পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি কত? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা ২০২৬

পাসপোর্টে ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টে আর বাড়তি টাকা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা। বিস্তারিত নিয়ম ও করণীয় জানুন।
passport-endorsement-fee-bangladesh-bank-new-rules

ভাবুন তো, বিদেশে যাওয়ার আগে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করতে গিয়ে কেউ ৫০০ টাকা চাইল, কেউ আবার ১০০০ টাকা। অল্প একটি কাজ, অথচ বাড়তি টাকা দিতে দিতে পকেট যেমন হালকা হচ্ছে, তেমনি মনে তৈরি হচ্ছে বিরক্তি আর বিভ্রান্তি। ঠিক এই ভোগান্তি বন্ধ করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

আপনি যদি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তাহলে আজকের এই তথ্যটি আপনার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন থেকে পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা (ডলারসহ) এনডোর্সমেন্ট করাতে আর অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে না।

পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট ফি: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশগামী যাত্রীদের অভিযোগ ছিল—পাসপোর্টে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের নামে অনেক মানি চেঞ্জার ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করছে। কোথাও ৫০০, কোথাও আবার ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল।

এই অনিয়ম বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকার বেশি নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—

  • লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের জন্য
  • সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি ফি নিতে পারবে না

আপনি ২০০ ডলার এনডোর্সমেন্ট করুন বা ২০০০ ডলার—ফির অঙ্ক ৩০০ টাকার বেশি হওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি

কেন এই নতুন নিয়ম আনা হলো?

এর আগে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়ে কোনো স্পষ্ট সীমা নির্ধারিত ছিল না। যদিও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা (GFET)–২০১৮ অনুযায়ী মানি চেঞ্জারদের এনডোর্সমেন্ট করার অনুমতি ছিল, তবে ফির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এই ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই অনেক যাত্রী অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন

মানি চেঞ্জারদের জন্য বাধ্যতামূলক নতুন নিয়ম

শুধু ফি নির্ধারণ করেই থেমে থাকেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—

  1. দৃশ্যমান স্থানে ফির তালিকা:
    প্রতিটি মানি চেঞ্জারকে তাদের অফিসে এমন জায়গায় ফি তালিকা টাঙাতে হবে, যা গ্রাহক সহজেই দেখতে পান।
  2. লিখিত রসিদ প্রদান:
    ৩০০ টাকা ফি নেওয়ার পর গ্রাহককে অবশ্যই একটি লিখিত রসিদ দিতে হবে।
  3. স্বাক্ষর ও সিল:
    GFET–২০১৮ অনুযায়ী পাসপোর্টে এবং বিমান টিকিটে (আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে) অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে।
  4. হিসাব সংরক্ষণ:
    সব এনডোর্সমেন্ট ফির আলাদা ও সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা মানি চেঞ্জারদের জন্য বাধ্যতামূলক।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)

আমি কি যেকোনো ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার থেকে এনডোর্সমেন্ট করতে পারি?

হ্যাঁ। আপনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত যেকোনো মানি চেঞ্জার বা AD (Authorized Dealer) ব্যাংক শাখা থেকে এনডোর্সমেন্ট করতে পারবেন। মানি চেঞ্জারের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকার ফি প্রযোজ্য।

আমি বেশি ডলার এনডোর্সমেন্ট করলে কি ফি বেশি লাগবে?

না। মুদ্রার পরিমাণ যাই হোক না কেন, ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকাই থাকবে।

কোনো মানি চেঞ্জার ৩০০ টাকার বেশি চাইলে কী করব?

এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি নির্দেশনার লঙ্ঘন। আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ জানাতে পারেন।

শেষ কথা

বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতির সময় ছোট ছোট নিয়ম জানা থাকলে বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনা পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়াকে করেছে আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং সাশ্রয়ী।

তাই পরবর্তীবার ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করতে গেলে ৩০০ টাকার সীমার কথা মনে রাখুন এবং অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করুন।

আপনার কি পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট নিয়ে আরও কোনো প্রশ্ন আছে? অথবা আপনি কি সম্প্রতি কোনো মানি চেঞ্জারে গিয়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে দেখেছেন? কমেন্টে আমাদের জানান। এই দরকারি তথ্যটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.