রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে বঞ্চিত শাকিব খান এর প্রিয়তমা

রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে আবারও বঞ্চিত শাকিব খান। ‘প্রিয়তমা’ উপেক্ষা নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তীব্র আলোচনা।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে বঞ্চিত মেগাস্টার শাকিব খান

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে ঘিরে এবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন 0। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে এবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এই মেগাস্টার। চলচ্চিত্রাঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, আলোচিত সিনেমাটির প্রযোজক আরশাদ আদনান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পুত্র এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্র ধরে পুরস্কার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব কাজ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চলচ্চিত্রাঙ্গনের ভেতরে ভেতরে এমন কথাও শোনা গেছে—শাকিব খানকে পুরস্কার দেওয়া মানে প্রযোজককেই পুরস্কৃত করা।

আর সেই কারণেই নাকি পূর্ববর্তী সরকার আমলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখানো হয়েছে। এই প্রশ্নটি বারবার উঠে আসছে—একটি ঐতিহাসিক সিনেমা হওয়ার পরও কেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে কোনো স্বীকৃতি পেল না 1?

মুক্তির পর থেকেই ‘প্রিয়তমা’ শুধু দর্শকপ্রিয়তাই অর্জন করেনি, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এই দশকে দেশের সিনেমায় সবচেয়ে বড় ক্লিনহিট চলচ্চিত্র হিসেবে ‘প্রিয়তমা’র নাম ইতোমধ্যেই উচ্চারিত হচ্ছে।

বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকেও ছবিটি ছিল নজিরবিহীন। দেশীয় বাজারে ব্যাপক আয়ের পাশাপাশি প্রযোজক ও পরিবেশক—সবার জন্যই এনে দিয়েছে উল্লেখযোগ্য লাভ। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে ‘প্রিয়তমা’।

এমন সাফল্যের পর জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে ছবিটির কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক সফলতার পাশাপাশি অভিনয় ও প্রভাব—সবদিক বিবেচনায় ‘প্রিয়তমা’ ছিল পুরস্কারের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

তবে শাকিব খান নিজে কখনোই পুরস্কারের আশায় কাজ করেন না—এমনটাই জানান তার ঘনিষ্ঠজনেরা। তারা বলেন, তিনি একজন নীরব ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ, যিনি নিজের কাজের মাধ্যমেই কথা বলতে ভালোবাসেন। কে পুরস্কার দিল বা দিল না—এসব নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

শাকিব খানের লক্ষ্য একটাই—নিজের কাজে দক্ষতা ও নতুনত্ব আনা, নিজের ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং বাংলাদেশের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা। ভক্তদের কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন কাজ উপহার দেওয়া, প্রযোজকদের জন্য বড় মাপের ব্যবসা নিশ্চিত করা এবং একটি ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রাখা তার মূল উদ্দেশ্য।

তাকে কেন্দ্র করেই হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি বড় অবদান। এমন নয় যে শাকিব খান আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি, তবে ‘প্রিয়তমা’র মতো একটি চরিত্রে তিনি ছিলেন, যা অনেকের কাছেই স্পষ্টভাবে “ওয়েল ডিজার্ভিং”।

সেই চরিত্রে তার অভিনয়, উপস্থিতি ও প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। শেষ পর্যন্ত অনেকেই বলছেন—হয়তো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারই এবার দুর্ভাগা হলো। কারণ ‘প্রিয়তমা’র জন্য শাকিব খানের হাতে ট্রফি ওঠার যে সৌভাগ্য, সেটি থেকে পুরস্কারের মঞ্চই বঞ্চিত রয়ে গেল।

About the author

Daud
Hey! I'm Daud, Currently Working in IT Company BD. I always like to learn something new and teach others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.