রাজধানীর আরও ৪৯ ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক
রাজধানীতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। নতুন করে ঢাকার আরও ৪৯টি ফিলিং স্টেশনকে ফুয়েল পাস ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত রাজধানীর মোট ৬৮টি ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কারে জ্বালানি নিতে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানির অপচয় কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং ডিজিটাল মনিটরিং নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ১৮টি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এবার রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও ৪৯টি স্টেশন এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হলো।
নতুন যুক্ত হওয়া ফিলিং স্টেশনগুলো
নতুন তালিকায় থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে— হাটখোলা রোডের মেসার্স এ. হাই অ্যান্ড কোং, মিরপুর দারুস সালাম রোডের ডেনসো ফিলিং স্টেশন, উত্তরা সেক্টর-৭ এর কসমো ফিলিং স্টেশন, আব্দুল্লাহপুরের উত্তরা ফিলিং স্টেশন এবং যাত্রাবাড়ীর মেসার্স হক ফিলিং স্টেশন।
এছাড়া রায়েরবাজারের মেসার্স সাদেক ফিলিং স্টেশন, উত্তরার জি. এফ. ট্রেডিং (ডিএল ফিলিং স্টেশন), জুরাইনের এস. আহমেদ ফাউন্ডেশন সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বনশ্রীর মেসার্স কিকো ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স সিকদার ফিলিং স্টেশনও নতুন তালিকায় রয়েছে।
ঢাকা সেনানিবাসের সিএসডি ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর চন্দা মাহজাবীন (সিএম) ফিলিং স্টেশন, কেরানীগঞ্জের আলহাজ্ব নূর ফিলিং স্টেশন, ডেমরার মুন সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, রায়েরবাজারের জে এম এক্সপ্রেস ফিলিং স্টেশন এবং মিরপুরের আল মাহমুদ ফিলিং স্টেশনও ফুয়েল পাস ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।
আরও যেসব স্টেশন যুক্ত হয়েছে
তালিকায় আরও রয়েছে যাত্রাবাড়ীর আসমা আলী সিএনজি রিফুয়েলিং অ্যান্ড ওয়ার্কসপ, ডেমরার রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশন, তুরাগের ইস্ট-ওয়েস্ট ফিলিং স্টেশন-১, পল্লবীর সাদি ফিলিং স্টেশন, মুগদার শান্ত ফিলিং স্টেশন এবং খিলগাঁওয়ের মালিবাগ অটো সার্ভিস।
একইসঙ্গে কল্যাণপুরের কমফোর্ট ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশন, মতিঝিলের পূবালী ফিলিং স্টেশন, নীলক্ষেতের পথের বন্ধু, তেজগাঁওয়ের আইডিয়েল ফিলিং স্টেশন, শেরে বাংলানগরের এ. এস. ফিলিং স্টেশন এবং বাড্ডার মক্কা সিএনজি ফিলিং স্টেশনও নতুন তালিকায় রয়েছে।
তেজগাঁওয়ের ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন, সায়েদাবাদের পৌর ফিলিং স্টেশন, আউটার সার্কুলার রোডের এইচ কে ফিলিং স্টেশন, রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন, এলিফ্যান্ট রোডের রহমান অ্যান্ড কোং, শ্যামলীর সাহিল ফিলিং স্টেশন এবং গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনও এখন ফুয়েল পাস ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।
ফুয়েল পাসের জন্য আবেদন করবেন যেভাবে
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ফুয়েল পাসের জন্য নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং গাড়ির তথ্য জমা দিতে হবে।
তথ্য যাচাই শেষে অনুমোদিত ফুয়েল পাসের মাধ্যমে নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া যাবে। এই ব্যবস্থায় ডিজিটালভাবে প্রতিটি গাড়ির জ্বালানি গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুন
কী সুবিধা মিলবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানির অপচয় ও অনিয়ম কমবে। একই সঙ্গে কোন গাড়ি কোথা থেকে কত জ্বালানি নিচ্ছে, তা সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তবে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।