আগে আপনি ভ্যাট রিটার্ন হার্ড কপি বা কাগজে জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন অনলাইনে রিটার্ন দিতে গিয়ে দেখছেন—সিস্টেমে অটোমেটিক সুদ ও জরিমানা যোগ হয়ে গেছে? ভাবছেন, “আমি তো সময়মতো রিটার্ন দিয়েছিলাম, তাহলে এই ঝামেলা কেন?”
আপনি একা নন। হাজার হাজার করদাতা ঠিক একই সমস্যায় পড়ছেন। তবে ভালো খবর হলো—এখন আর দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই সমস্যার জন্য নিয়ে এসেছে একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান।
e-VAT সিস্টেমে নতুন সাব-মডিউল: Hard Copy Return Entry
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাদের অনলাইন ভ্যাট সিস্টেমে যুক্ত করেছে একটি নতুন ফিচার, যার নাম “Hard Copy Return Entry”। এই সাব-মডিউলের মাধ্যমে করদাতারা এখন নিজেরাই আগে জমা দেওয়া কাগজের ভ্যাট রিটার্নগুলো অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করতে পারবেন।
এর ফলে আর ভ্যাট অফিসের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে না। আপনি নিজেই আপনার তথ্য সঠিকভাবে সিস্টেমে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
কেন এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো?
আগের ব্যবস্থায় হার্ড কপি রিটার্নগুলো ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তারা অনলাইনে এন্ট্রি করতেন। এতে—
- অনেক সময় ডাটা এন্ট্রি হতে দেরি হতো
- কখনো কখনো ভুল এন্ট্রি হয়ে যেত
- সময়মতো এন্ট্রি না হওয়ায় সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদ ও জরিমানা যোগ হতো
এই ভোগান্তি দূর করতেই এনবিআর করদাতাদের হাতে সরাসরি ডাটা এন্ট্রির ক্ষমতা তুলে দিয়েছে।
জরিমানা ও সুদ ছাড়াই রিটার্ন এন্ট্রির সুযোগ
যেসব করদাতা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হার্ড কপি রিটার্ন দাখিল করেছিলেন, তারা এখন—
- কোনো অতিরিক্ত জরিমানা ছাড়াই
- কোনো সুদ ছাড়াই
সেই রিটার্নগুলোর তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি করতে পারবেন। এটি করদাতাদের জন্য সত্যিই একটি বড় স্বস্তির খবর।
আরও পড়ুন
এই সুবিধা কীভাবে পাবেন?
-
নোটিফিকেশন:
করদাতারা তাদের নিবন্ধিত ই-মেইল ও মোবাইল নম্বরে এনবিআরের পক্ষ থেকে নোটিফিকেশন পাবেন। -
সিস্টেম অ্যাক্সেস:
ই-মেইল বা এসএমএসে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করে সরাসরি e-VAT সিস্টেমে লগইন করে “Hard Copy Return Entry” মডিউল ব্যবহার করা যাবে। -
সময়সীমা:
এই সুযোগ গ্রহণ করার শেষ সময় ৩১ মার্চ ২০২৬।
ভ্যাট রিটার্ন নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
আমি কি সব হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি করতে পারব?
হ্যাঁ। আপনি আগে যতগুলো হার্ড কপি বা কাগজের রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তার সবগুলোই এই সিস্টেমে এন্ট্রি করা যাবে।
Hard Copy Return Entry সুবিধা কতদিন থাকবে?
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত আপনি কোনো জরিমানা ছাড়াই এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
আগের রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
এন্ট্রি না করলে সিস্টেম আপনার আগের রিটার্ন শনাক্ত করতে পারবে না। এতে ভবিষ্যতে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময় টেকনিক্যাল সমস্যা বা অপ্রত্যাশিত জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্বচ্ছ ভ্যাট ব্যবস্থার দিকে এক ধাপ এগিয়ে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ডিজিটাল রেকর্ড নিশ্চিত করা। একবার সব রিটার্ন অনলাইনে সংরক্ষিত হলে করদাতারা ভবিষ্যতে যেকোনো সময় নিজেদের তথ্য সহজেই দেখতে পারবেন।
শেষকথা
আপনি যদি আগে হার্ড কপি ভ্যাট রিটার্ন দিয়ে থাকেন, তাহলে আর দেরি না করে আজই e-VAT প্রোফাইলে লগইন করুন। ৩১ মার্চ ২০২৬-এর শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে এখনই আপনার রিটার্নগুলো এন্ট্রি করুন এবং অপ্রয়োজনীয় জরিমানা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
ভ্যাট সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতায় প্রয়োজনে অভিজ্ঞ পরামর্শকের সহায়তা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।