ঈদে একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে ৯ সিনেমা, তৈরি হয়েছে বড় স্ক্রিন সংকট

ঈদুল আজহায় একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে ৯টি নতুন বাংলা সিনেমা। সীমিত সংখ্যক হল ও স্ক্রিন সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযোজক, হল মালিক ও চলচ্চিত্র
eid-movie-release-screen-crisis

ঈদে মুক্তি পাচ্ছে ৯ সিনেমা, হল সংকটে শঙ্কায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা

বাংলাদেশে বছরের দুই ঈদকে ঘিরে সিনেমা মুক্তির হিড়িক নতুন কিছু নয়। তবে এবার ঈদুল আজহায় পরিস্থিতি যেন আরও ব্যতিক্রমী। মুক্তির তালিকায় রয়েছে একসঙ্গে নয়টি নতুন সিনেমা, অথচ দেশে নিয়মিত চালু থাকা সিনেমা হলের সংখ্যা মাত্র ৬০ থেকে ৭০টির মতো।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, একই সময়ে এত সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় প্রতিটি ছবিই পর্যাপ্ত শো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

বিশেষ করে মাল্টিপ্লেক্স এবং জনপ্রিয় সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে স্ক্রিন সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঈদে মুক্তির তালিকায় কোন কোন সিনেমা?

এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তির মিছিলে রয়েছে মোট নয়টি সিনেমা।

মুক্তির তালিকায় থাকা সিনেমাগুলো

  • রকস্টার
  • মালিক
  • রইদ
  • মাসুদ রানা
  • নাকফুলের কাব্য
  • দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল
  • পিনিক
  • বনলতা সেন
  • তছনছ

প্রতি বছর ঈদের আগে বেশ কিছু সিনেমা মুক্তির ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে অনেক সিনেমা সরে দাঁড়ায়। তবে এবার ঈদের মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিনেমা মুক্তি পিছিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি।

স্ক্রিন সংকটে বিপাকে সিনেমাগুলো

একই সময়ে এত সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় সিনেমা হলগুলোতে স্ক্রিন সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে তারকানির্ভর বড় বাজেটের সিনেমাগুলো অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে মাঝারি ও ছোট বাজেটের সিনেমাগুলো পর্যাপ্ত শো না পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

হল মালিকদের মতে, সব সিনেমাকে সমানভাবে শো দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

হল সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা

প্রদর্শক মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে আরও ২০ থেকে ৩০টি সিনেমা হল সাময়িকভাবে চালু হতে পারে।

তবে সেটিও নয়টি সিনেমার জন্য যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি।

প্রদর্শক সমিতির উদ্বেগ

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তিকে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সবাই একসঙ্গে ছবি মুক্তি দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে প্রযোজকদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তার মতে, পরিকল্পনা ছাড়া একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তি দেওয়া হলে ব্যবসায়িক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্টার সিনেপ্লেক্স কী বলছে?

স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রযোজক ও হল মালিক উভয় পক্ষই ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

তার মতে, বছরের বেশিরভাগ সময় নতুন সিনেমা না থাকায় দর্শক হলবিমুখ হয়ে পড়ছেন এবং নতুন দর্শকও তৈরি হচ্ছে না।

তিনি পরিকল্পিত মুক্তি সূচি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রযোজকদের ভিন্ন মত

মাসুদ রানার প্রযোজক ও পরিবেশক আব্দুল আজিজ মনে করেন, একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে না।

তবে ঈদ দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা মৌসুম হওয়ায় দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই সময়টিকেই বেছে নিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে ‘মালিক’ সিনেমার নির্মাতা সাইফ চন্দন বিষয়টিকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না।

তার মতে, ঈদের বাইরে বড় সিনেমা মুক্তি দেওয়া এখনও কঠিন।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিনেমা মুক্তি

‘রইদ’ সিনেমার নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ও বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে দেখছেন।

তিনি বলেন, গত দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক নির্মাতাই নিরাপদ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন।

সেই কারণে উৎসবকেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তির প্রবণতাকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখছেন না।

তার মতে, সামনে বিশ্বকাপ ফুটবলসহ নানা ব্যস্ততা থাকায় এই সময়টিই উপযুক্ত মনে হয়েছে।

হল মালিকদের শঙ্কা

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদও একই সময়ে এত সিনেমা মুক্তির সংস্কৃতিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন।

তার মতে, ঈদের পর নতুন সিনেমার অভাব দেখা দিলে হল ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি পরিকল্পিতভাবে সারা বছর সিনেমা মুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

রিলিজ কমিটির দাবি

চলচ্চিত্র মুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে কার্যকর কোনো কাঠামো না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, প্রযোজক, পরিবেশক, নির্মাতা ও হল মালিকদের সমন্বয়ে একটি রিলিজ কমিটি গঠন করা জরুরি।

এমন কমিটি থাকলে সারা বছরের জন্য পরিকল্পিতভাবে সিনেমা মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে এবং ব্যবসায়িক ভারসাম্য বজায় থাকবে।

বিষয় তথ্য
ঈদে মুক্তির সিনেমা ৯টি
বর্তমান সক্রিয় হল ৬০-৭০টি
অতিরিক্ত চালু হতে পারে ২০-৩০টি হল
সবচেয়ে বড় সমস্যা স্ক্রিন সংকট
সমাধানের প্রস্তাব রিলিজ কমিটি গঠন

উপসংহার

এবারের ঈদুল আজহায় একসঙ্গে নয়টি সিনেমা মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একদিকে দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় সিনেমা দেখার সুযোগ তৈরি হলেও অন্যদিকে স্ক্রিন সংকট ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত মুক্তি সূচি এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

এবার ঈদে কয়টি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে?

এবারের ঈদুল আজহায় মোট নয়টি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?

একই সময়ে অনেক সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় স্ক্রিন সংকট তৈরি হয়েছে।

দেশে বর্তমানে কতটি সিনেমা হল চালু আছে?

বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি নিয়মিত সিনেমা হল চালু রয়েছে।

কোন সমাধানের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা?

প্রযোজক, পরিবেশক ও হল মালিকদের সমন্বয়ে একটি রিলিজ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাল্টিপ্লেক্সে কোন সিনেমা বেশি অগ্রাধিকার পেতে পারে?

তারকানির্ভর বড় বাজেটের সিনেমাগুলো বেশি অগ্রাধিকার পেতে পারে।

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.