‘বনলতা এক্সপ্রেস’ (২০২৬) — রিভিউ (স্পয়লার ফ্রি)
সিনেমা: বনলতা এক্সপ্রেস (২০২৬)
জনরা: ড্রামা
রানিং টাইম: ২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট
পরিচালনা: তানিম নূর
অভিনয়: মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন প্রমুখ
IMDB: ৮.৭/১০
পার্সোনাল রেটিং: ⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐ (১০/১০)
[রিভিউতে কোনো স্পয়লার নেই]
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
প্রত্যেক ঈদেই পরিবারকে একটি সিনেমার ট্রিট দেওয়ার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেখলাম ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।
সিনেমা শেষ করে পাশে বসা আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগলো— উনি শুধু বললেন, "এজন্যই মাঝে মাঝে সিনেমা হলে এসে সিনেমা দেখা উচিত।"
আমার নিজের অনুভূতি—একটা সিনেমা এত সুন্দর হয় কীভাবে!
গল্প ও নির্মাণ
সিনেমার প্রথমার্ধ ছিলো দারুণ কমেডিতে ভরপুর, যেখানে পুরো হল হাসিতে মুখর ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সেই সিনেমাই আমাদের আবেগ নিয়ে খেলেছে।
এই ব্যালেন্সটা এত নিখুঁতভাবে করার জন্য তানিম নূর সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, মনে হয়— তিনি নিজে বানালেও এর চেয়ে ভালো করা কঠিন হতো।
অভিনয়
মোশাররফ করিম এই সিনেমায় তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন।
চঞ্চল চৌধুরী বরাবরের মতো দুর্দান্ত হলেও, এই সিনেমায় করিম সাহেবের পারফরম্যান্স আরও এগিয়ে ছিল।
শরীফুল রাজ নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং অন্যান্যদের সাথে সমানতালে অভিনয় করেছেন।
শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর, জাকিয়া বারী মমসহ সবাই ভালো কাজ করেছেন। তবে আজমেরী হক বাঁধন কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন।
সংগীত ও আবহ
সিনেমায় কোনো অপ্রয়োজনীয় আইটেম গান নেই। বরং রয়েছে ক্লাসিক আবহের গান, যা সিনেমার অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে।
বিশেষ দিক
- প্রথমার্ধে হাস্যরস, দ্বিতীয়ার্ধে আবেগ—পারফেক্ট ব্যালেন্স
- শক্তিশালী গল্প ও ন্যারেটিভ
- দারুণ লোকেশন ও সিনেমাটোগ্রাফি
- ক্লাইম্যাক্সে রয়েছে ২টি মজার গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স
গল্প সংক্ষেপ
একজন গণিতের প্রফেসর, একজন শিক্ষামন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী, একজন ডাক্তার-কাম-জাদুকর ও তার মা, একজন মধ্যবিত্ত রগচটা মানুষ ও তার পরিবার, এক সুন্দরী তরুণী এবং আরও কিছু তরুণ-তরুণী— সবাই একসাথে যাত্রা করে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে।
এই যাত্রার মধ্যেই তাদের জীবনের নানা গল্প, আবেগ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটে ওঠে।
উপসংহার
সবমিলিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এই ঈদের সেরা সিনেমাগুলোর একটি।
ব্যক্তিগতভাবে এটি গত ১০ বছরের সেরা ৩টি বাংলা সিনেমার মধ্যেও জায়গা করে নিতে পারে।
একটি অবশ্যই হলে গিয়ে দেখার মতো সিনেমা।
