পহেলা বৈশাখে ঢাকায় কোথায় কোথায় বসছে বৈশাখী মেলা ২০২৬
পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। নারীদের লাল-সাদা শাড়ি, পুরুষদের পাঞ্জাবি, মেলায় ঘোরাঘুরি, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা আর পুতুল নাচ—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আনন্দঘন পরিবেশ। শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় গিয়ে খেলনা কেনা, হাওয়াই মিঠাই খাওয়া কিংবা হাতি-ঘোড়া আকৃতির বাতাসা কেনার স্মৃতি এখনও অনেকের মনে জীবন্ত।
তবে সময় বদলেছে। শহরের ব্যস্ততায় সেই গ্রামীণ মেলার আবহ অনেকটাই হারিয়ে গেলেও পহেলা বৈশাখের আনন্দ থেমে নেই। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এখনো জমে ওঠে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানা আয়োজন। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে দিনটি উপভোগ করতে চাইলে জেনে নিন রাজধানীর সেরা বৈশাখী আয়োজনগুলো।
বিসিক বৈশাখী মেলা
স্থান: বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’ আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর সহযোগিতায় এই মেলায় দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের বিশাল সংগ্রহ পাওয়া যাবে।
নকশিকাঁথা, মাটির পণ্য, বাঁশ-বেতের কাজ এবং গৃহসজ্জার সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য এখানে পাওয়া যাবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এসএমই বৈশাখী মেলা
স্থান: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, আগারগাঁও
এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১২ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই মেলায় রয়েছে ৩০০টিরও বেশি স্টল। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য, খাবার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলাটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
এছাড়া নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, টিয়া পাখির খেলা ও বানর খেলার মতো বিনোদনও রয়েছে। প্রবেশমূল্য মাত্র ৩০ টাকা, যা পরিবারসহ ঘুরতে যাওয়ার জন্য বেশ উপযোগী।
লাল বৈশাখী
স্থান: কামাল আতাতুর্ক পার্ক, বনানী
১৩ ও ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘লাল বৈশাখী’ আয়োজনটি তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এখানে নাগরদোলা, ফটোবুথ, বালিশ খেলা এবং মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো মজার কার্যক্রম রয়েছে।
এছাড়া কনসার্টে পারফর্ম করবেন হাবিব ওয়াহিদ, রেনেসাঁ, লেভেল ফাইভ ও নেমেসিস ব্যান্ড। প্রতিদিন ৩০০ টাকা টিকিটে প্রবেশ করা যাবে।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল বৈশাখী আয়োজন
স্থান: ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা
১৪ এপ্রিল এই হোটেলের উইন্টার গার্ডেন ও গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ বৈশাখী অনুষ্ঠান। এখানে নাচ, গান, নাগরদোলা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার থাকবে।
প্রিমিয়াম এই আয়োজনে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০০ টাকা, যা একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন এমনদের জন্য উপযুক্ত।
দ্য রিভার এজ বৈশাখী মেলা
স্থান: মিরপুর
১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই আয়োজন পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটি জায়গা। এখানে খাবার, ছোটখাটো মেলা এবং বিনোদনের সুযোগ রয়েছে।
এয়ার ফোর্স বৈশাখী মেলা
স্থান: আগারগাঁও এয়ার ফোর্স বেইজক্যাম্প
১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। এখানে বায়োস্কোপ, মেহেদি উৎসব, ফেস পেইন্টিং, ক্যারিকেচার এবং বাউল গানের আয়োজন রয়েছে।
লাটিম, মার্বেল, দাঁড়িয়াবান্ধা, রণপা এবং লুডুর মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাও উপভোগ করা যাবে।
উৎসবে বৈশাখ
স্থান: শেফস টেবিল কোর্টসাইড, ভাটারা
১৪ এপ্রিল এখানে আলপনা, পাপেট শো, নাগরদোলা এবং বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি বিকেলে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ প্রবেশমূল্য ২০০ টাকা এবং কনসার্টের জন্য ৮০০ টাকা।
অর্ক বৈশাখ ১৪৩৩
স্থান: আলোকি, গুলশান
১৩ ও ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাবার এবং বিনোদনের সমন্বয় থাকবে, যা শহুরে জীবনে বৈশাখের আমেজ এনে দেবে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মেলা
পহেলা বৈশাখ মানেই পুরান ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বসা ঐতিহ্যবাহী মেলা। এখানে পাওয়া যায় দেশি খাবার, মাটির পণ্য, খেলনা এবং পুরান ঢাকার নিজস্ব বৈশাখী পরিবেশ।
যারা আসল বৈশাখের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
Related Posts
উপসংহার
সব মিলিয়ে বলা যায়, পহেলা বৈশাখে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে নানা আয়োজন। গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্য থেকে শুরু করে আধুনিক কনসার্ট—সবকিছুই পাওয়া যাবে এই শহরে।
তাই পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি আয়োজন বেছে নিতে পারেন। নতুন বছরের শুরুটা হোক আনন্দে, রঙে আর উৎসবে ভরপুর।