বয়স ৪০-এর পর জরুরি Health Checkup | Health Tests After 40

বয়স ৪০-এর পর কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি? রক্তচাপ, ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল, ক্যান্সার স্ক্রিনিং, হাড়ের ঘনত্ব, থাইরয়েড ও কিডনি টেস্টসহ সম্পূর্ণ

বয়স ৪০ পার হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি?

বয়স ৪০-এর পর থেকে শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন শুরু হয়। মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, হরমোনের ভারসাম্য বদলায় এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসব সমস্যা আগে থেকেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বয়স ৪০-এর পর করানো উচিত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

১. রক্তচাপ পরীক্ষা

উচ্চ রক্তচাপ ‘নীরব ঘাতক’ নামে পরিচিত, কারণ এটি অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রতি ৬ মাস অন্তর রক্তচাপ মাপা উচিত।

২. রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar)

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে। বছরে অন্তত একবার ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও HbA1c টেস্ট করান।

Related Posts

৩. কোলেস্টেরল লেভেল

রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনিতে প্লাক তৈরি করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে HDL, LDL ও Triglyceride এর মাত্রা জেনে রাখা জরুরি।

৪. চোখের পরীক্ষা

গ্লুকোমা, ক্যাটারাক্ট বা বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি কমাতে বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করান।

৫. ক্যান্সার স্ক্রিনিং

- পুরুষদের জন্য: প্রোস্টেট ক্যান্সার স্ক্রিনিং (PSA Test) - নারীদের জন্য: ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং (ম্যামোগ্রাম), সার্ভিকাল ক্যান্সার স্ক্রিনিং (প্যাপ স্মিয়ার)

৬. হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা (Bone Density Test)

বয়সের সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে নারীদের জন্য মেনোপজের পর এই টেস্ট জরুরি।

৭. লিভার ও কিডনি ফাংশন টেস্ট

নিয়মিত লিভার ও কিডনি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা যাচাই করা উচিত, বিশেষ করে যদি নিয়মিত ওষুধ খান বা ডায়াবেটিস/উচ্চ রক্তচাপ থাকে।

৮. থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট

থাইরয়েড সমস্যা ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি, চুল পড়া এবং হরমোন ভারসাম্য নষ্টের কারণ হতে পারে। বছরে অন্তত একবার TSH পরীক্ষা করান।

৯. কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং

৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে কোলোনোস্কোপি বা স্টুল টেস্ট করে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সুস্থ থাকার জন্য অতিরিক্ত পরামর্শ

  1. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি এড়িয়ে চলুন।
  2. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
  3. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন (৭-৮ ঘণ্টা)।
  4. ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।
  5. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টে মনোযোগ দিন।

উপসংহার

৪০ বছরের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে বড় কোনো রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। তাই দেরি না করে আজই আপনার প্রয়োজনীয় টেস্টগুলোর সময়সূচি ঠিক করুন এবং নিজের সুস্থতার দিকে মনোযোগ দিন।

About the author

Leo
Hey! I'm Leo. I'm always eager to learn new things and enjoy sharing my knowledge with others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.