Table of Contents
০১। ভূমিকা
বর্তমান ২০২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দেশের জনগণের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় এ খাতের উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। চাহিদা ও উৎপাদনের পাল্লা সমান রাখতে বিদ্যুৎ খাতের দক্ষ, নিরাপদ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে এ খাতকে আধুনিকায়ন, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও গ্রাহক বান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
উক্ত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ লাইন লস হ্রাস, বিদ্যুৎ চুরি রোধ, গ্রাহক সেবার উন্নয়ন, সার্ভিসিং ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (DPDC)-এর উদ্যোগে সি-ক্যাপাড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সেবা দ্রুত ও সহজ করতে প্রি-পেইড মিটার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে DPDC-এর অধীনে প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পটি সি-ক্যাপাড মিটার দ্বারা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
০২। সি-ক্যাপাড মিটার কী?
সি-ক্যাপাড মিটার এক ধরনের স্মার্ট ইলেকট্রনিক মিটার যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে মিটারে টাকা জমা দিয়ে তারপর টাকা কেটে মিটারসহ এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অতঃপর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হলে পুনরায় মিটারসহ রিচার্জ করতে হয়।
সি-ক্যাপাড মিটার প্রধানত দুই ধরনের:
- স্মার্ট কার্ড সি-ক্যাপাড মিটার: এ ধরনের মিটারে গ্রাহককে একটি স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়। এ কার্ড ভেন্ডিং কেন্দ্র থেকে রিচার্জ করে মিটারে প্রবেশ করাতে হয়।
- কী-প্যাড সি-ক্যাপাড মিটার: এ ধরনের মিটারে গ্রাহক ভেন্ডিং সেন্টার থেকে রিচার্জ করতে গিয়ে একটি টোকেন নম্বর দেয়া হয়। টোকেন নম্বরটি মিটারের গায়ে থাকা কী-প্যাডে প্রবেশ করাতে হয়।
০৩। কেন সি-ক্যাপাড মিটার?
সি-ক্যাপাড মিটার ব্যবহারের সুবিধাসমূহ:
- গ্রাহক যেকোনো সময় দেখতে পারেন, তার কত টাকা ব্যবহার হয়েছে এবং কত টাকা অবশিষ্ট আছে।
- বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার অনুযায়ী মিটার থেকে টাকা কেটে যায়।
- পুরাতন মিটারের কারণে অতিরিক্ত বিল দেয়ার কোনো ঝামেলা নেই।
- মিটারের টাকা শেষ হওয়ার আগে মিটারের লো ব্যালেন্স সতর্কতা গ্রাহককে জানায়, ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ হয় না।
- গ্রাহকের সুবিধার কথা চিন্তা করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন, অন্য স্মার্ট ছুটির দিন ও ব্যাংক হলিডে (সকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত) মিটারের টাকা না থাকলে মিটার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে না। এ সুবিধায় মিটার ক্রেডিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
- লোডশেডিং ও ডিমান্ড চার্জের ব্যবস্থা আছে। উক্ত সুবিধাগুলো ছাড়াও কোনো কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহক স্মার্টকার্ড বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে চাপ দিয়ে ডিমান্ড চার্জ চালু করতে পারেন।
- স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে বিল দেওয়ার জন্য কোনো ঝামেলা নেই।
- সি-ক্যাপাড মিটার সংক্রান্ত গ্রাহকগণ ১% ভ্যাট স্বরূপ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পেয়ে থাকেন।
Related Posts
০৪। চার্জের বিবরণ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড/বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (BERC) কর্তৃক নির্ধারিত সনদপত্র অনুযায়ী স্মার্ট মিটারে আরোপিত চার্জসমূহ:
৪.১। ডিমান্ড চার্জ
অনুমোদিত কানেক্টেড লোডের জন্য প্রতি কিলোওয়াট ডিমান্ড চার্জ করা হয়। যদি গ্রাহক কোনো মাসে ভেন্ডিং না করেন তবে প্রতি মাসে যে মাস ভেন্ডিং করেন সেই মাসের আগে যে মাস ভেন্ডিং করেননি সেই মাসের প্রতি কিলোওয়াট ডিমান্ড চার্জ করা হয়।
৪.২। মিটার রেন্ট
একক মিটারসহ একটি কপজ মিটারের ক্ষেত্রে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা মিটার রেন্ট প্রদান করতে হয়। যদি মিটারসহ নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্রাহক নিজে মিটার কিনে দেয় তবে আবার মিটার রেন্ট দিতে হয় না অথবা মিটার স্থাপনের পর গ্রাহক নিজে মিটার কিনে দিলেও মিটার রেন্ট দিতে হয় না।
৪.৩। এনার্জি চার্জ
প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য DPDC-এর পক্ষ থেকে গ্রাহকের মিটার থেকে টাকা কর্তন করা হয়।
৪.৪। ভ্যাট
গ্রাহকের বিলের উপর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৫% ভ্যাট কর্তন করা হয়।
৪.৫। অন্যান্য চার্জ
ডিমান্ড চার্জ, মিটার রেন্ট ও ভ্যাট ছাড়া অন্যান্য চার্জ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে একক হিসেবে আরোপ করা হয় (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
গণনার উদাহরণ
উদাহরণ ১: ধরুন, জনাব 'একক-ফেজ' শ্রেণির একজন গ্রাহক ৩ কিলোওয়াট লোড ব্যবহার করেন। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের ২০ তারিখে ভেন্ডিং কেন্দ্রে ১৫০০ টাকা রিচার্জ করতে যান এবং পূর্ববর্তী মাসে রিচার্জ করে থাকেন তাহলে মিটারের কত টাকা হবে তা নিম্নরূপ:
| চার্জের নাম | গণনা | টাকা |
|---|---|---|
| ভ্যাট ৫% | ১৫০০ x (৫ ÷ ১০৫) | ৭১.৪৩ |
| ডিমান্ড চার্জ | ১ মাস x (৩ কিলোওয়াট x ৩০) | ৯০ |
| মিটার রেন্ট | ১ মাস x ৪০ | ৪০ |
| মোট চার্জ | ২০১.৪৩ | |
| সরটিট ১% | ১/১০১*(১৫০০-৪০-৭১.৪৩) | ১৩.৭৫ |
| মোট এনার্জি | ১৫০০ - ২০১.৪৩ + ১৩.৭৫ | ১৩১২.৩২ |
গ্রাহকের মিটারে মোট ১৩১২.৩২ টাকা জমা হবে।
০৫। কোথায় ভেন্ডিং করবেন
DPDC-এর নির্ধারিত সি-ক্যাপাড মিটার রিচার্জ পয়েন্টে ভেন্ডিং সেন্টার। এছাড়া DPDC-এর সি-ক্যাপাড মিটারের ভেন্ডিং নিজস্ব ভেন্ডিং কেন্দ্র, বিভিন্ন ব্যাংক, রসি, গ্রীণটপস, Rocket, TeleCash ও MYCash এর নির্ধারিত Agent এর মাধ্যমে POS/App দিয়ে রিচার্জ করা যায়।
ভেন্ডিং কেন্দ্রের তালিকা সম্পর্কে জানতে নিচের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: https://dpdc.org.bd/prepaid/vending
০৬। কিভাবে ভেন্ডিং করবেন
উপযুক্ত ভেন্ডিং কেন্দ্রে ভেন্ডিং করে প্রাপ্ত টোকেন দিয়ে মিটারে প্রবেশ করাতে হবে। টোকেন রিচার্জের পর মিটারের কার্ড/টোকেন প্রবেশ করালে "good" অথবা "success" বার্তা না দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
০৭। মিটারের ডেটা কোড
বর্তমানে DPDC-তে Shenzhen Inhemeter Co. Ltd., Hexing Electrical Co. Ltd. কর্তৃক সরবরাহকৃত মিটার ব্যবহার করা হয়। নিম্নে বিভিন্ন কোম্পানির মিটারের ডেটার কোডের বিবরণ দেয়া হলো:
Shenzhen Inhemeter Co. Ltd.
| কোড (সিঙ্গেল ফেজ) | কোডের অর্থ |
|---|---|
| 000 | মিটারের বর্তমানে কত টাকা আছে |
| 001 | বর্তমান মাসে কত ইউনিট ব্যবহার হয়েছে |
| 002 | মিটারের চলুর পর থেকে কত ইউনিট ব্যবহার হয়েছে |
| 003 | বর্তমানে মিটার কত রেট ব্যবহার করছে |
Hexing Electrical Co. Ltd.
| কোড (সিঙ্গেল ফেজ) | কোডের অর্থ |
|---|---|
| C.51.0 | মিটারের বর্তমানে কত টাকা আছে |
| 1.9.0 | বর্তমান মাসে কত ইউনিট ব্যবহার হয়েছে |
| 1.8.0 | মিটারের চলুর পর থেকে কত ইউনিট ব্যবহার হয়েছে |
| C3.7E | বর্তমানে মিটার কত রেট ব্যবহার করছে |
০৮। মিটারের এরর কোড
DPDC-তে ব্যবহৃত বিভিন্ন কোম্পানির মিটারে বিভিন্ন ধরণের এরর দেখা যায়, তার তালিকা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
Shenzhen Inhemeter Co. Ltd.
| কোড | কোডের অর্থ |
|---|---|
| Err_01 | মিটারের সাথে কার্ডের ঠিকানা অসামঞ্জস্য |
| Err_02 | টোকেন সঠিক ধরনের নয় |
| Err_04 | টোকেনের ডেটায় ত্রুটি |
| USED | ব্যবহৃত টোকেন |
| Full | মিটারের রিচার্জের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম |
| ACCEPT | টোকেন গ্রহণ করা হয়েছে |
| EEP_Er | মিটার নষ্ট |
| Lo_CrEdi | ক্রেডিট কম |
| no_CrEdi | ক্রেডিট নেই |
Hexing Electrical Co. Ltd.
| কোড | কোডের অর্থ |
|---|---|
| ভুল টোকেন | টোকেন সঠিক নয় |
| টোকেন পূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে | টোকেন আগেই ব্যবহার হয়েছে |
| কার্ড সঠিকভাবে প্রবেশ করানো হয়নি | কার্ড ঠিকভাবে পড়া যায়নি |
০৯। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: সি-ক্যাপাড মিটারের চেয়ে পুরাতন মিটারে বিদ্যুৎ বিল কি কম?
উত্তর: না। সি-ক্যাপাড মিটারে পুরাতন মিটারের মতো বিল একই। পুরাতন মিটারে বিল প্রতি ইউনিটে নির্দিষ্ট মূল্য ধার্য করা হয়, সেই মূল্য সি-ক্যাপাড মিটারের ক্যাটাগরিতে দেয়া আছে।
প্রশ্ন: এক এলাকার গ্রাহক অন্য এলাকায় কার্ড রিচার্জ করতে পারেন?
উত্তর: DPDC-এর কোনো এলাকার গ্রাহক অন্য কোনো এলাকায় যেতে পারবেন না। (শুধু মোহাম্মদপুর ও মতিঝিল DPDC দপ্তরের গ্রাহক ব্যতীত)
প্রশ্ন: কার্ড নষ্ট হলে কিভাবে নতুন করবেন?
উত্তর: কার্ড নষ্ট হলে DPDC দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে গ্রাহক নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন।
প্রশ্ন: এক মিটারের কার্ড দিয়ে অন্য মিটার রিচার্জ করা যায়?
উত্তর: এক মিটারের কার্ড দিয়ে অন্য মিটার রিচার্জ করা যায় না। কার্ড নির্দিষ্ট মিটারের সাথে যুক্ত থাকে।
প্রশ্ন: মিটারের রিচার্জ শেষ হয়ে গেলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
উত্তর: মিটারের রিচার্জ শেষ হয়ে গেলে DPDC দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
১০। গ্রাহকদের প্রতি কর্তব্য
- মিটারের কোনো সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে গ্রাহক DPDC-এর DPDC অফিসে যোগাযোগ করবেন।
- কোনো অবস্থায় গ্রাহক নিজে অথবা কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি দিয়ে মিটারের কিছু করবেন না।
- যদি কোনো গ্রাহক নিজে অথবা কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি দিয়ে মিটারের কিছু করেন তাহলে বর্তমান বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী DPDC কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে জরিমানা করতে পারেন।
- সি-ক্যাপাড মিটার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য DPDC-এর ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।
১১। উপসংহার
বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতের সাশ্রয়ী, দক্ষ, নিরাপদ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সি-ক্যাপাড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। সি-ক্যাপাড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকগণ মিটার থেকে নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারে এবং তাদের ব্যবহার অনুযায়ী সহজে ভেন্ডিং কেন্দ্র থেকে রিচার্জ করতে পারে। উক্ত কার্যক্রমটি DPDC কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের কাছ থেকে একান্তভাবে গ্রহণ করছে।