আজ থেকে সারাদেশে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দেশজুড়ে অভিযান, জরিমানা এবং একাধিক দাবি পূরণ না হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। এমনকি সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল লক্ষাধিক পরিবার বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা কেন দেওয়া হলো?
এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের পেছনে ব্যবসায়ীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো—
- কমিশন বৃদ্ধি না করা
- অতিরিক্ত জরিমানা ও মোবাইল কোর্ট অভিযান
- পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর প্রশাসনিক চাপ
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরে সন্ধ্যায় সারাদেশের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়।
এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম কত এবং কবে থেকে কার্যকর?
এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণার মধ্যেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আবারও নতুন দাম ঘোষণা করেছে।
বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
- ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১,৩০৬ টাকা
- এই দাম ৪ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর
এর আগে ডিসেম্বর মাসে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,২৫৩ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৫৩ টাকা।
সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১,৫০০ টাকা থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কিছু এলাকায় ২,০০০ টাকার বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও বেশি দামেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
নতুন মূল্য কার্যকরের আগে বাজার পরিস্থিতি
নতুন দাম কার্যকরের আগে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছিল—
- ডিসেম্বর ২০২৫: ১,২৫৩ টাকা
- নভেম্বর ২০২৫: এর চেয়ে কিছুটা কম
তবে বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরেই অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কেন ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে?
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- সৌদি আরামকোর ঘোষিত এলপিজি মূল্য
- আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম
- ডলারের বিনিময় হার
ডিসেম্বর মাসেও এই কারণগুলো দেখিয়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে মূল্য পরিবর্তন হওয়ায় আবারও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
এলপিজি বিক্রি কতদিন বন্ধ থাকবে?
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত দামে কি গ্যাস পাওয়া যাবে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দামে সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার
আজ থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা এবং একই সঙ্গে দাম বৃদ্ধির খবর সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
যেসব পরিবার পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব থাকলেও, বাস্তবে নির্ধারিত দামে সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।