ডিপ্লোমা কোর্স ৩ বছরে নামানোর চিন্তা: কারিগরি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দেশের শিক্ষা খাতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন এবং ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও সময়মতো বাস্তবায়নের নির্দেশনা
সভায় শিক্ষামন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করে সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে।
পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে প্রকল্পের ব্যয় কমবে এবং বাস্তব ফলাফল দ্রুত পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারিগরি শিক্ষায় আধুনিকায়নের ওপর জোর
বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তা সভায় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে আপডেট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় আন্তর্জাতিক মানের মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আলোচনায় আসে, যা দেশের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডিপ্লোমা কোর্স ৩ বছরে নামানোর প্রস্তাব
সভার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ কমানো। বর্তমানে এই কোর্স চার বছর মেয়াদি হলেও সেটিকে তিন বছরে নামিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, অতীতে এই কোর্সের মেয়াদ তিন বছর ছিল। পরে তা চার বছর করা হলেও পাঠ্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলেও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেয়াদ কমানোর সম্ভাব্য সুবিধা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ কমিয়ে তিন বছর করা হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে।
এতে তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরির গতি ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সময় ও খরচও কমবে।
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
তবে কোর্সের মেয়াদ কমানোর আগে পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু সময় কমালেই হবে না, বরং দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
আধুনিক প্রযুক্তি, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-লিংকড কারিকুলাম চালু করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত
বর্তমানে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়। তাই কোর্সের কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে চায়, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দক্ষ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা
বৈঠকে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা নিজ নিজ বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত দেন।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, শিক্ষা খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং কারিগরি শিক্ষার কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বিশেষ করে ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা শিক্ষার্থী এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
