Prince Movie Review: শাকিব খানের গ্যাংস্টার গল্প কতটা সফল?

শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমার বিস্তারিত রিভিউ। গল্প, অভিনয়, ভিএফএক্স ও টেকনিক্যাল দিক নিয়ে বিশ্লেষণ জানুন।

‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ — রিভিউ (স্পয়লার ফ্রি)

[রিভিউতে কোনো স্পয়লার নেই]

নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস প্রিন্স। তার বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালানসহ একাধিক অভিযোগ। ঢাকার পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তার উত্থান কীভাবে— সেই গল্পই উঠে এসেছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায়।

গল্প ও নির্মাণ

সিনেমাটি দুটি চ্যাপ্টারে বিভক্ত এবং পুরো গল্পই এগিয়েছে নন-লিনিয়ার স্টাইলে। শুরুটা কিছুটা রহস্যময় হলেও প্রিন্সের স্টাইলিশ এন্ট্রির মাধ্যমে সেই রহস্য দ্রুতই কেটে যায়।

প্রথমার্ধে প্রিন্সের উত্থানের গল্প ধীরে ধীরে নির্মাণ করা হয়েছে, যা কিছু ক্ষেত্রে দর্শকের ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। গল্পের গতি ধীর হলেও গ্যাংস্টার উত্থানের পরিচিত ছায়া এখানে লক্ষ্য করা যায়।

সেকেন্ড হাফে প্রিন্সের সাম্রাজ্য পরিচালনার দিকে ফোকাস দেওয়া হয়েছে, তবে চিত্রনাট্য কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়। ক্লাইম্যাক্সে কিছুটা উন্নতি থাকলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না।

অভিনয়

শাকিব খান তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স দিয়ে সিনেমাটিকে অনেকটাই ধরে রেখেছেন। তার স্টাইল ও স্ক্রিন প্রেজেন্স এই সিনেমার বড় শক্তি।

তাসনিয়া ফারিণ তুলনামূলক কম স্ক্রিনটাইম পেয়েছেন, তবে নিজের জায়গায় ঠিকঠাক ছিলেন। জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু পর্দায় মিষ্টি লাগলেও তার চরিত্র আরও গভীরভাবে উপস্থাপন করা যেতো।

সহশিল্পীদের মধ্যে দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ভালো কাজ করেছেন। এছাড়া রাশেদ মামুন অপু, ড. এজাজ, ইন্তেখাব দিনারসহ অন্যান্যরাও সাবলীল ছিলেন।

সংগীত ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর

সিনেমায় মোট পাঁচটি গান রয়েছে। কিছু গান শ্রুতিমধুর হলেও সবগুলো খুব বেশি মনে রাখার মতো নয়। জি. এম. আশরাফের কণ্ঠে একটি গান ভালো লেগেছে।

ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর মোটামুটি মানের, তবে আরও শক্তিশালী হতে পারত।

টেকনিক্যাল দিক

সিনেমাটিতে কিছু স্পষ্ট টেকনিক্যাল দুর্বলতা রয়েছে— যেমন ভিএফএক্স, গ্রীন স্ক্রিন ব্যবহার, সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু উপাদান ইত্যাদি।

বিশেষ করে ভিএফএক্স এবং সিনেমাটোগ্রাফি আরও উন্নত হতে পারত।

উপসংহার

সবমিলিয়ে ‘প্রিন্স’ একটি স্টাইলিশ গ্যাংস্টার গল্প হলেও চিত্রনাট্য ও টেকনিক্যাল দিক থেকে আরও শক্তিশালী হতে পারত।

তবে শাকিব খানের পারফরম্যান্স সিনেমাটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। দর্শকদের কাছে সিনেমাটি কতটা গ্রহণযোগ্য হয়— তা এখন দেখার বিষয়।

‘প্রিন্স’ মুভির সংক্ষিপ্ত রিভিউ 2 (Rating: 4/10)

এক কথায় বলতে গেলে ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ একশন বাদে মোটামুটি বিলো এভারেজ মানের একটি সিনেমা।

রেটিং

Overall Rating: ⭐⭐☆☆☆ (4/10)

