বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন এক যুগের সূচনা করল মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (VoWiFi) কলিং সেবা, যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি যেকোনো ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করেও উন্নতমানের ভয়েস কল করতে পারবেন।
এই সেবা বিশেষভাবে কার্যকর হবে সেই সব এলাকায়, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনিয়মিত।
আরও পড়ুন: বিকাশ NFC পেমেন্ট কি? সুবিধা, অসুবিধা ও ব্যবহার করার নিয়ম
ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (VoWiFi) কী?
ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই হলো এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি, যেখানে মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল হলে ভয়েস কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিকটবর্তী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
এর ফলে কল ড্রপ, শব্দ ভেঙে যাওয়া কিংবা কথা না শোনার মতো সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। এটি সাধারণ মোবাইল কলের মতোই কাজ করে, তবে ইন্টারনেটভিত্তিক হওয়ায় কলের মান হয় আরও পরিষ্কার ও স্থিতিশীল।
উঁচু ভবন থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল—সবখানেই কার্যকর
বাংলালিংক জানিয়েছে, এই সেবা দেশের সব অঞ্চলে চালু হওয়ায় গ্রাহকেরা এখন বাসা, অফিস, বেসমেন্ট, উঁচু ভবন কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও নিরবচ্ছিন্ন কলিং সুবিধা পাবেন।
আরও পড়ুন
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে, যেখানে মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল দুর্বল— সেখানে ওয়াই-ফাই থাকলেই কল করা যাবে সহজে।
স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক সুইচিংয়ের সুবিধা
ভিও ওয়াই-ফাই সেবার বড় সুবিধা হলো নির্বিঘ্ন কল সুইচিং। কল চলাকালীন যদি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে যায়, সিস্টেম নিজে থেকেই মোবাইল নেটওয়ার্কে কল স্থানান্তর করবে।
এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কিছু করতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে স্বয়ংক্রিয় ও ঝামেলাহীন।
আলাদা অ্যাপ নয়, বাড়তি ঝামেলাও নেই
এই সেবা ব্যবহার করতে গ্রাহকদের—
- আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না
- অতিরিক্ত অথেনটিকেশন বা লগইনের প্রয়োজন নেই
- সাধারণ কলের মতোই ডায়াল করে কথা বলা যাবে
শুধু একটি সমর্থিত হ্যান্ডসেট এবং নির্দিষ্ট আইএসপি’র ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকলেই এই সুবিধা উপভোগ করা যাবে।
পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে দেশব্যাপী চালু
বাংলালিংক জানায়, তারা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ভিও ওয়াই-ফাই সেবা চালু করে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় গ্রাহকদের অংশগ্রহণে সেবাটি পরীক্ষা করা হয়। ব্যবহারকারীদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন শেষে এখন এটি সারা দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে।
বাংলালিংকের বক্তব্য
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন—
“ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি স্থান ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করে গ্রাহকদের জন্য স্পষ্ট ও উচ্চমানের কলিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। রাজধানী হোক বা প্রত্যন্ত অঞ্চল—সব জায়গায় গ্রাহকেরা এখন নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।”
তিনি আরও জানান, মোবাইল অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইএসপি ও প্রযুক্তি অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগেই এই সেবা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু স্মার্টফোন ও আইএসপি’র মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি হ্যান্ডসেট ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলালিংকের এলটিই নেটওয়ার্কের পরিপূরক হিসেবে এই প্রযুক্তি দেশের ডিজিটাল সংযোগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।