ই-ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ | আবেদন, খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন আর লাইসেন্স নিতে অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় না।
এখন ঘরে বসেই অনলাইনে করা যায় ই-ট্রেড লাইসেন্স। তবে আবেদন করার আগে জানা জরুরি— ই ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম, খরচ এবং কী কী কাগজপত্র লাগে।
Content Summary: [দেখুন]
ই ট্রেড লাইসেন্স কী?
ই ট্রেড লাইসেন্স হলো একটি ডিজিটাল অনুমতিপত্র, যার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন ও নবায়ন করা যায়। সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার অধীনে পরিচালিত এই ওয়েবভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা বৈধভাবে নিবন্ধন করতে পারেন।
এই লাইসেন্সের সব তথ্য একটি নিরাপদ সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে, যা ভবিষ্যতে যাচাই ও ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ই ট্রেড লাইসেন্স কাদের জন্য?
ই ট্রেড লাইসেন্স মূলত তাদের জন্য, যারা বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করতে চান।
যেমন—
- একক ব্যবসায়ী
- দোকান বা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
- অনলাইন ব্যবসা ও ই-কমার্স উদ্যোক্তা
- ফ্রিল্যান্সার
- কোম্পানি বা ফার্ম
আপনি যদি—
- পণ্য বা সেবা বিক্রি করেন
- ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে চান
- বৈধভাবে ট্যাক্স পরিশোধ করতে চান
তাহলে ই ট্রেড লাইসেন্স থাকা অপরিহার্য। এটি আপনার ব্যবসাকে সরকারের কাছে নিবন্ধিত করে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
ই ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম
অনলাইনে ই ট্রেড লাইসেন্স করার ধাপগুলো হলো—
- প্রথমে etradelicense.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
- “New Application” অপশনে ক্লিক করে আবেদন ফরম পূরণ করুন
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন
- আবেদন সাবমিট করার পর রাজস্ব পরিদর্শক তথ্য যাচাই করবেন
- যাচাই শেষে এসএমএস/ইমেইলে ফি প্রদানের নির্দেশনা আসবে
- ফি পরিশোধের ২–৩ দিনের মধ্যে ইমেইলে ই ট্রেড লাইসেন্স পাবেন
ই ট্রেড লাইসেন্স চেক করার নিয়ম
আবেদনের অবস্থা জানতে—
- etradelicense.gov.bd সাইটে প্রবেশ করুন
- “Check Application Status” অপশনে ক্লিক করুন
- আবেদন নম্বর ও মোবাইল নম্বর লিখুন
এরপর আপনি লাইসেন্সের অবস্থা (Pending, Approved বা Delivered) দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন: অনলাইন খতিয়ান অনুসন্ধান করার নিয়ম
আবেদন ফরম কোথায় পাওয়া যায়?
ই ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ফরম পাওয়া যায় সরকারি ওয়েবসাইট etradelicense.gov.bd-এ।
রেজিস্ট্রেশনের সময় দিতে হয়—
- নাম
- মোবাইল নম্বর
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
- ব্যবসার ধরন ও ঠিকানা
সফলভাবে সাবমিট করলে একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে ট্র্যাকিংয়ের জন্য প্রয়োজন।
ই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করার নিয়ম
লাইসেন্স অনুমোদনের পর আবেদনকারীর ইমেইলে একটি PDF ফাইল পাঠানো হয়।
এছাড়াও ওয়েবসাইটে লগইন করে লাইসেন্স ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যায়।
ই ট্রেড লাইসেন্স ফি কত টাকা?
ই ট্রেড লাইসেন্সের ফি ব্যবসার ধরন ও আকার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সাধারণত—
- সর্বনিম্ন ফি: ২০০ টাকা
- সর্বোচ্চ ফি: প্রায় ২৬,০০০ টাকা
ফি পরিশোধ করা যায়—
- ব্যাংকের মাধ্যমে
- ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড
- বিকাশ, নগদ, রকেট
ই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম
প্রতিটি ই ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর।
নবায়নের জন্য—
- পুরোনো লাইসেন্স নম্বর দিয়ে লগইন করুন
- Renewal আবেদন সাবমিট করুন
- নবায়ন ফি পরিশোধ করুন
যাচাই শেষে নতুন মেয়াদের লাইসেন্স ইমেইলে পাঠানো হবে।
ই ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট
- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া চুক্তি বা মালিকানার কাগজ
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- হোল্ডিং ট্যাক্স বা ট্যাক্স রসিদ
- প্রয়োজনে ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন সার্টিফিকেট
- বিশেষ ব্যবসার অনুমোদনপত্র (যেমন ক্লিনিক, ট্রাভেল এজেন্সি)
FAQs
অনলাইনে ই ট্রেড লাইসেন্স করতে কতদিন লাগে?
সাধারণত ২–৩ কার্যদিবসের মধ্যেই লাইসেন্স পাওয়া যায়।
ফ্রিল্যান্সারদের কি ট্রেড লাইসেন্স দরকার?
হ্যাঁ, আয় বৈধভাবে দেখাতে ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে ট্রেড লাইসেন্স দরকার।
উপসংহার
বাংলাদেশে ব্যবসা বৈধভাবে পরিচালনার জন্য ই ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য। অনলাইনে আবেদন সুবিধার ফলে এখন সময়, খরচ ও ঝামেলা সবই অনেক কমে গেছে।
সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে ৩ দিনের মধ্যেই ঘরে বসে লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব।
তাই দেরি না করে আজই ই ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম জেনে আপনার ব্যবসাকে বৈধ ও সুরক্ষিত করুন।