‘বনলতা এক্সপ্রেস’ — ম্যাসি নয়, ক্লাসি ফিল্ম! (স্পয়লার ফ্রি রিভিউ)
[রিভিউতে কোনো স্পয়লার নেই]
দীর্ঘ ৮ বছর পর হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্য অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’—আর সত্যি বলতে, এটি তার ভক্তদের জন্য একটি পারফেক্ট ট্রিট।
সিনেমাটি ভীষণ এন্টারটেইনিং এবং এনগেজিং। শুরুর প্ল্যাটফর্ম দৃশ্য থেকেই পরিচালক তানিম নূর প্রতিটি চরিত্রের সাথে দর্শকের সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
গল্প ও নির্মাণ
একটি ট্রেন জার্নিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনের টুকরো টুকরো মুহূর্ত ফুটে ওঠে।
ড. আসহাব, চিত্রা, আজিজ, রাশিদ উদ্দিন, শাকিল-জাফর— প্রতিটি চরিত্রই আলাদা এবং ইন্টারেস্টিং। তাদের এক রাতের এই যাত্রা দর্শককে একইসাথে হাসায়, ভাবায় এবং আবেগপ্রবণ করে।
ভয়েসওভারের ব্যবহার এবং নস্টালজিক উপাদান সিনেমাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সংলাপগুলো ছিল প্রাণবন্ত এবং হলভর্তি দর্শকদের হাসিয়েছে।
এডিটিং ও ট্রানজিশন এতটাই স্মুথ যে এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক মনে হয়।
অভিনয়
মোশাররফ করিম সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক। তার পারফরম্যান্সে কমেডি ও আবেগ—দুটোরই অসাধারণ মিশেল ছিল।
শামীমা নাজনীন দীর্ঘদিন পর ফিরে এসে দারুণ ছাপ ফেলেছেন। শ্যামল মাওলা আজিজ চরিত্রে শক্তিশালী অভিনয় করেছেন।
সাবিলা নূর চিত্রা চরিত্রে নিজেকে ভালোভাবে প্রমাণ করেছেন। শরীফুল রাজ ড. আসহাব চরিত্রে সাবলীল ছিলেন।
চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমকে এক ফ্রেমে দেখা দর্শকদের জন্য বিশেষ ট্রিট।
আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মমসহ অন্যান্যরাও নিজ নিজ জায়গায় ভালো কাজ করেছেন।
সংগীত ও আবহ
সিনেমায় ব্যবহৃত ক্লাসিক গানগুলো নস্টালজিক অনুভূতি এনে দেয়। “উড়াল দিবো আকাশে”, “চাইতেই পারো”, “মাঝে মাঝে তব”— সবগুলো গানই সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও সিনেমার আবহকে শক্তিশালী করেছে।
টেকনিক্যাল দিক
- চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি (ট্রেন জার্নির ভাইব)
- স্মুথ এডিটিং ও ট্রানজিশন
- যুতসই কালার গ্রেডিং
- বাস্তবসম্মত লোকেশন ফিল
সীমাবদ্ধতা
- ফার্স্টহাফে কিছু অংশ স্লো মনে হতে পারে
- কিছু চরিত্রের রসায়ন আরও ডেভেলপ করা যেত
- ক্লাইম্যাক্সে নতুন ক্যারেক্টার আর্ক কিছুটা টেনে দেওয়া মনে হতে পারে
উপসংহার
সবমিলিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ একটি ক্লাসি, ফ্যামিলি এন্টারটেইনিং সিনেমা।
হাসি, আবেগ এবং জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের সুন্দর উপস্থাপনা এই সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
ঈদে পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি মাস্ট-ওয়াচ সিনেমা।
