এনআইডি সংশোধনে নতুন নিয়ম ২০২৬ – জন্মতারিখ পরিবর্তনে বড় সিদ্ধান্ত
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধান অনুযায়ী জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষমতা এখন কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) হাতে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এই পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও কঠোর এবং নিয়ন্ত্রিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম সাধারণ নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নিয়ম
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন থেকে কোনো নাগরিকের জন্মসাল সংশোধন করতে হলে এনআইডি উইংয়ের ডিজির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। আগে ১০ বছর বা তার বেশি পার্থক্য থাকলে ডিজির অনুমোদন প্রয়োজন হতো, আর কম পার্থক্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়েই সংশোধন করা যেত।
কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধন আবেদনই কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। এতে করে পুরো প্রক্রিয়া একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
নতুন প্রবিধানমালা ও কড়াকড়ি
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত সংশোধন সংক্রান্ত প্রবিধানমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি সংশোধনের প্রবণতা রোধ করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আগে অনেক ক্ষেত্রে সহজেই ভুল তথ্য সংশোধন করা যেত, যা কখনো কখনো অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করত। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এসএসসি সনদ এখন বাধ্যতামূলক
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য এখন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
যদি কারো একাধিক সনদ থাকে, তাহলে প্রথমে সেই সনদগুলো সংশোধন করতে হবে। এরপর এনআইডির তথ্য আপডেট করা যাবে। এতে করে তথ্যের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা সহজ হবে।
যেসব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে
শুধু কড়াকড়ি নয়, কিছু ক্ষেত্রে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া সহজও করা হয়েছে। যেমন—
- পিতা-মাতার এনআইডি অনুযায়ী একই ঠিকানায় স্থানান্তর চাইলে দ্রুত অনুমোদন
- ধর্ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতার প্রত্যয়ন থাকলে দ্রুত সংশোধন
এই উদ্যোগগুলো নাগরিকদের কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
একাধিক জন্ম নিবন্ধন নিয়ে নতুন নির্দেশনা
অনেকের একাধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই সমস্যা সমাধানে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন রেখে বাকি সব বাতিল করতে হবে। এর ফলে তথ্যের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং জালিয়াতির সুযোগ কমে যাবে।
জনমত ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
নতুন এই কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এতে ভুয়া সংশোধন কমবে ঠিকই, কিন্তু প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, এই উদ্যোগ ভালো হলেও অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ জটিলতা তৈরি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
এ বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জন্মতারিখ সংশোধন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই এই কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আবার কিছু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হতে পারে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, এনআইডি সংশোধনে নতুন এই নিয়ম একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে, অন্যদিকে নাগরিক সেবায় সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তাই নতুন নিয়ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এখন প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।