কোরবানি কাদের উপর ওয়াজিব? কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হবে
ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহান শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। অনেকেই জানতে চান—কোরবানি কাদের উপর ওয়াজিব এবং কতটুকু সম্পদ থাকলে এটি আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে।
কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?
যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা), তার কাছে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
এই সম্পদ কোরবানির নির্ধারিত সময়—১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত—থাকা জরুরি। এই সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কোরবানি বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।
নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত?
নিসাব হলো সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ, যার মালিক হলে কোরবানি ওয়াজিব হয়।
সাধারণভাবে:
- স্বর্ণ: প্রায় ৭.৫ ভরি
- রূপা: প্রায় ৫২.৫ ভরি
এছাড়া নগদ অর্থ, অলঙ্কার বা অতিরিক্ত সম্পদ মিলিয়ে যদি রূপার নিসাবের সমপরিমাণ মূল্য হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে। এখানে যাকাতের মতো এক বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত নেই।
কার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়?
নিচের ব্যক্তিদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়:
- যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন
- অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি
- অসুস্থ মস্তিষ্কের ব্যক্তি
- মুসাফির (ভ্রমণরত ব্যক্তি)
- যাদের প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদ নেই
২০২৬ সালে কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো টাকার পরিমাণ স্থির নয়। এটি নির্ভর করে স্বর্ণ ও রূপার বাজারমূল্যের ওপর।
সাধারণভাবে বলা যায়, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার বর্তমান বাজারমূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে। তাই প্রতি বছর এই হিসাব কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
কোরবানি ফরজ নাকি ওয়াজিব?
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কোরবানি ফরজ নয় বরং ওয়াজিব।
তবে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা অনুচিত বলে বিবেচিত হয়।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়:
- মুসলিম হতে হবে
- প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে
- সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে
- মুকিম হতে হবে
- নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে
কোরবানি সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—“তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”
এছাড়াও হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
উপসংহার
কোরবানি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগ এবং আনুগত্যের প্রতীক।
যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাদের উচিত সঠিক নিয়ম মেনে এই ইবাদত আদায় করা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।