ই-ট্রাফিক সিস্টেম চালু: আইন ভাঙলে অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে পরোয়ানা
ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক আইন ভাঙলে এখন আর সহজে পার পাওয়া যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) চালু করেছে আধুনিক ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম, যার মাধ্যমে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা হাজিরা না দিলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
কিভাবে কাজ করছে ই-ট্রাফিক সিস্টেম?
ডিএমপি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সিগন্যাল পয়েন্টে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে।
এরপর ই-ট্রাফিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক বা চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ পাঠানো হয়।
যেসব অপরাধে মামলা হচ্ছে
- লাল বাতি অমান্য করা
- স্টপ লাইন অতিক্রম করা
- উল্টো পথে গাড়ি চালানো
- অবৈধ পার্কিং
- যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো
- লেফট লেন ব্লক করা
- ফিটনেসবিহীন বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন
নোটিশ পাওয়ার পর কী করবেন?
নোটিশ পাওয়ার পর মালিক বা চালককে ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হতে হবে।
এরপর নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে।
হাজিরা না দিলে কী হবে?
নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ হাজির না হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
এই কার্যক্রম স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন
প্রতারণা থেকে সতর্কতা
ডিএমপি জানিয়েছে, ই-ট্রাফিক মামলার নামে কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে টাকা দাবি করে বা মেসেজ পাঠায়, তাহলে তা প্রতারণা হতে পারে।
এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
ই-ট্রাফিক সিস্টেম চালুর ফলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।