রিভিউ সংক্ষেপ

সিনেমাটির একশন অংশ কিছুটা ভালো হলেও ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’, ‘বরবাদ’ এর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

এই সিনেমায় শাকিব খানের মোট ৪টি ভিন্ন লুক দেখা যায়। বিশেষ করে শেষের লুকটি দর্শকদের কিছুটা সন্তুষ্ট করতে পারে। তবে লুক ছাড়া সিনেমাটিতে উল্লেখযোগ্য নতুন কিছু নেই বললেই চলে।

গল্প ও নির্মাণ

গল্পটি ৯০ দশকের ঢাকাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও সে সময়ের আবহ খুব একটা ফুটে ওঠেনি।

গল্পে দেখা যায়—ঢাকার এক সাধারণ ছেলের উত্থান, যে ধীরে ধীরে এক প্রভাবশালী নেতার ডানহাত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সে নিজেই অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে।

তবে পুরো গল্পটি বেশ ধীরগতির এবং অনেক অংশই প্রেডিক্টেবল মনে হতে পারে।

টেকনিক্যাল দিক

  • ভিএফএক্স মান খুবই দুর্বল
  • হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড ফাইটের অভাব
  • কিছু দৃশ্যে বাস্তবতার ঘাটতি

সংগীত

জি. এম. আশরাফের একটি গান তুলনামূলক ভালো লেগেছে, যা অন্য গানগুলোর থেকে আলাদা করে নজর কাড়ে।

''প্রিন্স'' সিনেমার রিভিউ..✍️ এটা শাকিব খানের অফিসিয়াল গ্রুপ,এখানে জয়েন কৃত সবার কর্তব্য দেশে অবস্থান করলে আশেপাশে সিনেমা হল থাকলে 'প্রিন্স' দেখে নেয়া। কেন দেখবেন 'প্রিন্স'? লেখাটা বিস্তৃত পর্যালোচনার তাই অনেক বড় হবে,হাতে সময় থাকলে পড়তে পারেন। আমার বিশ্বাস পড়লে 'প্রিন্স' দেখার আগ্রহ জাগবে।

                       ⚠️ স্পয়লার নেই  ⚠️

 

° সম্প্রতি সময়ের তুফান/'বরবাদ'/'তান্ডব' নাকি 'প্রিন্স' এগিয়ে? উত্তর লেখার শেষদিকে >


➤ কি আছে 'প্রিন্স' এ?

< শাকিব খানের খাদহীন অভিনয় আছে,তিনি পুরোদস্তুর চরিত্রের সঙ্গে মিশেছেন, ক্যারেক্টারের মধ্যে ডুব দিয়েছেন সেই অনুযায়ী খেল দেখিয়েছেন। 

                 < THE SHAKIB KHAN SHOW >

  (টু বি্ নোটেড) 'প্রিন্স' আমাকে কিছুটা হতাশ করেছে টোটাল আউটপুটে,যেমন- সর্বপ্রথম টেকনিক্যাল দিক দিয়ে, গল্পের প্লট কিছু এলোমেলো লাগল, ভিএফএক্সে রি-এডিটিংয়ের পরেও ঘাটতি ছিল,তাড়াহুড়োর চাপ ছিল,গল্পের বিল্ডাপে 'প্রিন্স'কে নিয়ে ভবিষ্যৎ পর্যায়ে ধ্বংসলীলার যে হাকডাক দেখিয়েছে সেরকম কিছু দেখাতে পারেনি,অনেকটা তুফানের সংমিশ্রণে সংমূঢ় লেগেছে, 'তুফান/বরবাদ' এ ডিরেক্টর শাকিবের যে লেভেলের অরা দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন এখানে সেটা মিসিং 😢


        ▪️ সামান্য গল্পের ধারণা ▪️

নব্বই দশকের ঢাকার গল্প,আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকারের উপকথা।গুলশান,বনানী,ফার্মগেট,ঢাকার কাওরানবাজার,মিরপুর,সূত্রাপুর,মোহাম্মদপুর এ জায়গা গুলোতে সন্ত্রাসীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনি। এসব জনপদের ক্ষমতার লাগাম আবার উপরমহলে,সেই প্রভাবশালীদের গল্পকথাই 'প্রিন্স' এর আউটপুট। প্রিন্স বা ইবরাহিম (শাকিব খান) ০ থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের টপে উঠে আসা এক প্রতিবাদী বালক। প্রিন্স'কে হাত টেনে উপরে ওঠানো গডফাদার ও আছে,আবার প্রিন্স'কে শেষ করতেও বাপের ও বাপ আছে। গোস্ত কোঁপানো কসাই থেকে ঢাকার ত্রাস আফগানী পাঠান (দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য)। 'প্রিন্স' এর ভালবাসার রানীগণ,রাজ্য,ক্ষমতা,উত্থান,ত্রাস এবং প্রতিনিয়তই পুলিশকে টুপি পড়িয়ে লুকোচুরি আর সমঝোতার বিস্তৃত আউটপুট 'প্রিন্স'! 


MOVIE > Prince 


Genre > Gangster/Action/Thriller 


Release Date > 21 March, 2026


Director > Abu Hayat


Running Time > 2 Hours 45 Minutes 


Country / Language > Bangla


⚫ খুটিঁনাটি আলোকপাত >


• স্টোরি > 'প্রিন্স' এর গল্প চিরাচরিত বাংলা ফিল্ম ভিত্তিক নাহ,গল্পই এ মুভির প্রাণ! গল্পটা নব্বইয়ের দশকের ঢাকার বেশকিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী জনপদের, 'প্রিন্স' সিনেমার শুরু থেকেই স্ক্রিনে টানটান উত্তেজনার যে ব্যাপারটা সেটা মিসিং ছিল,যা আবার শেষাংশে পুষিয়ে দিয়েছে,দ্বিতীয়াংশেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। প্রথমার্ধে কোনো প্রকার টুইস্ট ছিল না কিংবা কি হবে না হবে তেমন কোনো ব্যাপার ছিল না,সিম্পল ভাবে গল্প এগিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ আবার যথেষ্ট থ্রিলিং মোমেন্ট ক্রিয়েট করেছে,বিশেষ করে শেষ ২০ মিনিট। সত্যের ঘোরের আভায় নির্মিত একটা ভালো এক্সপেরিমেন্ট 'প্রিন্স'। নতুন মৌলিক গল্পের কমার্শিয়াল এমন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনই বটে, সন্ত্রাসীদের জীবনযাত্রা নিয়ে এদেশে আরও কাজ হয়েছে কিন্তু এত বড় বিগ স্কেলে কাজ হয়নি। তবে- এত বড় বড় রাইটার এই সিনেমার সাথে যেহেতু জড়িত ছিল গল্পের দিক থেকে আরও নিদারুণ কিছু করতে পারত।


• সংলাপ > আহামরি উল্লেখ করার মত কোনো সংলাপ নেই,একেবারে এভারেজ লেগেছে। ভালোর মধ্যে যে সংলাপ গুলো গুজবাম্প দেয় সেগুলো শাকিব খানের মুখের। বাকি অন্যদের মধ্যে ড.এজাজ ব্যাতিত অন্য কারো সংলাপ নজর কাড়েনি। 


• অ্যাকশন > বাংলা সিনেমায় এই ধাচেঁর অ্যাকশান আগে দেখা যায়নি,মারকাটারি ছিল🔥 আমি কিন্তু অ্যাকশানের কথা বলছি ভিএফএক্স নাহ,ভিএফএক্স নিয়ে একটু পর লিখছি।'প্রিন্স'এ ক্লিয়ার কাট শট ছিল দেখতে ভালোই লেগেছে, আর রিয়েলস্টিক ছিল ফাইটগুলো। বেশি উপভোগ্য ছিল গোলাগুলির সিন গুলো যেগুলো নব্বই দশকের অলিগলির গোলাগুলির আদলে নির্মাণ করা হইছে, হ্যান্ড টু হ্যান্ড ফাইট ছিল একেবারে কমসময়ের। ফাইট করার সময় শাকিব খানের অঙ্গভঙ্গি নিমিষেই বদলে যেত,এনার্জিটিক পারফর্মেন্স ছিল তার। শাকিবের আলাদা একটা অ্যাটিটিউড ছিল এন্ট্রি আর ফাইট সিনে,অভিব্যাক্তি গুলো মুগ্ধকর লেগেছে অ্যাকশান সিনগুলোতে, এদিক দিয়ে ভালো করেছে 'প্রিন্স'। বিশেষ করে ফাইট সিনগুলোতে 'র' ফ্লেভার ছিল, রক্তের ছিটেফোঁটা সমেত। 


• বিজিএম > গোটা বিশ্বে বর্তমানে সিনেমায় বিজিএমকে ইম্পর্ট্যান্ট উপাদান হিসেবে ধরা হয়,বাংলা সিনেমায় বিজিএমকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। 'প্রিয়তমা' মুভি সহ শাকিবের পরবর্তী সব কাজের বিজিএম ছিল 🔥 'প্রিন্স' এর বিজিএমও ভালো কিন্তু বিজিএম মুভিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেনি আগেরগুলোর মত। তবে- বিজিএমের সঙ্গে শাকিব খানের অভিব্যক্তি গুলো বেশ জমছিল। সমস্যাও ছিল কিছু জায়গায় বিজিএম লাঊড যেটা কানে লাগে আবার কিছু জায়গায় হঠাৎ করে অফ। আগামীতে শাকিব খানের কোনো সিনেমায় 'আরাফাত মহসিন নিধি'কে নেয়া যাবে না,শাকিব ভক্তদের আবদার রইল।


• ভায়োলেন্স > 'তুফান'/'বরবাদ' এ প্রচুর ভায়োলেন্স ছিল কিন্তু 'প্রিন্স' এ ভায়োলেন্স কম।


• গান > 'প্রিন্স' এ অহেতুক কোনো বাড়তি গান নেই।

এখন অব্দি 'পরী'/জ্বালা জ্বালা' শিরোনামের দুটো,গান মুক্তি পেয়েছে,এগুলোর বাহিরেও অসাধারণ ৩ টা গান আছে মুভিতে। একটা টাইটেল ট্র‍্যাক,একটা স্যাড সং (মা কে নিয়ে),একটা ডিস্কো সং! মুক্তি পাওয়া গান গুলো ভালোই,প্রশংসা কুড়িয়েছে,বাকি গুলো ও মুক্তি পেলে আলোড়ন তুলবে।


•  ইমোশান > শাকিব খানের একটি দুঃখের গল্প আছে 'প্রিন্স' এ,গল্পের উপাখ্যান মূলত এটিই। যা 'প্রিন্স' এর মা কে কেন্দ্র করে, সে সিনগুলোতে শাকিব খানের লাউড এক্টিং আর ক্রন্দনকৃত অভিনয় চোখে পানি আনার মতন। 


• কমেডি > বলতে গেলে কোনো কমেডিই ছিল না,শুধু একটি দৃশ্যে শাকিব খান আর মন্ত্রী (ড.এজাজ'র) কর্মকাণ্ড হাস্যরসে মাতিয়েছে। 


• রোমান্স > এটা ভিন্নধর্মী গল্পের হলেও রোমান্স ছিল 'জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু এবং তাসনিয়া ফারিন' উভয়ের সঙ্গেই। রোম্যান্সধর্মী সিক্যুয়েলে জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছে,মিষ্টি লেগেছে খুব মেয়েটাকে।


• ক্যামেরা ওয়ার্কস > 'প্রিন্স' এর টেকনিক্যাল দিক গুলোর সবচেয়ে উচ্চ পর্যীন্ত দিক এটা,ভালো ছিল ক্যামেরার কাজ। নিদারুণ সব শট্ ছিল ক্যামেরার,একদম পাকাঁ হাতের কাজ। শেষ- শাকিবেরই আরেক সিনেমা 'তুফান' এ এমন শট্ দেখছিলাম।


• এডিটিং > তাড়াহুড়োর চাপ স্পষ্ট! আরও ধীরেসুস্থে করলে হয়ত ভালো হতো, ভূলের চাপগুলো দর্শক হিসেবে ধরা যায়। কিছু জায়গায় সিনগুলো সুপার ফাস্ট মুডে দেয়া ছিল,স্লো মোশান্ গুলো আবার ভালো ছিল। কিছু জায়গায় সাউন্ড আপ ডাউন করেছে,এটা নিতান্তই দ্রুততার ফলে। আমি যেহেতু সিঙেল স্ক্রিনে দেখেছি সেহেতু কালার গ্রেডিং নিয়ে আলোচনায় যাচ্ছিনা, এসব পর্দায় কালার গ্রেডিং ধরা যায় না। মোবাইলে যখন দেখেছি গানগুলো তখন আবার গ্রেডিং সুন্দর লেগেছে। সিনেমাটোগ্রাফি মোটামুটি চলনসই, লোকেশন গুলো আবার দেখার মত ছিল,শুনেছি ডিরেক্টর লোকেশন খুঁজতে গিয়েই আগে অনেক সময় খেয়ে ফেলেছে। এছাড়াও ভিজুয়ালস খুব যত্ন করে করা,কিছু কিছু শটে চোখ আটকে যায়৷ প্রোডাকশন ডিজাইন,ফ্রেম রেট,নজারা স্কেল- উচ্চ পর্যায়ের করতে চেয়েছিল কিন্তু হয়ে উঠে নি সম্ভবত কম সময় বা শেষদিকের বাজেট জটিলতায় 😔 'বরবাদ' আবার এদিক থেকে যোজন এগিয়ে থাকবে।


⚫ অভিনয় পর্যালোচনা > 


• শাকিব খান > 'প্রিন্স'' এ দ্যা ওয়ান ম্যান আর্মি হচ্ছে শাকিব খান,তবুও চাইলে আরও উত্তাপ ছড়ানো যেত এই ক্যারেক্টর ঘিরে। 'প্রিন্স' এ শাকিবের চোখের অভিনয় অনেক সুন্দর,সংলাপ বলার সময় মাঝেমধ্যে চোখের রেখাদি ডানবাম করেছেন,কখনো চোখে মনি উল্টে ফেলেছেন। অনেকদিন পর সেই পুরোনো শাকিবের অন্য লেভেলের এনার্জি দেখা গেছে,মুভি জুড়ে তার আলাদা-অঙ্গভঙ্গি গুলো ছিল দেখার মতন। সিনেমা ভালো খারাপের হিসেবের বাহিরে হেটার্সরাও 'প্রিন্স' দেখার পরে বলতে বাধ্য হবে শাকিব ইজ্ আউটস্ট্যান্ডিং👌🏻বিশেষ করে শেষ ফাইট সিকুয়েন্স টা যেখানে তাকে তামিল ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়, শাকিব খানের স্ক্রিন কমান্ড ভক্তকূলের বাইরে ম্যাস অডিয়েন্সকেও এগনেজ্ করবে। ইবরাহীম থেকে প্রিন্স হয়ে ওঠার যে ট্রানজিশন,সেখানে ছোটখাটো এক্সপ্রেশনগুলোও খুব সূক্ষভাবে দেখিয়েছেন মেগাস্টার । এই মানুষটা দিনকে দিন নিজেকে উচ্চতর থেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, ওনাকে পর্দায় দেখলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়-পাগল হয়ে যাই 🥰 


• ফারিন/জ্যোতির্ময়ী > শাকিবের সাথে জ্যোতির্ময়ী'র মিষ্টি কেমিস্ট্রি উপভোগ্য ছিল,কুতু কুতু প্রেম পিরিতি ছিল না যে দেখলে রাগ উঠবে। এই স্ক্রিনে বেশ অনেকক্ষণই ছিলেন, বেশ পাকাপোক্ত ভাবে নিজের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে স্ক্রিনে ফারিন'কেই দেখা গেল কম সময়ের জন্য,যতটুকু দেখা গিয়েছে তাও ম্লান হয়ে গেছে,মানে বিশেষ কিছু যে ওরে নিয়ে লিখব ওই স্কোপই নাই ওর মুভিতে।


• দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য> আমরা আসলে যেরকম ভাবার্থক ব্রেইনে গেথেঁ নিয়ে সিনেমা হলে যাই সেরকম সবসময় হয়ে ওঠে না! ভেবেছিলাম ওনি 'প্রিন্স' এ টপনচ্ থাকবেন,শাকিবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করবেন কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি,এর জন্য সম্পূর্ণ দ্বায়ভার নিতে হবে পরিচালকের তার ব্যার্থতা! এত ভালো একজন অভিনেতাকে কিছু জায়গায় একদম স্লো রেখেছেন,আর হিন্দি বাংলার সংমিশ্রণে ওনার ডায়ালগ গুলো বেখাপ্পা লাগে। 


• প্বার্শ অভিনেতাগণ> পার্শ্ব অভিনেতাদের মধ্যে 'লোকনাথ দে' সবচেয়ে ভালো অভিনয় করেছেন,শাকিবের পরেই আসবে ওনার নাম। মূল ভিলেনের চেয়েও ভালো করেছেন এবং ওনি অঢেল সময় পেয়েছেন স্ক্রিন প্রেজেন্সে৷ 

আরও অনেক অভিনেতা ছিল, কাস্টিং তো অনেক বড় 'প্রিন্স'র সবাইকে নিয়ে লেখা সম্ভব না৷ তবে-লোকনাথ দে'র স্ত্রীর চরিত্রে থাকা কলকাতার অভিনেত্রী 'পিয়ান সরকার' 🔥 'প্রিন্স', এ প্রধান ক্যারেক্টারে থাকা প্রত্যেকে দারুণ অভিনয় করলেও বাকি ছোট্ট চরিত্রে থাকা কয়েকজন ওভার এক্টিং করে ফেলেছেন,তবে-সেটা হাতেগোনা,ভালো করেছেন এমন সংখ্যাই বেশি আবার দু'একজন ঠিকমতোন সংলাপই বলতে পারেন নি।


•• নেগেটিভ ↓

সর্বপ্রথমেই থাকবে প্রচার-প্রচারণার ব্যাপারটা, প্রমোশনের দিক থেকে শাকিবের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে চষ্ট্র এটা! সিনেমা মুক্তির এক সপ্তাহ আগে টিজার,দুই দিন আগে গান,ঈদের দিন এক ঝলক,অফিসিয়াল পোস্টার অব্দি সময় মতো দিতে এরা ব্যার্থ হয়েছে। তাছাড়া টিজার মুক্তির পরে দেশজুড়ে ভিএফএক্স নিয়ে যে নেগেটিভ তোলপাড় হলো সেসব সবারই জানা৷ (সিনেমায় এগুলো সব কারেকশন করা হয়েছে)। 'প্রিন্স' সিনেমার নেগেটিভ দিক গুলো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক, সিনেমাতে তেমন ভূল নেই, এত অল্প সময়ে যতটুকু সমাধান করেছে অনেক ভালোই করেছে বলা যায়৷ অনেকের কাছে মনে হবে গল্প অসম্পূর্ণ বা মুভি কমপ্লিট হয়নি, দ্বিতীয় পার্ট আসবে তাই এভাবে শেষ করেছে পরিচালক। তবে- আরও ভালোভাবে ফিনিশিং আশা করেছিলাম, আমাদের দেশের অডিয়েন্স এভাবে মুভি শেষ করতে অভ্যস্ত নয়,আর এভাবে করাও উচিত না। তাছাড়া অতীতের 'তুফান'/'বরবাদ' এ গল্পে শাকিব খানের চরিত্রটিকে শুরুর থেকে সময় নিয়ে বিল্ডাপ করেনি কিন্তু 'প্রিন্স' এ যথেষ্ট সময় নিয়ে ক্যারেক্টার বিল্ডাপ দিয়েছে,যেকারণে অনেকের কাছে স্লো মনে হয়েছে সিনেমা। দ্বিতীয় পার্টে তাড়াহুড়োর চাপ রয়েছে, একদম শেষদিকে হাতে খুবই কম সময় ছিল এর জন্য দেখলাম গতকাল প্রযোজক দুঃখ ও জানিয়েছেন। আরেকটি হচ্ছে গান শটে্র লাইটিং যেখানে শ্যুট হয় সেটাই হয় লাইটিং স্পট আর পুরো স্ক্রিন লাইট হয়ে গোলাগুলিতে ক্যামেরার শেকি্ ইফেক্ট পড়ে,'প্রিন্স' এ ইফেক্টগুলো গাঢ প্রত্যয়ের। 'প্রিন্স' এ বড়সড় ভূলই ছিল ভিএফএক্সের দিকটা,আবারও বলছি অনেক জায়গায় কারেকশন হয়েছে,কম সময়ে যতটুকু পেরেছে।


••• সর্বশেষ কথা- তুফান/বরবাদ/তান্ডব সহ সিনেমা গুলোর সঙ্গে তুলনায় গেলে 'প্রিন্স' খানেক পিছিয়ে থাকবে কিন্তু 'প্রিন্স'র জায়গা থেকে দেখলে 'প্রিন্স' সেরার সেরা, লার্জার দ্যান লাইফ স্কেলের, বিগ অ্যারেঞ্জম্যান্ট, বিগ বাজেট, সবমিলিয়ে এই ভগ্নদশা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা এক্সপেরিমেন্ট এবং মাইলফলক 'প্রিন্স'। অনায়াসে পয়সা উসুল সিনেমা কিন্তু আপনি কিভাবে নেবেন সেটা আপনার রুচি! জোরগলায় বলতে পারি- 'প্রিন্স' ভালো সিনেমা, হয়ত লাগাতার (তুফান/বরবাদ/তান্ডব) এসব দেখে ত্যাক্ত হলে 'প্রিন্স' ও বিরক্তি ধরাবে,কারণ- জনরা সেইমই কিন্তু নতুন অনেক কিছুর তর্জমা ছিল। তবে- শাকিব খানের ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সিনেমা 'প্রিন্স' নয়, পরিচালক হায়াত'র ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সিনেমা হতে পারে। 'তুফান/'বরবাদ'/'তান্ডব' সবগুলোকে একইসুত্রে গাথাঁর কারণ- ওনার বর্তমান লাইনআপ টা প্রশংসনীয়! নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, 'প্রিন্স' এ ও শাকিব খান নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে গেছে কোনো সন্দেহ নেই।

``` শাকিব খানের ভক্ত হিসেবে ওনার কাছে আমার চাওয়া, দয়া করে এসব জনরা আপাতত বাদ দিয়ে ভিন্ন কিছু করুন! এই টাইপের সিনেমা আর ভালো লাগে না, আপনি হয়ত সর্বোচ্চ অভিনয় দিয়ে পুরোদস্তুর পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু টোটাল আউটপুট টা আপনার প্রযোজক আর ডিরেক্টর আনতে পারেনি, দিনশেষে কিন্তু বদনাম টা আপনারই হবে। 'আবু হায়াত মাহমুদ খান'র উদ্দেশ্য বলব- কাজটা তুমি ঠিক করোনাই, শাকিব খানকে আকাশচুম্বী স্বপ্ন আর মহাত্মা গল্প শুনিয়ে শেষ অব্দি হ য ব র ল বানিয়েছো, আমি সিউর শাকিব তোমাকে আগামীতে 'প্রিন্স' ২ বানানোর জন্য সিডিউল দিবেনা। প্রতিটি পদে পদে তুমি ভুগি চুগি করেছো, শাকিব খান এবং তার ভক্তদের সাথে।


👤 Personal Rating > 7.8 / 10


উপসংহার

সবমিলিয়ে বলা যায়, শাকিব খানের অভিনয় ছাড়া সিনেমাটিতে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নেই।

যারা বেশি প্রত্যাশা নিয়ে সিনেমাটি দেখতে যাবেন, তারা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।

About the author

Daud
Hey! I'm Daud, Currently Working in IT Company BD. I always like to learn something new and teach others.

Post a Comment

To avoid SPAM, all comments will be moderated before being displayed.
Don't share any personal or sensitive information.