‘Prince: Once Upon a Time in Dhaka’ সেন্সর সনদ স্থগিত, অশালীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ

শাকিব খান অভিনীত ‘Prince: Once Upon a Time in Dhaka’ সিনেমার সেন্সর সনদ সাময়িক স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। জেনে নিন অশালীনতা,
Prince: Once Upon a Time in Dhaka

অশালীনতা ও সেন্সরবিহীন দৃশ্যের অভিযোগে ‘প্রিন্স’ সিনেমার সনদ স্থগিত

আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এবং শাকিব খান অভিনীত আলোচিত অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে। মুক্তির প্রায় দেড় মাস পর ছবিটির বিরুদ্ধে বীভৎসতা, অশালীনতা এবং সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত দৃশ্য ও গান সংযোজনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটির সেন্সর সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

পিআইডি সূত্রে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেন্সর বোর্ডের অনুমোদিত সংস্করণের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির পরিবর্তিত ভার্সন প্রদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিনেমায় নতুন গান, সহিংস দৃশ্য এবং পূর্বে কর্তন করা কিছু বিতর্কিত অংশ পুনরায় যুক্ত করা হয়েছিল।

কী কী অভিযোগ উঠেছে?

সার্টিফিকেশন বোর্ডের অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘তোমাকে ছাড়া’ শিরোনামের একটি অতিরিক্ত গান সিনেমায় সংযোজন করা হয়, যা পূর্বে অনুমোদিত ছিল না। এছাড়া ভারতের মরুভূমি পটভূমিতে নির্মিত কিছু সহিংস ও বীভৎস হত্যাযজ্ঞের দৃশ্যও প্রদর্শন করা হয়েছে।

বোর্ড আরও জানায়, পূর্বে যেসব দৃশ্য কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকেও আবার সিনেমায় যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল চাপাতি দিয়ে হাত কেটে ফেলার দৃশ্য, গলার রগ কেটে দেওয়ার দৃশ্য এবং নারীদের অশালীন উপস্থাপন সংবলিত কিছু অংশ।

সতর্কবার্তা পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে

সেন্সর বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত কপিতে থাকা ধূমপান ও মাদক সেবনের সতর্কবার্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। বড় ফন্টের পরিবর্তে ছোট আকারে সতর্কবার্তা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সিনেমা প্রদর্শনের সময় বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্যের বিজ্ঞাপনও চালানো হয়েছে, যেগুলোর কোনো অনুমোদন ছিল না।

পরিচালকের বক্তব্য

এ বিষয়ে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ জানান, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিতাদেশ হাতে পাননি। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেন্সর বোর্ড থেকে একটি নোটিশ পেয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার জবাব দেওয়া হয়েছে।

সেন্সরবিহীন দৃশ্য প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুলবশত কিছু প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির ইন্ডিয়ান বা ওটিটি ভার্সন চালানো হয়েছিল। সেই সময় ছবিটি আর নিয়মিতভাবে হলে চলছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। ভবিষ্যতে শুধুমাত্র অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

দেশের বিভিন্ন হলে পাওয়া যায় অনিয়ম

গত ২ এপ্রিল প্রযোজকদের কাছে পাঠানো নোটিশে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ পরিদর্শনের তথ্য তুলে ধরা হয়। রংপুর, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ময়মনসিংহ, বগুড়া, যশোর, চট্টগ্রাম এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক হলে ছবিটি প্রদর্শনের সময় অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, সেন্সর বোর্ড কর্তৃক বাদ দেওয়া বীভৎস দৃশ্যগুলো পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন গান ও অতিরিক্ত দৃশ্যও প্রদর্শিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বোর্ড ছবিটির সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আইনগত ব্যবস্থার ইঙ্গিত

বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন ২০২৩ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া সিনেমার দৃশ্য পরিবর্তন বা অতিরিক্ত কনটেন্ট সংযোজন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে প্রযোজকদের।

বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঈদে মুক্তি পেয়েছিল ‘প্রিন্স’

‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে মুক্তি পায়। অ্যাকশন ও অপরাধভিত্তিক গল্পের এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুসহ আরও অনেকে।

মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। তবে নতুন এই বিতর্ক ছবিটির ভবিষ্যৎ প্রদর্শনী এবং সার্টিফিকেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা—পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী নেয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড।

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.