কাল ভোটের প্রচার শুরু: যা করা যাবে, যা করা যাবে না | Bangladesh Election Rules
আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও বিধিনিষেধ জারি করেছে।
প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং সমর্থকদের জন্য কিছু কাজ করা যাবে, আবার কিছু কাজ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী ভোটের প্রচারে যা করা যাবে এবং যা করা যাবে না তা সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
নির্বাচনী প্রচার কখন থেকে শুরু?
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই প্রার্থীরা তাঁদের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন। এর পর থেকে সব ধরনের প্রচার আইনত নিষিদ্ধ থাকবে।
ভোটের প্রচারে যা করা যাবে
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীরা যেসব কাজ আইনসম্মতভাবে করতে পারবেন—
- নির্ধারিত আকারের পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার
- লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ
- ঘরোয়া সভা ও পথসভা আয়োজন
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাইক ব্যবহার
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
- ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ
তবে এসব কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী করতে হবে।
ভোটের প্রচারে যা করা যাবে না
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কিছু কাজ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—
- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য
- জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক উসকানি
- ভোটারদের ভয়ভীতি বা প্রলোভন দেখানো
- টাকা, উপহার বা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
- সরকারি যানবাহন ও সম্পদ ব্যবহার
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও ধর্মীয় স্থানে প্রচার
এসব কর্মকাণ্ডের জন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মাইক ও শব্দযন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম
নির্বাচনী প্রচারে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।
- নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ
- রাত ৮টার পর শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না
- হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাইক নিষিদ্ধ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের বিধি
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তবে—
- ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ানো যাবে না
- প্রতিপক্ষকে নিয়ে অপপ্রচার নিষিদ্ধ
- উসকানিমূলক ভিডিও বা পোস্ট দেওয়া যাবে না
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ডিজিটাল আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের কঠোর বার্তা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি আরও জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভোটারদের জন্য নির্দেশনা
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়েছে—
- প্রলোভনে পা না দিতে
- ভয়ভীতির শিকার না হতে
- আইন লঙ্ঘনের তথ্য জানাতে
ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
আরও পড়ুন
উপসংহার
কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনী প্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
নির্বাচনী নিয়ম মেনে প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে নির্বাচন হবে আরও সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য।
প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটার— সবার সম্মিলিত দায়িত্বই এই নির্বাচনকে সফল করে তোলা।