণ্ন আবহ তৈরি করেছে, যা এর থ্রিলার ঘরানার সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। ডিওপি সাদ্দাত হোসেন ছায়া, ম্লান রঙ এবং ক্লোজ ফ্রেম ব্যবহার করে প্রতিটি দৃশ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি করেছেন। অনেক সময় ক্যামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা বেশি সময় থেমে থাকে, যাতে উত্তেজনা ধীরে ধীরে জমে ওঠে।
সিমিত রায় অন্তর-এর সম্পাদনা গল্পের গতি ও সাসপেন্স ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি জাহিদ নিরব-এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আবেগকে আরও গভীর করেছে, তবে কখনোই দৃশ্যকে ছাপিয়ে যায়নি। এসব টেকনিক্যাল উপাদান মিলেই “অমীমাংসিত”-কে একটি সাধারণ ক্রাইম থ্রিলারের চেয়ে অনেক উঁচু মানে নিয়ে গেছে।
Trailer Review
অমীমাংসিত-এর ট্রেইলার খুব সচেতনভাবেই গল্পের মূল রহস্য ফাঁস করে না, যা এর সবচেয়ে বড় শক্তি। গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য বা টুইস্ট দেখানোর বদলে ট্রেইলারটি আবহ, চরিত্রের মুখভঙ্গি এবং ইঙ্গিতপূর্ণ সংলাপের ওপর জোর দেয়। ধীরগতির কাট ও সাউন্ড ডিজাইন মিলিয়ে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক তৈরি হয়, যা হঠাৎ নয়—ধীরে ধীরে মনে গেঁথে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্য, উদ্বিগ্ন দৃষ্টির ক্লোজ শট এবং হঠাৎ নেমে আসা নীরবতা ইঙ্গিত দেয়—এই গল্পে সবাই কিছু না কিছু লুকিয়ে রেখেছে। ট্রেইলারটি কৌতূহল জাগাতে পুরোপুরি সফল, এবং দর্শককে সেই তথাকথিত “পূর্বপরিকল্পিত হত্যা”-র পেছনের সত্য জানার জন্য অধীর করে তোলে।
Release & Platform
অমীমাংসিত একচেটিয়াভাবে i-Screen প্ল্যাটফর্মে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আইস্ক্রিন অরিজিনাল হওয়ায় এটি বড় পরিসরের ডিজিটাল দর্শকের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা সিরিয়াস গল্প ও পরিণত বিষয়বস্তু পছন্দ করেন।
বাংলা ওটিটি কনটেন্টের জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই ওয়েবফিল্মটি বাংলাদেশের থ্রিলার ঘরানার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে উঠতে পারে।
Conclusion
অমীমাংসিত (Omimangshito) দর্শককে মানুষের মনের ভেতরের জটিলতা ও সত্যের ভঙ্গুর রূপের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক শক্তিশালী যাত্রার প্রতিশ্রুতি দেয়। শক্তিশালী অভিনয়, দক্ষ নির্মাণ এবং ভয় ধরানো গল্প বলার ভঙ্গির কারণে এটি ২০২৫ সালের অন্যতম প্রতীক্ষিত বাংলা ওয়েবফিল্ম হিসেবে ইতিমধ্যেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
আপনি যদি ধীরগতির রহস্য, মানসিক টানাপোড়েন এবং সহজ উত্তরহীন গল্প পছন্দ করেন, তাহলে অমীমাংসিত আপনার দেখার তালিকায় থাকতেই হবে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—এটা কি সত্যিই পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নাকি সত্যটা আরও ভয়ংকর?
