‘প্রেশার কুকার’ — এটাই পিওর রায়হান রাফি সিনেমা! (স্পয়লার ফ্রি রিভিউ)
[রিভিউতে কোনো স্পয়লার নেই]
এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় পরিচালক রায়হান রাফি। তার সিনেমাগুলো সবসময়ই আলাদা নির্মাণশৈলী ও গল্প বলার ধরণে দর্শকদের আকর্ষণ করে।
‘প্রেশার কুকার’ যেন তার সেই পুরোনো কমফোর্ট জোনে ফিরে আসার একটি সফল প্রচেষ্টা।
গল্প ও নির্মাণ
সিনেমাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ন্যারেটিভ স্টাইল। পুরো গল্পটি ৫টি ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে—
- পরাণ - The Love: প্রেমের গল্প এবং ‘পরাণ’-এর প্রতি হোমাজ
- সুড়ঙ্গ - The Betrayal: বিশ্বাসঘাতকতার অধ্যায়
- তুফান - The Rise: চরিত্রগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্ত
- তাণ্ডব - The Chaos: বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত
- প্রেশার কুকার - The Karma: কর্মফল ও সমাপ্তি
এই হাইপারলিংক গল্প বলার ধরনটি নতুনত্ব এনে দেয়, যেখানে আলাদা আলাদা গল্প শেষে এসে এক জায়গায় মিলিত হয়।
অভিনয়
নাজিফা তুষি এই সিনেমার প্রাণ। তার পারফরম্যান্স শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী।
শবনম বুবলী ভালো করলেও তার চরিত্র তুলনামূলক কম গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুনদের মধ্যে মারিয়া শান্ত বেশ ভালো করেছেন, আর স্নিগ্ধা চৌধুরী ডিসেন্ট পারফরম্যান্স দিয়েছেন।
সাপোর্টিং কাস্টে শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, চঞ্চল চৌধুরীসহ সবাই ভালো ছিলেন।
টেকনিক্যাল দিক
- এনাফরমিক লেন্সে চমৎকার ভিজ্যুয়াল
- দারুণ ওয়ানটেক শট
- ভালো লোকেশন ব্যবহার (নীলাদ্রি লেক ইত্যাদি)
- যুতসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক
বিশেষ করে গানগুলো সিনেমার অন্যতম শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
সীমাবদ্ধতা
- গল্পের সব অংশ পুরোপুরি কানেক্টেড মনে নাও হতে পারে
- কিছু চরিত্রের আর্ক দুর্বল
- সিনেমার লেন্থ (২ ঘণ্টা ৫২ মিনিট) কিছুটা বেশি
- কিছু জায়গায় পেসিং ইস্যু রয়েছে
উপসংহার
সবমিলিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ একটি এক্সপেরিমেন্টাল ও স্টাইলিশ সিনেমা, যেখানে রায়হান রাফির স্বকীয়তা আবারও দেখা যায়।
কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, এই ধরনের নির্মাণ বাংলা সিনেমার জন্য ইতিবাচক।
ভিন্নধর্মী গল্প ও নির্মাণ উপভোগ করতে চাইলে সিনেমাটি অবশ্যই দেখার মতো।
