ভোটের সময়সূচি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন কার্যক্রম আবারও চালু হতে যাচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সেবা পুনরায় শুরু করবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষায় থাকা লাখো নাগরিকের জন্য স্বস্তির খবর এলো।
আরও পড়ুন- ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল স্মার্ট সমাধান (BD অ্যাপ)
কেন বন্ধ ছিল এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম?
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং পোস্টাল ব্যালটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।
এই সময়ে এনআইডি সংশোধনের নতুন আবেদন নেওয়া হয়নি এবং চলমান অনেক আবেদনও স্থগিত অবস্থায় ছিল।
কবে থেকে আবার চালু হচ্ছে?
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানান—
ভোটার তালিকা ও প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে পোস্টাল ব্যালট প্রিন্টের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রিন্টিং কার্যক্রম ১৮ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হলে, ঠিক এরপরপরই এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম আবার চালু করা হবে।
অর্থাৎ, ১৮ জানুয়ারির পর যেকোনো সময় অনলাইন ও অফিসভিত্তিক এনআইডি সংশোধনের আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে।
কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যাবে?
এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম চালু হলে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়—
আরও পড়ুন
- নামের বানান (বাংলা ও ইংরেজি)
- জন্ম তারিখ
- পিতা-মাতা বা স্বামী/স্ত্রীর নাম
- ছবি পরিবর্তন
- ঠিকানা সংশোধন
- রক্তের গ্রুপ
- লিঙ্গ সংশোধন (যথাযথ কাগজপত্র সাপেক্ষে)
মনে রাখতে হবে: তথ্যের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্ট ও সময় লাগতে পারে।
কীভাবে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করবেন?
১. অনলাইনে আবেদন
- নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত এনআইডি সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে লগইন করুন।
- প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের আবেদন করুন।
- প্রমাণপত্র (জন্ম সনদ, এসএসসি সনদ, পাসপোর্ট ইত্যাদি) আপলোড করুন।
- নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
২. সরাসরি অফিসে আবেদন
- নিকটস্থ উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যান।
- সংশোধন ফরম পূরণ করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন।
কতদিনে সংশোধন সম্পন্ন হয়?
সাধারণত এনআইডি সংশোধনে সময় লাগে—
- সাধারণ সংশোধন: ৭–১৫ কর্মদিবস
- জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন: ৩০ দিন বা তার বেশি
তবে আবেদন সংখ্যা বেশি হলে সময় কিছুটা বাড়তেও পারে।
নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- আবেদন করার আগে সব ডকুমেন্ট সঠিক ও মিল আছে কিনা যাচাই করুন।
- ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাগজ দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- অনলাইনে আবেদন করলে নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন।
- প্রয়োজনে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
উপসংহার
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে—এটি নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তির খবর। যাদের এনআইডিতে ভুল তথ্যের কারণে ব্যাংকিং, চাকরি, পাসপোর্ট বা সরকারি সেবা নিতে সমস্যা হচ্ছিল, তারা এখন প্রস্তুতি নিয়ে আবেদন করতে পারেন।
১৮ জানুয়ারির পর নিয়মিত নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার দিকে নজর রাখুন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই প্রস্তুত করে রাখুন—তাহলেই ঝামেলা ছাড়াই এনআইডি সংশোধন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।