অপয়া অভিনেতা থেকে সুপারস্টার: যীশু সেনগুপ্তর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প
একটা সময় বাংলা সিনেমার পার্শ্বচরিত্রে তিনি ছিলেন প্রায় অটোচয়েজ। অনেকে তাকে ওপার বাংলার বাপ্পারাজ বলেও তুলনা করতেন। তবে সেই সময় খুব কম মানুষই বুঝতে পেরেছিলেন তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অসাধারণ প্রতিভা।
এই প্রতিভার ছাইচাপা আগুনটা প্রথম দেখেছিলেন কিংবদন্তি নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ। তিনি বারবার সুযোগ দিয়েছিলেন যীশু সেনগুপ্ত-কে। ভালো কাজ করলেও ভাগ্য যেন তার পক্ষে ছিল না। বরং তার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল একটি তকমা—‘অপয়া অ্যাক্টর’।
ক্যারিয়ারের এক সময় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, যীশু সেনগুপ্তের অভিনয় জীবন প্রায় শেষ। শোনা যেত, হয়তো তিনি রিয়েলিটি শো বা অ্যাওয়ার্ড নাইট উপস্থাপন করেই বাকি জীবন কাটাবেন।
পরিবর্তনের শুরু ‘জাতিস্মর’ থেকে
এরপর আসে বড় পরিবর্তন। পরিচালক সৃজিত মুখার্জী-র সিনেমা ‘জাতিস্মর’ যীশু সেনগুপ্তের ক্যারিয়ারে এক নতুন মোড় এনে দেয়। এই ছবিতে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পরিশ্রম, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তিনি নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ে নেন।
কলকাতা থেকে বলিউড
গত কয়েক বছর ধরেই কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেতাদের একজন। অনেক নামকরা পরিচালকের প্রথম পছন্দ এখন যীশু সেনগুপ্ত।
শুধু টলিউড নয়, তিনি বলিউডেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। স্ক্রিন শেয়ার করেছেন সালমান খান ও অমিতাভ বচ্চন-এর মতো তারকাদের সঙ্গে। দক্ষিণী সিনেমাতেও ভিলেনের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ফিনিক্সের মতো প্রত্যাবর্তন
যাকে একসময় ‘আনলাকি’ তকমা দিয়ে অনেক পরিচালক কাজ দিতে চাইতেন না, আজ তিনিই ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা। এই পটপরিবর্তন হঠাৎ করে হয়নি—এর পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।
যীশু সেনগুপ্ত যেন প্রমাণ করেছেন—ধ্বংসস্তুপ থেকেও ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে আসা সম্ভব। তার এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা অনেকের জন্যই উদাহরণ হয়ে থাকবে।
শুভকামনা যীশু সেনগুপ্তের জন্য। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, হার না মানা মানসিকতা আর অদম্য পরিশ্রম থাকলে অসাধ্যও সাধন করা যায়।
