ছেঁড়া ও ফাটা টাকার নোট বদলের নতুন নিয়ম ২০২৫ | বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালা

ছেঁড়া, ফাটা ও ত্রুটিপূর্ণ টাকার নোট বদলের নতুন নিয়ম জেনে নিন। কোন নোটে পুরো টাকা পাওয়া যাবে, কোথায় আবেদন করতে হবে এবং কত দিনে টাকা ফেরত মিলবে—বাংলাদেশ

আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো ছেঁড়া, ফাটা ও ত্রুটিপূর্ণ টাকার নোট বিনিময়ের নতুন নিয়ম নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী কোন নোটের পুরো মূল্য পাওয়া যাবে, কোন নোটের ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে এবং কত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত মিলবে— এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হবে। ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে নোট বদলের সুযোগ, দাবিযোগ্য নোটের নিয়ম এবং গ্রাহকদের জন্য জরুরি নির্দেশনাও আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।

Note

টাকার নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে গ্রাহকেরা সেই নোটের পুরো মূল্য ফেরত পাবেন। যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকেই এ ধরনের নোট তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কোনো নোটের ৯০ শতাংশ বা তার কম অংশ ঠিক থাকলে ওই নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংক শাখা থেকে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে না।

এ ক্ষেত্রে নোটটি ব্যাংকের শাখায় জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে ওই নোটের বিনিময় মূল্য গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হবে।

অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া, ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট বিনিময়সংক্রান্ত এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক “নোট রিফান্ড রেগুলেশনস” জারি করে।

নোট সেবা দেবে সব ব্যাংক শাখা

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখা থেকেই অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া, ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট বদলের সেবা দিতে হবে। যেসব নোটের বিনিময় মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রদানযোগ্য নয়, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে।

সব ব্যাংক শাখাকে এ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো শাখা এ সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সার্কুলারে সতর্ক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

নোটের ধরন ও শ্রেণিবিভাগ

প্রজ্ঞাপনে নোটের ব্যবহারযোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রচলিত নোটগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

  1. পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট
  2. অপ্রচলনযোগ্য নোট
  3. ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট
  4. দাবিযোগ্য নোট
  5. আগুনে পোড়া নোট

এর মধ্যে পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট বাজারে চলবে। অপ্রচলনযোগ্য এবং ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে বিনিময় করা যাবে।

ছেঁড়া-ফাটা নোট বলতে কী বোঝায়

কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ বিদ্যমান থাকলে গ্রাহককে বিনিময় মূল্যের পুরো অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দিতে হবে। তবে নোটের ৯০ শতাংশ বা তার কম অংশ বিদ্যমান থাকলে কিংবা নোটটি অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত হলে সেটিকে দাবিযোগ্য নোট হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এসব নোটের বিনিময় মূল্য ব্যাংক সরাসরি দিতে পারবে না। আবেদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে বিনিময় মূল্য দেওয়া যাবে কি না অথবা কত শতাংশ দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত জানাবে।

আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে নির্দেশনা

আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক শাখা সরাসরি বিনিময় মূল্য দিতে পারবে না। এ ধরনের নোটের জন্য গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখা অফিসে আবেদন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখার দৃশ্যমান স্থানে “ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বিনিময় ও দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়” মর্মে নোটিশ টানাতে হবে।

কোনো গ্রাহক জাল নোট বা ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে উপস্থাপন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

নোটের কত শতাংশ ঠিক থাকলে পুরো টাকা পাওয়া যাবে?

কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে গ্রাহক পুরো বিনিময় মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে পাবেন।

দাবিযোগ্য নোটের টাকা পেতে কত সময় লাগবে?

আবেদন করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।

আগুনে পোড়া নোট কোথায় জমা দিতে হবে?

আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখা অফিসে আবেদন করতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালার ফলে ছেঁড়া, ফাটা ও ত্রুটিপূর্ণ টাকার নোট বিনিময় প্রক্রিয়া এখন আরও স্পষ্ট ও গ্রাহকবান্ধব হয়েছে। নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে পুরো মূল্য পাওয়া যাবে। আর যেসব নোট দাবিযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।

ফলে গ্রাহকদের আর বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। সঠিক নিয়ম জেনে নোট বিনিময় করলে সময় ও ঝামেলা দুটোই কমবে। তাই ছেঁড়া বা অপ্রচলনযোগ্য নোট থাকলে দেরি না করে নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সেবা গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.