বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ। দেশেও গরমের সময় তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। যদিও এই প্রভাব বৈশ্বিক, তবুও স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা পরিবেশের দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করেছেন পরিবেশবান্ধব ব্যবসা বা গ্রিন এন্টারপ্রেনিউরশিপ।
রাস্তার পাশে দোকানে প্লাস্টিকের কাপের পরিবর্তে কাগজের কাপে চা পরিবেশন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি কিংবা সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবসা—এসব উদ্যোগ এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশবান্ধব শিল্প রপ্তানিমুখী হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে। ফলে গ্রিন ব্যবসা এখন আর শুধু লাভের বিষয় নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ঋণ দিচ্ছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।
‘ইউসিবি সবুজ সমৃদ্ধি’ কী?
পরিবেশবান্ধব ব্যবসা সম্প্রসারণে ইউসিবি ব্যাংক চালু করেছে ‘ইউসিবি সবুজ সমৃদ্ধি’ নামে বিশেষ ঋণসেবা। এটি একটি টার্ম লোন (নির্দিষ্ট মেয়াদি ঋণ), যার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তারা অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।
এই সেবার আওতায় ২ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। ঋণটি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক থেকে তিন বছর।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের প্রথম গ্রিন ফাইন্যান্স বা সবুজ অর্থায়ন পণ্য সেবা বলে দাবি করা হয়েছে।
কোন খাতে এই ঋণ পাওয়া যাবে?
‘ইউসিবি সবুজ সমৃদ্ধি’ ঋণ মূলত টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য। যেমন—
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সোলার, বায়োগ্যাস ইত্যাদি)
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
- রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার)
- পরিবেশবান্ধব স্থাপনা নির্মাণ
- জ্বালানি ও পানিসাশ্রয়ী উদ্যোগ
- টেকসই কৃষিভিত্তিক প্রকল্প
উৎপাদন, বাণিজ্য, সেবা, নন-ফার্ম ও কৃষিভিত্তিক যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যারা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী, তারা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
Related Posts
ঋণের মূল বৈশিষ্ট্য
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঋণের পরিমাণ | ২ লাখ – ২৫ লাখ টাকা |
| মেয়াদ | ১ – ৩ বছর |
| পরিশোধ পদ্ধতি | মাসিক কিস্তি |
| জামানত | প্রয়োজন নেই |
কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করাই এই ঋণসুবিধার মূল লক্ষ্য।
ঋণ নিতে কী কী লাগবে?
এই ঋণ পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন—
- প্রতিষ্ঠানটি একক মালিকানা, অংশীদারি বা প্রাইভেট লিমিটেড হতে হবে।
- ব্যবসার বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে।
- উদ্যোক্তার বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- ইউসিবি ব্যাংকে একটি হিসাব থাকতে হবে।
- বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
যেহেতু এই ঋণে জামানত প্রয়োজন হয় না, তাই কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে না। তবে ব্যাংকের শাখা অনুযায়ী ব্যবসার বিবরণ, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক তথ্য চাওয়া হতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
বাংলাদেশে গ্রিন ফাইন্যান্স বা সবুজ অর্থায়ন এখনো নতুন ধারণা। পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দিলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষায় বাস্তব ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাংক এ ধরনের সবুজ অর্থায়ন সেবা চালু করলে দেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে।