এলপিজির দাম কমল ৩৫৭ টাকা, ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য ১,৫২৮ টাকা

বিইআরসি নতুন করে এলপিজির দাম কমিয়েছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমে হয়েছে ১,৫২৮ টাকা। প্রতি কেজি ও অটো গ্যাসের নতুন দামসহ বিস্তারিত জানু
LpG

দেশের ভোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন ঘোষণায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা কমানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৫৭ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন দাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগের মাসেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমানো হয়েছিল।

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম

বাংলাদেশে গৃহস্থালি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার। নতুন মূল্য অনুযায়ী—

  • আগের দাম: ১,৮৮৫ টাকা
  • দাম কমেছে: ৩৫৭ টাকা
  • নতুন দাম: ১,৫২৮ টাকা

এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মূল্যহ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতি কেজি এলপিজির নতুন মূল্য

বিইআরসি জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা

এর আগে প্রতি কেজির দাম ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা। এই নতুন মূল্য অনুযায়ী বাজারে বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হবে।

কেন কমল এলপিজির দাম?

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেনবিউটেন-এর দাম কমতে শুরু করেছে। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

অটো গ্যাসের দামও কমেছে

গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাস-এর দামও কমিয়েছে বিইআরসি।

  • নতুন দাম: ৭০ টাকা ৪০ পয়সা (প্রতি লিটার)
  • আগের দাম: ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা (প্রতি লিটার)

এর ফলে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের এলপিজি ব্যবহারকারীরাও কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবেন।

সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত

বেসরকারি এলপিজির দাম কমলেও সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি সিলিন্ডারের মূল্য ৮২৫ টাকা থাকছে।

বাজারে কি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায়?

যদিও বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে, বাস্তবে অনেক এলাকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ভোক্তারা নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

কীভাবে নির্ধারণ করা হয় এলপিজির দাম?

বাংলাদেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে।

এলপিজির প্রধান দুই উপাদান প্রোপেনবিউটেন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো এই দুই উপাদানের আন্তর্জাতিক মূল্য প্রকাশ করে, যা Saudi CP (Contract Price) নামে পরিচিত।

এই সৌদি সিপিকে ভিত্তি ধরে, আমদানিকারকদের চালান মূল্য (Invoice Price), ডলারের গড় বিনিময় হার এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দেশের এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করে।

ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির খবর

১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম একবারে ৩৫৭ টাকা কমে যাওয়ায় গৃহস্থালি ব্যবহারকারীসহ ছোট ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ খাতের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলে ভবিষ্যতেও এলপিজির মূল্য আরও সমন্বয় হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.