বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া কোন কোন দেশে যাওয়া যায় ২০২৬
বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া কোন কোন দেশে যাওয়া যায়—এই প্রশ্নটি ২০২৬ সালে এসে অনেক ভ্রমণপ্রেমী বাংলাদেশির জন্য আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদেশ ভ্রমণের খরচ, ভিসা জটিলতা এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এখন অনেকেই ভিসা-ফ্রি বা অন-এরাইভাল সুবিধা থাকা দেশগুলো বেছে নিচ্ছেন।
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাংকিং ধীরে ধীরে উন্নত হওয়ায় আগের তুলনায় এখন বেশি সংখ্যক দেশে সহজ শর্তে ভ্রমণ করা সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসা-ফ্রি, অন-এরাইভাল ভিসা ও eTA সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ থেকে ৪২টি দেশে তুলনামূলক সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।
এই লেখায় ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভিসা-ফ্রি ও অন-এরাইভাল দেশের তালিকা, ভিসার ধরন, ভ্রমণের আগে করণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া কোন কোন দেশে যাওয়া যায় ২০২৬
২০২৬ সালে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া বা সহজ ভিসা সুবিধায় ভ্রমণ করা যায় এমন দেশগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা নীতির ওপর নির্ভর করে।
এশিয়া অঞ্চলে ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। মালদ্বীপ ও পূর্ব তিমুরে অন-এরাইভাল বা eTA সুবিধা রয়েছে।
কম্বোডিয়ায় অন-এরাইভাল বা ই-ভিসা এবং শ্রীলঙ্কায় ই-ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করা যায়।
এই সুবিধাগুলো মূলত স্বল্পমেয়াদি পর্যটন, ব্যক্তিগত ভ্রমণ বা ট্রানজিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অবস্থানকাল ও শর্ত দেশভেদে আলাদা হতে পারে।
৪৮ ভিসা ফ্রি কান্ট্রিস ফর বাংলাদেশ ২০২৬
অনেক জায়গায় “৪৮ ভিসা ফ্রি কান্ট্রিস ফর বাংলাদেশ ২০২৬” বলা হলেও বাস্তবে এই সংখ্যার মধ্যে ভিসা-ফ্রি, অন-এরাইভাল ও eTA—সব সুবিধাই অন্তর্ভুক্ত।
আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক সহজ গন্তব্য রয়েছে।
এশিয়া
- ভুটান – ভিসা-ফ্রি
- নেপাল – ভিসা-ফ্রি
- মালদ্বীপ – অন-এরাইভাল / eTA
- কম্বোডিয়া – অন-এরাইভাল / ই-ভিসা
- শ্রীলঙ্কা – ই-ভিসা
- পূর্ব তিমুর – অন-এরাইভাল / eTA
আফ্রিকা ও ওশেনিয়া
- ফিজি – ভিসা-ফ্রি
- ভানুয়াতু – ভিসা-ফ্রি
- সামোয়া – অন-এরাইভাল / eTA
- কেনিয়া – eTA প্রয়োজন
- সেশেলস – ভিসা-ফ্রি
- রুয়ান্ডা – ভিসা-ফ্রি (৩০ দিন)
- গাম্বিয়া – ভিসা-ফ্রি (৯০ দিন)
ক্যারিবীয় ও আমেরিকা
- বার্বাডোজ – ভিসা-ফ্রি (৬ মাস)
- বাহামা – ভিসা-ফ্রি (৪ সপ্তাহ)
- জ্যামাইকা – ভিসা-ফ্রি (৬ মাস)
- ডোমিনিকা – ভিসা-ফ্রি (৬ মাস)
- গ্রানাডা – ভিসা-ফ্রি (৩ মাস)
- ত্রিনিদাদ ও টোবাগো – ভিসা-ফ্রি (৩০ দিন)
- বলিভিয়া – অন-এরাইভাল / eTA
ফ্রি ভিসা বলতে কী বোঝায়?
ফ্রি ভিসা বলতে মূলত ভিসা-ফ্রি ভ্রমণকেই বোঝানো হয়। অর্থাৎ, ভ্রমণের আগে দূতাবাসে গিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করার প্রয়োজন হয় না।
বৈধ পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকিট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশে প্রবেশ করা যায়।
তবে ভিসা-ফ্রি মানে কোনো শর্ত নেই—এমন নয়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আর্থিক সামর্থ্য, হোটেল বুকিং বা ভ্রমণের উদ্দেশ্য জানতে চাইতে পারে।
অনারেবল ভিসা কী?
অনারেবল ভিসা মূলত কূটনৈতিক বা বিশেষ সম্মানসূচক ভিসা। এটি সাধারণ পর্যটকদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক বা বিশেষ আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা এই ভিসা পেয়ে থাকেন।
অন-এরাইভাল ভিসা কী?
অন-এরাইভাল ভিসা হলো এমন ব্যবস্থা, যেখানে গন্তব্য দেশের বিমানবন্দর বা নির্দিষ্ট প্রবেশপথে পৌঁছে ভিসা সংগ্রহ করা যায়।
মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া ও বলিভিয়ার মতো দেশে বাংলাদেশিরা এই সুবিধা পেয়ে থাকেন।
কিছু দেশে অন-এরাইভালের আগে অনলাইনে eTA বা প্রাক-অনুমতি নিতে হয়।
ভিসা ছাড়া ভ্রমণের আগে করণীয়
- পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে
- রিটার্ন বা অনওয়ার্ড টিকিট সঙ্গে রাখা
- হোটেল বুকিং বা থাকার প্রমাণ রাখা
- সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ ভিসা নীতি যাচাই
ভিসা ছাড়া কোন কোন দেশে যাওয়া যায় না
বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে নিচের দেশগুলোতে ভিসা ছাড়া যাওয়া যায় না—
- ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলো
- যুক্তরাষ্ট্র
- কানাডা
- যুক্তরাজ্য
- অস্ট্রেলিয়া
- জাপান
এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য আগেই দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।
প্রশ্নোত্তর (FAQs)
বাংলাদেশের পাসপোর্টে কতটি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়া যায়?
২০২৬ সালে আনুমানিক ৩৯–৪২টি দেশে।
ভিসা-ফ্রি মানে কি কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না?
না, পাসপোর্ট, টিকিট ও থাকার প্রমাণ লাগতে পারে।
অন-এরাইভাল ভিসা কি নিশ্চিত?
না, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন
উপসংহার
বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া কোন কোন দেশে যাওয়া যায়—এই তথ্য জানা থাকলে ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়ে যায়।
২০২৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-ফ্রি ও অন-এরাইভাল দেশের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।
তবে ভিসা সুবিধা থাকলেও ভ্রমণের আগে নিয়ম ও শর্ত যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে কম খরচে ও কম ঝামেলায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ উপভোগ করা সম্ভব।