দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন।
শেষ সময়ের বর্ণনা
ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে ইলিয়াস জাভেদের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ করেই মারাত্মক অবনতি ঘটে।
তিনি জানান,
“এমনিতে তো তাঁকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। একটা সময় বাসায় রেখে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও দুজন নার্স এসে বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন।”
আজ সকালে দুজন নার্স এসে জানান, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চলচ্চিত্রে পথচলার শুরু
ইলিয়াস জাভেদ ষাটের দশকে চলচ্চিত্র জগতে কাজ শুরু করেন নৃত্য পরিচালক হিসেবে।
কায়সার পাশার পরিচালনায় উর্দু ভাষার সিনেমা ‘মালান’–এ প্রথমবারের মতো নৃত্য পরিচালনা করেন তিনি।
অভিনয়জীবনের সূচনা
১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হয় ইলিয়াস জাভেদের।
ধীরে ধীরে তিনি বাংলা ও উর্দু— দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
আলোচিত চলচ্চিত্রসমূহ
ইলিয়াস জাভেদের অভিনীত আলোচিত ছবির তালিকায় রয়েছে—
- মালকা বানু
- অনেক দিন আগে
- শাহজাদী
- নিশান
- রাজকুমারী চন্দ্রবান
- কাজল রেখা
- সাহেব বিবি
বিভিন্ন চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে তাঁকে এনে দেয় একটি স্বতন্ত্র অবস্থান।
আরও পড়ুন
উপসংহার
চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নৃত্য পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য স্মরণীয় কাজ।
তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই।