ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে যেমন মানুষের ব্যয় বাড়ে, তেমনি প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরাও এই সময়ে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। এই সুযোগকে সামনে রেখে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে ব্যাংকটি চালু করেছে ৪০ দিনের বিশেষ ‘রেমিট্যান্স উৎসব’।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উৎসবের মাধ্যমে প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করা হবে এবং গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় বিভিন্ন পুরস্কার। যারা এই সময়ের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় গ্রহণ করবেন তারা লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন উপহার জেতার সুযোগ পাবেন।
৪০ দিনের রেমিট্যান্স উৎসব শুরু
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রেমিট্যান্স উৎসব চলবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে যারা বৈধ পথে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় গ্রহণ করবেন বা ব্যাংকের হিসাবে জমা নেবেন, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লটারির মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও বাড়ানো এবং গ্রাহকদের মধ্যে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীদের পরিবারকে বাড়তি আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যেও এই আয়োজন করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পুরস্কারের ব্যবস্থা
এই প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যালয় ও ব্যাংকের শাখাগুলোতে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পুরস্কারের পাশাপাশি সারাদেশের সব শাখা মিলিয়েও থাকবে আলাদা কিছু বিশেষ পুরস্কার।
এই উৎসবের আওতায় মোট ৩৮ জন গ্রাহককে পুরস্কৃত করা হবে। এর মধ্যে ২৭ জন বিভাগভিত্তিক পুরস্কার এবং ১১ জন সারাদেশের বিশেষ পুরস্কার পাবেন।
Related Posts
বিভাগভিত্তিক পুরস্কার
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৯টি বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতায় গ্রাহকদের জন্য আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- ঢাকা
- চট্টগ্রাম
- বরিশাল
- কুমিল্লা
- ফরিদপুর
- খুলনা
- কুষ্টিয়া
- ময়মনসিংহ
- সিলেট
প্রতিটি বিভাগে ৩ জন করে মোট ২৭ জন গ্রাহক পুরস্কার পাবেন। বিভাগভিত্তিক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে স্যামসাং ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন।
সারাদেশের জন্য বিশেষ পুরস্কার
বিভাগভিত্তিক পুরস্কারের পাশাপাশি সারাদেশের সব শাখা মিলিয়ে আরও কিছু বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে মোট ১১ জন গ্রাহক বিশেষ পুরস্কার পাবেন।
মেগা পুরস্কার
এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরস্কার হলো একটি ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল। লটারির মাধ্যমে একজন সৌভাগ্যবান গ্রাহক এই মেগা পুরস্কারটি জিততে পারবেন। মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি হেলমেটও দেওয়া হবে।
অন্যান্য পুরস্কার
মেগা পুরস্কারের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় উপহার রাখা হয়েছে।
- ফ্রিজ
- টেলিভিশন
- স্মার্টফোন
- বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী
এই পুরস্কারগুলো লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
কীভাবে অংশ নেবেন
এই রেমিট্যান্স উৎসবে অংশ নেওয়া খুবই সহজ। কোনো আলাদা আবেদন করার প্রয়োজন নেই। যদি কেউ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় গ্রহণ করেন তাহলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
গ্রাহকরা দুটি উপায়ে এতে অংশ নিতে পারবেন—
- ব্যাংকের শাখায় সরাসরি স্পট ক্যাশের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণ করলে
- নিজস্ব কৃষি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসী আয় জমা হলে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এতে অংশ নিতে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ যেকোনো পরিমাণ বৈধ রেমিট্যান্স এলেই গ্রাহক এই লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
লটারির ফলাফল কবে ঘোষণা হবে
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩১ মার্চ অথবা পরবর্তী সুবিধাজনক কোনো দিনে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
এই লটারির পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রেমিট্যান্স সংগ্রহে কৃষি ব্যাংকের অগ্রগতি
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই কৃষি ব্যাংক তাদের নির্ধারিত প্রবাসী আয় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৭১ শতাংশ অর্জন করেছে। এটি ব্যাংকের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
বর্তমানে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে কৃষি ব্যাংক প্রথম স্থানে রয়েছে এবং দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে প্রতিযোগী ব্যাংকগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও ২০২৫ সালে কৃষি ব্যাংক রেমিট্যান্স সংগ্রহে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং এখনো সেই অবস্থান ধরে রেখেছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতি বছর দুই ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন উপহারসহ রেমিট্যান্স উৎসব আয়োজন করা হয়। এর ফলে প্রবাসী আয় সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত স্বজনদের কাছে বেশি অর্থ পাঠান। সেই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং প্রবাসীদের পরিবারকে ঈদের আনন্দে অংশীদার করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
কৃষি ব্যাংকের রেমিট্যান্স উৎসব কতদিন চলবে?
এই বিশেষ রেমিট্যান্স উৎসব ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ৪০ দিন চলবে।
রেমিট্যান্স উৎসবে কী কী পুরস্কার দেওয়া হবে?
মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে।
এই উৎসবে কীভাবে অংশ নেওয়া যাবে?
কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় গ্রহণ করলে গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মোট কতজন গ্রাহক পুরস্কার পাবেন?
এই রেমিট্যান্স উৎসবে মোট ৩৮ জন গ্রাহক বিভিন্ন পুরস্কার পাবেন।
লটারির ফলাফল কবে ঘোষণা করা হবে?
৩১ মার্চ অথবা পরবর্তী সুবিধাজনক কোনো দিনে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে।